রাজ্য সরকারি কর্মীদের স্বস্তি, এবার ডেথ গ্র্যাচুইটি প্রাপকের তালিকায় বিবাহিত কন্যারাও
সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, কর্মরত অবস্থায় বা অবসরের পর কোনও সরকারি কর্মচারীর মৃত্যু হলে তাঁর ডেথ গ্র্যাচুইটির সুবিধায় এবার থেকে আইনি অধিকার পাবেন তাঁর বিবাহিত কন্যারাও।

Published : February 24, 2026 at 3:06 PM IST
কলকাতা, 23 ফেব্রুয়ারি: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর শোনাল নবান্ন। রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের 'ডেথ গ্র্যাচুইটি' বা মৃত্যুজনিত আর্থিক সুবিধার নিয়মে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যুগান্তকারী বদল আনল রাজ্য সরকারের অর্থ দফতর। নতুন সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, কর্মরত অবস্থায় বা অবসরের পর কোনও সরকারি কর্মচারীর মৃত্যু হলে তাঁর ডেথ গ্র্যাচুইটির সুবিধায় এবার থেকে আইনি অধিকার পাবেন তাঁর বিবাহিত কন্যারাও।
ডেথ গ্র্যাচুইটির প্রাপকের নিয়ম সংশোধনের মূল লক্ষ্য
গত 20 ফেব্রুয়ারি, 2026 তারিখে রাজ্য সরকারের অর্থ দফতরের পেনশন শাখা থেকে এই সংক্রান্ত একটি সরকারি নির্দেশিকা বা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। প্রকাশিত ওই সরকারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, সংবিধানের 309 নম্বর অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাজ্যপাল 'ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্ভিসেস (ডেথ-কাম-রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট) রুলস, 1971'-এর 7 নম্বর নিয়মের নির্দিষ্ট উপধারায় সংশোধন করেছেন। এই সংশোধনের মূল লক্ষ্য হল ডেথ গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে প্রাপক হিসেবে 'পরিবার'-এর সংজ্ঞাকে আরও প্রসারিত ও যুগোপযোগী করা।

ডেথ গ্র্যাচুইটির প্রাপক কারা ছিলেন?
নির্দেশিকা অনুযায়ী, ডেথ গ্র্যাচুইটি পাওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের সংজ্ঞায় অষ্টম সংযোজন হিসেবে এখন থেকে বিবাহিত কন্যাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে এই তালিকায় মৃত পুরুষ কর্মীর স্ত্রী, মহিলা কর্মীর স্বামী, পুত্রসন্তান (সৎ পুত্র-সহ), অবিবাহিতা, বিধবা এবং বিবাহবিচ্ছিন্না কন্যাদের নাম ছিল। পাশাপাশি 18 বছরের কম বয়সি ভাই, অবিবাহিতা বা বিধবা বোন এবং কর্মীর বাবা-মাকেও এই সুবিধার আওতাভুক্ত রাখা হয়েছে।
নিয়মে কী বদল আনল রাজ্য সরকার?
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই নির্দেশিকার একেবারে শেষে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ নোট বা বিশেষ দ্রষ্টব্য উল্লেখ করা হয়েছে, যা বহু পরিবারের দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা মেটাতে সাহায্য করবে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই নতুন নিয়ম বলবৎ হওয়ার আগে যদি কোনও সরকারি কর্মচারীর মৃত্যু হয়ে থাকে এবং তাঁর বিবাহবিচ্ছিন্না বা বিবাহিত কন্যাদের গ্র্যাচুইটি পাওয়ার সংক্রান্ত কোনও আবেদন বা দাবি এখনও অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতর এই নতুন বিজ্ঞপ্তির আলোকেই সেই কেসগুলি নতুন করে বিবেচনা করে নিষ্পত্তি করতে পারবে। রাজ্যপালের আদেশানুসারে, রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের স্বাক্ষর সংবলিত এই চূড়ান্ত নির্দেশিকাটি অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য রাজ্যের সমস্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

