বঙ্গে বুলেট ট্রেন, শিলিগুড়ি থেকে দিল্লি পৌঁছবে মাত্র 6 ঘণ্টায়
বাংলায় রেল প্রকল্পের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের একগুচ্ছ ঘোষণা ৷ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, শীঘ্রই বুলেট ট্রেনের পরিষেবা পেতে চলেছেন রাজ্যবাসী ৷

Published : June 6, 2026 at 1:15 PM IST
কলকাতা, 6 জুন: বঙ্গে এবার বুলেট ট্রেন সংকল্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৷ নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে এমনটাই জানান কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ৷ শনিবার রেলমন্ত্রী বলেন, "রাজ্যের জন্য বুলেট ট্রেনের সঙ্কল্প নেওয়া হয়েছে ৷ দিল্লি, লখনউ, বারাণসী, পটনা হয়ে শিলিগুড়িকে কানেক্ট করবে। 6 ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হবে, পাশাপাশি সেই সফর হবে আরামদায়কও ৷ পাশাপাশি, কলকাতা মেট্রোয় আগামী 4 থেকে 5 বছরের মধ্যে 60টি নিউ জেনারেশন মেট্রো আনা হবে কলকাতায় ৷"
বৈঠকে যোগ দিতে আজ কলকাতায় এসে প্রথমে দমদম বিমানবন্দরে পৌঁছন অশ্বিনী । দমদম বিমানবন্দর থেকে বেরিয়েই মেট্রোয় বসেন রেলমন্ত্রী। মেট্রো সফরে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি ৷ এরপর তিনি অটোতে চেপেও সফর করেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো।
এরপরই মুখ্যমন্ত্রীকে পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের জন্য একগুচ্ছ রেল প্রকল্পের সূচনা ঘোষণা করেন রেলমন্ত্রী ৷ বুলেট ট্রেন নিয়ে এদিন রেলমন্ত্রী বলেন, "এই কাজ শীঘ্রই শুরু হবে বলে ৷ রেল প্রকল্পের পথ প্রশস্ত হয়েছে। সব বিধায়করা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন ৷ পাশাপাশি, নতুন স্টেশন, নতুন অনেক ট্রেন চালুর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ রাজ্যে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের দিকে নজর দেওয়ার অনুরোধ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে। বৈঠক সেরে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ পরিদর্শনে যাবেন বলেও মুখ্য়মন্ত্রী জানান ৷

এদিন বৈঠক শুরুর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "রাজ্যে রেলের উপর নির্ভরশীল 2 কোটি মানুষ ৷ আমাদের সরকার গঠনের একমাসের আগেই অশ্বিনী বৈষ্ণব তাঁর ব্যস্তসূচি থেকে আমাদের সময় দিয়েছেন ৷ তাঁকে আমরা ধন্যবাদ জানায় ৷ রাজ্যে রেলের 1 লক্ষ কোটি টাকার কাজ হবে 102টি অমৃত ভারত স্টেশন মনিটাইজেশন হবে ৷ রাজ্যে 538টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাশ হবে ৷"
রেলমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিএসএফের মতো রেলকেও জমি দেওয়ার প্রসঙ্গও উঠে এল ৷ মুখ্যমন্ত্রী জানান, রেলমন্ত্রী চিঠি দিলেও রাজ্যের উত্তর পর্যন্ত দেয়নি ৷ বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্য-কেন্দ্রের মধ্যে ছিল যুদ্ধযুদ্ধ ভাব। তার ফলে বাংলায় রেল উন্নয়ন থমকে ছিল ৷ তবে সরকারের পালাবদলে সে সমস্যা মিটে যাবে। গত রাজ্য সরকারের মনোভাবে আটকে ছিল অনেক রেল প্রকল্প ৷ আগের সরকার রেলমন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলত না ৷ বিএসএফের মতো রেলকেও জমি দেবে রাজ্য ৷ যেখানে প্রয়োজন রাজ্য জমি কিনে রেলকে দেবে ৷ উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে রেলের কাজ হবে ৷

মুখ্যমন্ত্রীর সুরে সুর মিলিয়ে পূর্ববর্তী সরকারকে নিশানা করেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ৷ রেলমন্ত্রী বলেন, "ইস্ট থেকে ওয়েস্ট ফ্রেট করিডোর ডানকুনি থেকে শুরু হয়ে উত্তরপ্রদেশে যাবে ৷ এতদিন কাজ আটকে ছিল ৷ এবার তো কাজ হবে। রেল আধিকারিকরা এবার দেখবেন, আপনাদের কত কাজ করতে হয় ৷ বাংলাকে বাঁচানোর জন্য ধন্য়বাদ ৷ ইতিহাস গড়েছেন শুভেন্দু'দা ৷ দেশকে বাঁচানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গবাসীকে ধন্যবাদ ৷ এতদিন পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়ন আটকে ছিল ৷ বঙ্গে এবার কাজের সুযোগ এসেছে ৷"

অশ্বিনী বৈষ্ণবের আরও সংযোজন, "আগের সরকার রেলের প্রকল্পের কাজ আটকাতে শুধু কোর্টে যেত। বাংলার মানুষকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করতে হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত ছুটেছে তারা ৷ কিন্তু এখন আর সেটা হবে না ৷ এবার আপনারা হাত খুলে, মন খুলে কাজ করতে পারবেন ৷ বাংলার রেলের উন্নয়নের জন্য টাকা রেডি আছে ৷ UPA জমানায় রেলে 4 হাজার কোটি টাকা পেত পশ্চিমবঙ্গ ৷ মোদি জমানায় 14,000 কোটি টাকা পাচ্ছে বাংলা ৷"

বাংলার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দেওয়ার একগুচ্ছ খতিয়ানও তুলে ধরেন রেলমন্ত্রী ৷ এর মধ্যে রয়েছে শিলিগুড়ি-দিল্লি বুলেট ট্রেনের কথা। উত্তরবঙ্গের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার এই ট্রেন ৷ শিলিগুড়ি থেকে দিল্লি পর্যন্ত চলবে বুলেট ট্রেন, যা মাত্র 6 ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছে দেবে যাত্রীদের ৷ এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, একাধিক তৃণমূল বিধায়কও ৷ ছিলেন বাগনানের তৃণমূল অরুণাভ সেন ও মধ্য়মগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষ ৷ তাঁদের বৈঠকে হাজির নিয়ে জিজ্ঞসা করা হলে অরুণাভ সেন বলেন, "এলাকায় কাজ নিয়ে আলোচনা করতেই বৈঠকে যোগ দেওয়া ৷ ব্যস্ততার কারণে আসতে পারেননি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ৷"
রাজনৈতিক মহলের মতে, নবান্নে এদিনের এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেন্দ্র ও রাজ্যের এই সমন্বয় যদি বজায় থাকে, তবে আগামী দিনে থমকে থাকা মেট্রো প্রকল্প থেকে শুরু করে দূরপাল্লার রেল যোগাযোগে এক অভূতপূর্ব গতি দেখতে পাবে বাংলার মানুষ।

