মতুয়া অধ্যুষিত গ্রামে অধিকাংশের নাম নেই ভোটার তালিকায়, আতঙ্কিত বাসিন্দারা
পূর্ব বর্ধমানের জুটিহাটি গ্রামের ঘটনা৷ এই নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে তৃণমূল৷

Published : November 11, 2025 at 2:43 PM IST
জামালপুর (পূর্ব বর্ধমান), 11 নভেম্বর: কয়েক বছর আগে গ্রামের একটা বড় অংশের মানুষের আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ায় বেশ হইচই শুরু হয়েছিল। পরে সবকিছু ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছিল। ফের এসআইআর শুরু হওয়ায় গ্রাম জুড়ে দেখা দিয়েছে নতুন করে আতঙ্ক।
কী কারণে এই আতঙ্ক?
পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরের ঝাপানডাঙা স্টেশন সংলগ্ন জুটিহাটি গ্রাম। গ্রামটিতে মূলত বাংলাদেশ থেকে আসা মতুয়া সম্প্রদায়ের বসবাস। গ্রামবাসীদের দাবি, অনেকেই শৈশবে তাঁদের বাবা-মায়েদের হাত ধরে বাংলাদেশ থেকে এই দেশে চলে এসেছিলেন। তারপর কাজের সূত্রে তামিলনাড়ু, চেন্নাই কিংবা গুজরাতে গিয়ে কাজকর্মও করেছেন। এদেশে তাঁদের ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে, হয়েছে রেশন কার্ড থেকে আধার কার্ডও। গত পঞ্চায়েত লোকসভা নির্বাচন কিংবা বিধানসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন।

কিন্তু হঠাৎ লোকসভা নির্বাচনের সময় অনেকের নাম বাদ গিয়েছে। ফলে এখন এসআইআর করার সময় তারা অনেকেই দেখছেন তালিকায় নাম নেই। লোকসভা ভোট দিতে না-পারার জন্য আক্ষেপ ছিল৷ কিন্তু আতঙ্ক গ্রাস করেনি। কিন্তু এখন তালিকায় নাম না-থাকায় তাঁরা আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছেন। অনেকে আবার বৃদ্ধ কিংবা বৃদ্ধা হয়ে গিয়েছেন। ফলে এই অবস্থায় তাঁদের কী করণীয়, সেটা বুঝে উঠতে পারছেন না।
গ্রামবাসী মাধব সরকার বলেন, ‘‘আমি সেই ছেলেবেলায় বাংলাদেশ থেকে এই দেশে এসেছিলাম। পরে কাজের জন্য 2002 সালে তামিলনাড়ুতে থাকতাম। আমরা সংসার চালানোর জন্য সারাজীবন ভিনরাজ্যে কাজ করে গিয়েছি। অভাবের সংসার। পরে এখানে এসে থাকতে শুরু করি। পরে এখানে ভোটার কার্ড হয়। এখানে এসে ভোট দিয়েছি। পঞ্চায়েতে, বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছি। শুধু গত লোকসভা নির্বাচনে দেখি ভোটার তালিকায় নাম নেই। মাঝে অনেক গ্রামবাসীর আধার কার্ড বাতিল হয়েছিল। আমার কিন্তু আধার কার্ড ছিল। এখন ভোটার তালিকায় নাম নেই। ফলে আতঙ্ক বাড়ছে।’’

গ্রামের আরেক বাসিন্দা ধীরেন হাওলাদার বলেন, ‘‘আমরা আতঙ্কে আছি। অনেকের ভোটার তালিকায় নাম নেই। আবার অনেকের আধার কার্ড নেই। আমি কাঠের কাজ করি। এদিকে হাতে কাজকর্ম নেই। ফলে আতঙ্ক তো থাকবেই। 2002 ভোটার তালিকায় আমার পরিবারের অনেকের নাম আছে। কিন্তু আমার নাম নেই। কী হবে জানি না। ফলে ভয় তো লাগবেই।’’
গ্রামবাসী নমিতা বিশ্বাস বলেন, ‘‘আমার স্বামী যোগেন বিশ্বাস ও আমার নাম ভোটার তালিকা থেকে কাটা গিয়েছে। কিন্তু আমার পঞ্চায়েত ও বিধানসভা নির্বাচনের সময় তালিকায় নাম ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই দেখলাম তালিকা থেকে নাম বাদ। এখন কী হবে আমাদের, জানা নেই।’’ আরেক গ্রামবাসী সুষমা হাওলাদার বলেন, ‘‘রেশন কার্ড আছে, আধার কার্ড আছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছি। আগে ভোটও দিতাম। কিন্তু আগের লোকসভা ভোটের সময় থেকে দেখছি তালিকায় নাম নেই। ফলে ভোট দিতে পারিনি। আগে কিছু বুঝতে পারিনি। কিন্তু এখন এসআইআর শুরু হয়েছে। যেভাবে নাম বাদ যাচ্ছে, কী হবে আমাদের জানা নেই।’’

জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কারও নাম যদি তালিকায় না-থাকে তাহলেও ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বেশ কিছু প্রক্রিয়া আছে, যেগুলো করতে পারলেই নাম তালিকায় উঠে যাবে। ঠিকানার প্রমাণপত্র দেখানো-সহ যা যা নথি আছে, সেগুলি জমা দেওয়া যাবে৷ এই কাজ অনলাইনেও করা যেতে পারে। আবার বিএলও-র সঙ্গে কথা বলেও, তাঁরা এই কাজ করতে পারবেন।
তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, ‘‘বিজেপি যে সাধারণ মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে, সেটা তো মানুষ বুঝতে পারছে। এর যোগ্য জবাব তারা নির্বাচনে পাবে।’’ বিজেপি নেতা দেবজিৎ সরকার বলেন, ‘‘নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই এসআইআর-এর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যাঁদের কাছে সঠিকভাবে কাগজপত্র সব আছে, তাদের তো চিন্তার কিছু নেই। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।’’

