ভাঙল রেকর্ড, কুলিক নদীর তীরে পাখিরালয়ে লক্ষাধিক পরিযায়ীর সমাগম
নাইট হেরেন, ওপেন বিল স্টক, কর্মরেন্ট, গ্লসি আইভিস ও ইগ্রেট পাখি এসেছে রায়গঞ্জে কুলিক নদীর তীরে ৷ নভেম্বর-জানুয়ারিতে তাদের ঘরে ফেরার পালা ৷

Published : November 14, 2025 at 7:58 PM IST
রায়গঞ্জ, 14 নভেম্বর: গ্রীষ্মের মাঝামাঝি ওরা আসে কুলিক নদীর তীরের পাখিরালয়ে ৷ প্রজনন থেকে শুরু করেন ডিম ফুটে বাচ্চা বেরনো ও উড়তে শেখা সবই হয় এখানে ৷ তারপর নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর এই দুই মাসে আবার পাড়ি দেয় নিজেদের ঘরে ৷ উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের কুলিক পাখিরালয়ে আসা পরিযায়ী পাখিদের এটাই রীতি ৷ এবছরও তার অন্যথা হয়নি ৷ তবে, বিগত কয়েকবছরের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে 2025 সালে আসা পরিযায়ী পাখির সংখ্যা ৷
বন দফতরের তরফে দেওয়া তথ্য বলছে, সর্বশেষ সুমারিতে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা 1 লক্ষ 58টি ৷ যা গত কয়েকবছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে বলে জানাচ্ছেন রায়গঞ্জের বিভাগীয় বনাধিকারিক ভূপেন বিশ্বকর্মা ৷ তিনি বলেন, "প্রতিবছরই আমরা নজরদারি চালাই ৷ এ বছর দেখা গিয়েছে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা গতবারের থেকে 3.4 শতাংশ বেশি ৷ নাইট হেরেন, ওপেন বিল স্টক, কর্মরেন্ট, গ্লসি আইভিস ও ইগ্রেট মিলিয়ে মোট পাখি 1 লক্ষ 58টি ৷ প্রত্যেক বছর পাখির সংখ্যা কম-বেশি হয় ৷ এ বছর আমরা সংখ্যাটা বেশি আশা করেছিলাম ৷"
বনাধিকারিক জানাচ্ছেন, নাইট হেরেন, ওপেন বিল স্টক, কর্মরেন্ট ও ইগ্রেট পাখির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ৷ গ্লসি আইভিসের সংখ্যা দেড় হাজারের কিছু বেশি ৷ সাধারণত প্রতিবছর মে মাসের শুরুতেই কুলিক পাখিরালয়ে আসে এই পাখিগুলি ৷ তারপর 6-7 মাস সময়ে প্রজনন, ডিম ফুটে বাচ্চা বেরোনো ও উড়তে শেখা পুরো প্রক্রিয়া হয় ৷ নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এই পরিযায়ী পাখির দল ঘরে ফিরে যায় ৷

একনজরে দেখে নেওয়া যাক 2024 ও 2025 সালে কুলিক পাখিরালয়ের পরিযায়ী পাখির পরিসংখ্যান ৷
2024 সালের পরিযায়ী পাখির পরিসংখ্যান
1. ওপেন বিল স্টক- 71,022
2. নাইট হেরন- 3,021
3. ইগ্রেট- 16,282
4. কর্মরেন্ট- 6,143
5. গ্লসি আইভিস- 251
মোট পাখির সংখ্যা 96 হাজার 719
2025 সালের পরিযায়ী পাখির পরিসংখ্যান
1. ওপেন বিল স্টক- 69,558
2. নাইট হেরন- 3,557
3. ইগ্রেট- 15,486
4. কর্মরেন্ট- 9,951
5. গ্লসি আইভিস- 1,506
মোট পাখির সংখ্যা 1 লক্ষ 58

অর্থাৎ, 2025 সালে ভিনদেশি এইসব পাখির সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে কুলিক বনাঞ্চলে ৷ বিভাগীয় বন আধিকারিক ভূপেন বিশ্বকর্মা বলেন, "জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পাখি থাকবে ৷ তাই পর্যটকরা এখানে আসুন, দেখুন ৷ তবে, অবশ্যই প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখবেন ৷ বনাঞ্চলের পরিবেশ ও পাখিদের বসবাসে যাতে কোনও সমস্যা না-হয়, তা মাথায় রাখতে হবে ৷"

