তিস্তার গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি, বাঁধ মেরামতের আর্জি মরিচবাড়ির
বিজেপি প্রভাবিত এলাকা হওয়ায় তৃণমূল উন্নয়ন করেনি বলে অভিযোগ৷ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বাঁধ মেরামতির আর্জি স্থানীয়দের৷

Published : May 30, 2026 at 8:55 PM IST
জলপাইগুড়ি, 30 মে: রোজই তিস্তার গ্রাসে চলে যাচ্ছে বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি৷ জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি ব্লকের বার্নিস গ্রাম পঞ্চায়েতের মরিচবাড়ি গ্রামের ঘটনা৷ কৃষিজমি তিস্তার গর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এলাকার প্রায় দু’হাজার কৃষক৷
তাঁদের দাবি, ভাঙন ঠেকাতে আগে তিস্তার পাড়ে প্রোটেকশন বাঁধ দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু 2025 সালের বন্যায় ওই বাঁধ ভাঙতে শুরু করে৷ তার পর থেকে সময় যত এগিয়েছে, ভাঙনের পরিমাণ তত বেড়েছে৷ এই পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পেতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোনও লাভ হয়নি৷ তাই ওই প্রোটেকশন বাঁধ দ্রুত মেরামতের দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকার কৃষকরা৷
স্থানীয়দের অভিযোগ, বার্নিস গ্রাম পঞ্চায়েতের তিনটি বুথে বিজেপি 2023 সালে জয়ী হয়৷ তার পর থেকেই ওই এলাকায় বঞ্চনার পরিমাণ বাড়তে থাকে৷ তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা এই এলাকায় কোনও উন্নয়ন করেনি৷ বাঁধ মেরামতিতেও কোনও আগ্রহ দেখাইনি৷ তাই বর্তমান বিজেপির সরকারের কাছে তারা বাঁধ মেরামত করে দেওয়ার আর্জি জানাচ্ছেন৷
স্থানীয়দের বক্তব্য, ইতিমধ্যে কয়েকশো বিঘা জমি নদী গর্ভে চলে গিয়েছে। বর্ষা দোরগোড়ায়৷ নদী ভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে। প্রতিদিন বিঘার পর বিঘা জমি নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে৷ জমি চলে গেলে পথে বসতে হবে সকলকে, সেই কারণেই দ্রুত বাঁধ মেরামতি প্রয়োজন৷ তাছাড়া এই মরিচবাড়ি গ্রামের কৃষকদের ফসল এই রাজ্য-সহ ভিন রাজ্যেও পাড়ি দেয়। কারণ, এই এলাকার ফসলের গুণগত মানও অনেক ভালো।

স্থানীয় কৃষক সুনীল সরকার বলেন, ‘‘চারটে গ্রামের মানুষ চাষের ওপর নির্ভরশীল। এখানে আমরা ক্যাপসিকাম, পটল, লঙ্কা চাষ করি। বিগত কয়েক বছর ধরে তিস্তার গ্রাসে আমাদের জমি চলে যাচ্ছে। এই জমি যদি না বাঁচে তাহলে কিছুই করতে পারবে না। 13 বিঘা জমিতে আমি লঙ্কা চাষ করেছিলাম। আমার সব শেষ। কয়েক কাঠা জমি বেঁচে আছে। কী করব বুঝতে পারছি না। এক বছর ধরে অনেক চেষ্টা করেও সমস্যার সমাধান হয়নি। নতুন সরকারের কাছে অনেক আশা।’’
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য় স্বপন সরকার বলেন, ‘‘বিগত সরকারের সময়ে আমরা বিজেপির পঞ্চায়েত বলে কোনও উন্নয়ন হয়নি। আমি বারবার জানিয়েছিলাম৷ কোনও প্রতিকার হয়নি। যদি উদ্যোগ নিত, তাহলে কৃষকের জমি নদীতে চলে যেত না।’’

স্থানীয় বাসিন্দা গোপাল রায় বলেন, ‘‘2025 সাল থেকে তিস্তা নদী ভাঙতে ভাঙতে আমাদের জমি চলে যাচ্ছে। বাঁশ দিয়ে বাঁধ রক্ষার উদ্যোগ নিলেই কাজটা পুরো করা হয়নি। ময়নাগুড়ি ব্লকের মরিচবাড়ির তিস্তার গর্ভে আবাদি জমি চলে যাচ্ছে।মানবিক মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। জরুরি ভিত্তিতে বাঁধের কাজ করলে ভালো হয়। প্রোটেকশান বাঁধটি রক্ষা করলে ভালো হয়। আগামিদিনে বাঁধ নির্মাণ হোক। যে জমিগুলো দেখা যাচ্ছে সব চলে যাচ্ছে।’’
স্থানীয় কৃষক ভোলা মল্লিক বলেন, ‘‘গত বছর থেকে ভাঙনের সমস্যা আছেই। কিন্তু এবার ভাঙনটা বাড়ছে। আমাদের এলাকায় যেহেতু বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য, তাই আমাদের এই এলাকার উন্নয়ন হয়নি। এই এলাকার সবজি সবচেয়ে ভালো। জলপাইগুড়িতে এই এলাকা থেকেই সবজি যায়। অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। দেখা যাক সরকার কী করেন। এখন তো সরকার পরিবর্তন হয়েছে। আমরা আশায় আছি।’’

এদিকে উত্তর-পূর্ব সেচ বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়র কৃষ্ণেন্দু ভৌমিক বলেন, ‘‘আমরা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’’

