অস্ত্রোপচার ছাড়াই পাকস্থলী থেকে চুল বাঁধার ক্লিপ বের করলেন আরজি করের চিকিৎসকরা
চুল বাঁধার ক্লিপ গিলে ফেলেছিলেন 13 বছরের নাবালিকা৷ এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে সেই ক্লিপ বের করেছেন চিকিৎসকরা৷

Published : December 12, 2025 at 5:37 PM IST
কলকাতা, 12 ডিসেম্বর: অসাধ্য সাধন! আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকদের এই ‘কীর্তি’র কথা শুনলে প্রথমে এই দু’টি শব্দ মনে আসতে বাধ্য৷ কারণ, বছর তেরোর এক কিশোরীর পেট থেকে চুল বাঁধার ক্লিপ সফলভাবে বের করতে সক্ষম হয়েছেন এই চিকিৎসকরা৷ তাও আবার অস্ত্রোপচার ছাড়াই৷ স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা হইচই ফেলেছে চিকিৎসক মহলে৷
ঘটনাটি ঠিক কী?
দিনকয়েক আগে 13 বছর বয়সী ওই কিশোরীর পেটে যন্ত্রণা শুরু হয়৷ পরিবারের তরফে তাকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে৷ সেখানেই প্রাথমিক চিকিৎসা হয়৷ তার পরও কমেনি পেটের যন্ত্রণার৷ ওই কিশোরীর বাড়ি কলকাতার বেলগাছিয়া অঞ্চলে৷ সেখান থেকে সবচেয়ে কাছের বড় হাসপাতাল হল আরজি কর৷ তাই পরিবারের তরফে তাঁকে নিয়ে আসা হয় আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে৷
হাসপাতাল সূত্রে খবর, পেটে যন্ত্রণা হওয়ার কারণ জানতে প্রথমে এক্স-রে ও এন্ডোস্কোপি করানো হয়৷ সেখানে দেখা যায় যে মেয়েটির পাকস্থলীতে আটকে রয়েছে একটি ক্লিপ৷ যা সাধারণত চুল বাঁধার জন্য ব্যবহার করা হয়৷ ওই ক্লিপের মাথার দিতে একটি ছোট্ট বলের মতো পুঁতি ছিল৷ ক্লিপটি পাকস্থলী ভেদ করে কিছুটা অগ্নাশয়েও ঢুকে পড়েছিল৷ তার জেরেই পেটে অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছিল৷
কীভাবে বের করা হল ক্লিপ?
প্রায় পাঁচ সেন্টিমিটার লম্বা ক্লিপটি বের করতে প্রথমে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা৷ পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়৷ কারণ, অস্ত্রোপচার করলে রক্তপাতের আশঙ্কা বাড়তে পারত৷ সেক্ষেত্রে ওই নাবালিকার প্রাণের ঝুঁকি হতে পারত৷ তাই অস্ত্রোপচার বাদ দিয়ে অত্যাধুনিক এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতিতে ক্লিপটি বের করে আনার পরিকল্পনা করা হয়।
এর জন্য গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সুজয় রায়ের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞদের একটি দল গঠন করা হয়। মুখের পথ দিয়ে ক্যামেরাযুক্ত যন্ত্র পেটে প্রবেশ করিয়ে সাবধানে ক্লিপটি ধরা হয় এবং সফলভাবে বের করে আনা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, এমন ক্ষেত্রে সামান্য ভুলও প্রাণঘাতী হতে পারে। পুরো প্রক্রিয়া হতে সময় লাগে প্রায় 10 থেকে 15 মিনিট। কারণ, বিশেষ করে ক্লিপটি যদি একটু নড়ে যেত, তা হলে পাকস্থলী বা অগ্নাশয়ে মারাত্মক রক্তপাতের আশঙ্কা ছিল। অস্ত্রোপচারের পর নাবালিকাকে দু’দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। বর্তমানে শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাকে বাড়ি পাঠানো হয়েছে৷ তবে কিছুদিন ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে এবং নিয়মিত ফলো-আপ করতে হবে।
চিকিৎসকের বক্তব্য
চিকিৎসক অধ্যাপক সুজয় রায় বলেন, “এটি অত্যন্ত জটিল একটি কেস ছিল। অপারেশন না-করে এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে ক্লিপটি বের করা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আধুনিক প্রযুক্তি এবং সমন্বিত টিম ওয়ার্কের ফলেই আমরা সফল হয়েছি।" এছাড়া তিনি অভিভাবকদের সতর্ক করে বলেন, “বাচ্চারা যেন কোনও ছোট জিনিস নিয়ে খেলতে খেলতে মুখে না-দেয়। এমন কিছু শ্বাসনালীতেও ঢুকে গেলে কয়েক মিনিটেই প্রাণঘাতী বিপদ হতে পারে।”

