ETV Bharat / state

আসানসোলে একাধিক স্কুলে সব শিক্ষকরাই BLO, প্রশ্নের মুখে পঠনপাঠন

আগামী মঙ্গলবার থেকে বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে SIR এর কাজ শুরু করবেন৷ তখন স্কুলের পঠনপাঠন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷

SIR
আসানসোলের একটি স্কুলে চলছে পঠনপাঠন (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : November 3, 2025 at 5:09 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

আসানসোল, 3 নভেম্বর: আগামী 4 নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে SIR-এর কাজ। BLO-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিল করবেন প্রথমে। পরবর্তীকালে সেই ফর্ম নিয়ে আসা, ম্যাপিং, বিস্তর কাজ রয়েছে। গোটা এসআইআর-এর সময়কাল জুড়ে মূলত বিএলও-দের এই কাজ করতে হবে। বিএলও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের। যেখানে স্কুল শিক্ষক পাওয়া যায়নি, সেসব ক্ষেত্রে আইসিডিএস কর্মীদের এই কাজে নিয়োগ করা হয়েছে।

কিন্তু আসানসোলের একাধিক স্কুলে গিয়ে দেখা গিয়েছে সেই স্কুলের যত জন শিক্ষক রয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই বিএলও-র দায়িত্ব পেয়েছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, স্কুলের সব শিক্ষকরা যদি বিএলও হয়ে যান৷ তাহলে স্কুল চলবে কী করে? শিক্ষকদের কাছে তাই এটা চ্যালেঞ্জ স্কুল চালানোর পাশাপাশি কীভাবে তারা এই এসআইআর-এর কাজ উতরে দিতে পারেন।

আসানসোলে একাধিক স্কুলে সব শিক্ষকরাই BLO, প্রশ্নের মুখে পঠনপাঠন (ইটিভি ভারত)

আসানসোল গ্রামে নামোপাড়ায় ফটিকচন্দ্র স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়। হিরাপুর চক্রের এই প্রাথমিক বিদ্যালয় দু’জন শিক্ষক রয়েছেন। ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা 26। এই দু’জন শিক্ষককেই বিএলও হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে তারা স্কুল চালাবেন কী করে?

স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিয় মণ্ডল বলেন, "আমার স্কুলে দু’জন শিক্ষক। আমরা দু’জনেই বিএলও-র দায়িত্ব পেয়েছি। এক্ষেত্রে সমস্যা হলেও দু’টি দিক আমাদেরকে সমানভাবেই চালাতে হবে। এমনটাই নির্দেশিকা আমাদের কাছে রয়েছে। ফলে স্কুল ছুটির পরে, কিংবা ছুটির দিনে এসআইআর-এর কাজ আমাদের করতে হবে। অতিরিক্ত দায়ভার নিয়েই এই কাজ করতে হবে। তবে একটা সুবিধে রয়েছে৷ আমাদেরকে আমাদের বাসস্থানের কাছাকাছি বিএলও করা হয়েছে। স্কুল থেকে যাওয়ার পর আমরা বিকেলে বা সন্ধ্যের দিকেও এই কাজ করতে পারব।"

SIR
আসানসোলের একটি স্কুলে চলছে পঠনপাঠন (নিজস্ব ছবি)

ওই স্কুলের আরেক শিক্ষক অভিমন্যু শূর বলেন, "যেহেতু প্রধান শিক্ষক এবং আমাকে বিএলও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেক্ষেত্রে আমাদের দু’জনের মধ্যে বোঝাপড়া করে কাজটা করতে হবে। কোনোদিন যদি প্রধান শিক্ষককে যেতে হল, সেদিন আমি স্কুল সামলাবো। আবার যেদিন আমাকে যেতে হবে, সেদিন প্রধান শিক্ষক স্কুল পরিচালনা করবেন।"

SIR
আসানসোলের একটি সরকারি স্কুল (নিজস্ব ছবি)

কিন্তু এক্ষেত্রে স্কুল পরিচালনা মানে শুধুই তো পঠন-পাঠন নয়, রয়েছে মিড ডে মিলের সামগ্রী নিয়ে আসা, রান্নার তদারকি করা, শিশুরা ঠিকমতো খেতে পারছে কি না, সেটা দেখা। স্কুল চালানোর পাশাপাশি বিএলও-র দায়িত্ব মাথার ওপর এসে পড়েছে। ফলে শিক্ষকেরা কার্যত দিশেহারা হয়েই পড়েছেন।

SIR
আসানসোলের একটি স্কুলে চলছে পঠনপাঠন (নিজস্ব ছবি)

হিরাপুর চক্রের চাপড়াইদ প্রাথমিক স্কুলেও দুই জন শিক্ষক রয়েছেন। এক্ষেত্রেও দু’জনেরই বিএলও হিসেবে দায়িত্ব পড়েছে৷ স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ডাবলু নাথ বলেন, "এত কম সময়ে এসআইআর-এর কাজ করার সঙ্গে স্কুল চালানো যথেষ্ট সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এত কম সময়ে কাজটি সঠিকভাবে হবে কি না, তা নিয়েও আমি আশঙ্কা করছি।"

SIR
আসানসোলের একটি স্কুলে চলছে পঠনপাঠন (নিজস্ব ছবি)

তিনি আরও বলেন, "আমি যে অঞ্চলে দায়িত্ব পেয়েছি, আমার স্কুল থেকে সেটি 15 কিলোমিটার দূরে। আমার বাসস্থানের কাছে। সেই অঞ্চলটি আবাসন এলাকা। ফলে বেশিরভাগ মানুষই সারাদিন চাকরি করতে চলে যান। তাঁদেরকে বাড়িতে পাওয়াই যাবে না। ফলে কাজটি কী করে করব, সেটা ভেবেই আমরা আকুল হচ্ছি। অন্যদিকে স্কুলের কাজ। পড়ানো মিড ডে মিল সমস্তটা সামলাতে হবে। সিলেবাস শেষ হবে কি না, সেটাই চিন্তার। এই অবস্থায় শিক্ষা দফতর থেকে যদি ডেপুটেশন ভিত্তিতে শিক্ষক দেওয়া হতো, তাহলে এসআইআর-এর কাজ সুবিধাজনক হতো।"

SIR
আসানসোলের একটি স্কুলে চলছে পঠনপাঠন (নিজস্ব ছবি)

আরও পড়ুন -

  1. মঙ্গলবার থেকে বাড়ি-বাড়ি যাবেন বিএলও-রা, কীভাবে হবে SIR-এর এনুমারেশন প্রক্রিয়া
  2. স্কুলের দুই শিক্ষক বিএলও'র কাজে, কে নেবে ক্লাস ? চন্দ্রকোণায় উঠছে প্রশ্ন