মেসিবরণে বিশৃঙ্খলায় ক্ষতিগ্রস্ত যুবভারতী, জানুয়ারিতেই সংস্কার; দায়িত্বে পূর্ত দফতর
13 ডিসেম্বর সল্টলেক স্টেডিয়ামে মেসিকে দেখতে না-পেয়ে দর্শকদের ভাঙচুর ৷ নতুন বছরের শুরুতেই ক্ষতিগ্রস্ত যুবভারতীর সংস্কার ৷

Published : December 30, 2025 at 8:16 PM IST
কলকাতা, 30 ডিসেম্বর: বিশ্বকাপজয়ী তারকা লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলার সাক্ষী ছিল তিলোত্তমা। গত 13 ডিসেম্বর সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সেই ঘটনার জেরে স্টেডিয়ামের পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। ঘটনার দু'সপ্তাহের মধ্যেই সেই ক্ষত মেরামতের উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার ৷
নবান্ন ও পূর্ত দফতর সূত্রে খবর, পুলিশ ও প্রশাসনের প্রয়োজনীয় অনুমতি মেলার পর, নতুন বছরে জানুয়ারি মাসেই স্টেডিয়াম সংস্কারের কাজ শুরু হতে চলেছে । মেসিকে ঘিরে উন্মাদনা এবং পরবর্তী সময়ে ভাঙচুরের ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। গুরুত্ব বুঝে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন। তারও আগে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ক্ষমাও চান রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান ৷ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এবং স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে নিয়ে গঠন করা হয় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি । পাশাপাশি, স্টেডিয়ামের ঠিক কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয় পূর্ত দফতরকে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, যেহেতু উচ্চপর্যায়ের কমিটি ঘটনার তদন্ত করছিল, তাই প্রথা অনুযায়ী তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না-হওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলে কোনওরকম পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের কাজ শুরু করা সম্ভব ছিল না। সম্প্রতি সেই তদন্ত কমিটির কাজ শেষ হয়েছে ৷ পুলিশের তরফেও সংস্কার কাজ শুরুর সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে । এরপরই আর দেরি না-করে সংস্কারে নামছে পূর্ত দফতর ৷ পূর্ত দফতরের মূল্যায়নে উঠে এসেছে ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র ।
মেসিকে দেখতে না-পেয়ে উত্তেজিত দর্শকরা গ্যালারির বহু বাকেট চেয়ার ভেঙে ফেলেন। আক্রোশ থেকে বাদ পড়েনি স্টেডিয়ামের লোহার গ্রিলও, বেশ কিছু জায়গায় তা উপড়ে ফেলা হয়েছে । এমনকী খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে যাওয়ার রাস্তার উপরের অংশ বা টানেলের ছাদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। এখানেই শেষ নয়, বিশৃঙ্খল জনতার একাংশ স্টেডিয়ামের ফুলের টব থেকে শুরু করে মাঠে পাতার দামি ম্যাট পর্যন্ত সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন । সব মিলিয়ে স্টেডিয়ামের অনেক কিছুই নতুন করে গড়ে দিতে হবে।
পূর্ত দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, "জানুয়ারি মাসেই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনকে তার আগের গরিমা ও অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হবে। যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি নজরে এসেছে, তাতে মেরামতির কাজে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে বাংলার ক্রীড়াজগতে যুবভারতীর গুরুত্ব অপরিসীম। তাই দফতর চেষ্টা করবে যাতে দ্রুত আন্তর্জাতিক মানের এই স্টেডিয়ামকে আবার খেলার উপযুক্ত করে ক্রীড়া দফতরের হাতে তুলে দেওয়া যায়।"
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন প্রশাসনিকভাবে ক্রীড়া দফতরের অধীনে থাকলেও, এর পরিকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের দায়িত্ব বরাবরই পূর্ত দফতরের হাতে থাকে । বর্তমানে রাজ্যের ক্রীড়া দফতরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই এবারের সংস্কার কার্যে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে । পূর্ত দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, যাবতীয় কাজ মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানেই হবে। যতদিন না তিনি কাজের মানে সন্তুষ্ট হচ্ছেন, ততদিন সংস্কার প্রক্রিয়া চলবে । কবে নাগাদ এই কাজ শেষ হবে, তা নিয়ে এখনই নির্দিষ্ট কোনও দিনক্ষণ জানাতে চায়নি পূর্ত দফতর। তবে নববর্ষের শুরুতেই যে ‘কলকাতার গর্ব’ সল্টলেক স্টেডিয়াম তার পুরনো ছন্দে ফেরার প্রস্তুতি শুরু করে দিচ্ছে, তা নিশ্চিত।

