ETV Bharat / state

রেনেসাঁ 2.0! এআই শিক্ষায় নৈতিক সচেতনতায় উদ্যোগ আইআইটি খড়গপুরের

শিক্ষার্থীদের শুধু প্রযুক্তি তৈরি করতে শেখানো নয়, সেই প্রযুক্তির সামাজিক প্রভাব, গোপনীয়তা, নিরাপত্তা এবং নৈতিক সীমারেখা সম্পর্কেও সচেতন করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে ।

ETV BHARAT
এআই শিক্ষায় নৈতিক সচেতনতায় উদ্যোগ আইআইটি খড়গপুরের (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 24, 2026 at 8:22 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 24 ফেব্রুয়ারি: প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিক্ষাকে নতুনভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিল খড়গপুর আইআইটি । ‘Renaissance 2.0’ কর্মসূচির মাধ্যমে এমন একটি শিক্ষা কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে ।

কর্তৃপক্ষের মতে, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে শুধুমাত্র আংশিক সংস্কার দিয়ে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় । প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে আজ যে বিষয়বস্তু পড়ানো হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে কতটা প্রাসঙ্গিক থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে । অন্যদিকে, অনলাইন কনটেন্ট ও ভিডিয়োভিত্তিক শিক্ষার বিস্তারের ফলে প্রচলিত পদ্ধতিতে ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে । এই বাস্তবতায় নতুন প্রজন্মের চাহিদা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পুরনো কাঠামোর মধ্যে তৈরি হওয়া ব্যবধান কমাতেই এই উদ্যোগ ।

‘রেনেসাঁ 2.0’-এর মূল উদ্দেশ্য হল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটানো । কারণ, এআই, ডিপফেক, ভয়েস ম্যানিপুলেশন, জিন এডিটিং বা অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে । তাই শিক্ষার্থীদের শুধু প্রযুক্তি তৈরি করতে শেখানো নয়, সেই প্রযুক্তির সামাজিক প্রভাব, গোপনীয়তা, নিরাপত্তা এবং নৈতিক সীমারেখা সম্পর্কেও সচেতন করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে । এই উদ্যোগে এআই ও অন্যান্য প্রযুক্তি-ভিত্তিক কোর্সের মধ্যেই ‘এথিক্যাল কম্পাস’ যুক্ত করার ভাবনা রয়েছে । প্রজেক্টভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি উন্নয়নের সময় তার সম্ভাব্য ঝুঁকি ও দায়িত্বের বিষয়গুলি নিয়ে কাজ করবে । এর ফলে প্রযুক্তি শিক্ষার সঙ্গে দায়িত্ববোধের বাস্তব সংযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে ।

উদ্যোগের অংশ হিসেবে চারটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করা হয়েছে । বিভিন্ন ক্ষেত্রের শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মতামতের ভিত্তিতে একটি ঘোষণাপত্র তৈরি করা হবে । সেই সুপারিশের ভিত্তিতে পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন, নতুন প্রজেক্ট মডিউল সংযোজন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে । আইআইটি খড়গপুরের অধিকর্তা অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী জানান, এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হল ছাত্রছাত্রীদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনা । শুধুমাত্র উচ্চ বেতনের চাকরির লক্ষ্যে নয়, বরং ‘জব সিকার’ থেকে ‘জব ক্রিয়েটর’ হয়ে ওঠার উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে । স্টার্টআপ, উদ্ভাবন এবং সমাজমুখী প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ।

উদ্যোক্তাদের আশা, এই মডেল শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না ৷ ভবিষ্যতে তা দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও প্রয়োগ করা যেতে পারে এবং জাতীয় শিক্ষা নীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে । প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য দায়িত্বশীল, সচেতন এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন নাগরিক গড়ে তুলতেই এই নতুন এআই শিক্ষা নকশা এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার । তিনি বলেন, "কেন্দ্র সরকারের শিক্ষা নীতির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পাশাপাশি রাজ্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলিকেও আর্থিক ও পরিকাঠামোগত সহায়তা দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে । এই উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে পিএম-ঊষা (PM-USHA) প্রকল্প । এর মাধ্যমে সারা দেশের প্রায় 35টি রাজ্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে উন্নয়নের জন্য প্রায় 100 কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে । তবে দুঃখজনকভাবে, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক কারণে এই প্রকল্পের সুবিধা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি । জানা গেছে, আগে যার নাম ছিল রুসা (RUSA), সেই রুসা 1.0-র পর থেকে রাজ্য সরকার এই উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেনি । ফলে অন্যান্য রাজ্যের মতো এখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি সমানভাবে এই সুবিধা পাচ্ছে না ।"

তাঁর কথায়, "একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে পিএম-শ্রী স্কুল প্রকল্পের ক্ষেত্রেও । সারা দেশে প্রায় 14,500টি পিএম-শ্রী স্কুল গড়ে তোলা হচ্ছে, যেগুলিকে সংশ্লিষ্ট এলাকার মডেল স্কুল হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে । এসব স্কুলে আধুনিক পরিকাঠামোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল শিক্ষা এবং নতুন প্রযুক্তি-ভিত্তিক শিক্ষার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে । এই প্রকল্পের লক্ষ্য, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে এআই ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা তৈরি করা । যদিও তারা শুরুতেই কোডিং বা ডিভাইস তৈরি করতে পারবে না, তবে প্রযুক্তির মৌলিক ধারণা তাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করবে । কেন্দ্রের নতুন শিক্ষা নীতি 2020 এই ধরনের আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে । এর মাধ্যমে দেশজুড়ে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং ভবিষ্যত উপযোগী শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে ৷"