শেয়াল ডাকার শব্দ শুনে পুজো শুরু হয় রায়গঞ্জের বন্দর আদি করুণাময়ীর
কুলিক নদীর বন্দর ঘাটের এই মা কালীর পুজো শুরু হয় 500 বছর আগে৷ সাধক বামাক্ষ্যাপার বংশধরেরা দীর্ঘদিন ধরেই পুজো করে আসছেন এই মন্দিরে৷

Published : October 18, 2025 at 8:10 PM IST
রায়গঞ্জ (উত্তর দিনাজপুর), 18 অক্টোবর: সাধক বামাক্ষ্যাপার বংশধরেরা দীর্ঘদিন ধরেই পুজো করে আসছেন এই কালী মন্দিরে। অসম থেকে পঞ্জাব, বিহার থেকে উত্তরপ্রদেশ-সহ বিদেশ থেকেও ভক্তেরা দীপাবলীর রাতে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের এই বন্দর আদি করুণাময়ী কালীবাড়িতে পুজো দিতে আসেন। রায়গঞ্জ শহরের বন্দর এলাকার এই কালীমন্দিরে দীপান্বিতার পুজোকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার ভক্তের সমাগমে পুণ্যতীর্থ হয়ে ওঠে মন্দির চত্বর।
প্রচলিত আছে, আজ থেকে প্রায় পাঁচশো বছর আগে পঞ্জাব প্রদেশের এক সাধু পায়ে হেঁটে এসে উপস্থিত হন রায়গঞ্জের কুলিক নদীর বন্দর ঘাটে। ঘাটের কাছেই একটি বটগাছের তলায় বসে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেন তিনি৷ তারপরই পঞ্চমুণ্ডর আসন প্রতিষ্ঠা করেন৷ সেই থেকে শুরু হয় এখানে মা কালীর আরাধনা আর সেই বেদীতেই পুজোর প্রচলন হয়। এরপর তৎকালীন দিনাজপুরের রাজা স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই স্থানে কালীমন্দির নির্মাণ করেন।
এরপর তারাপীঠের মহাসাধক বামাক্ষ্যাপার বংশধর জানকীনাথ চট্টোপাধ্যায় বারাণসী থেকে কোষ্ঠীপাথরের কালীমূর্তি এনে পঞ্চমুণ্ডর আসনে সেটি বসান জ্যৈষ্ঠ শুক্লা দশমী তিথিতে৷ তখন ছিল 1216 বঙ্গাব্দ। সেটাও আজ থেকে আনুমানিক 215 বছর আগের কথা। সেই থেকেই ওই একই মূর্তিতে দক্ষিণা কালীমাতার পুজো হয়ে আসছে এই বন্দর আদি করুণাময়ী কালীবাড়িতে।
স্থানীয় সূত্রে গিয়েছে, এই মন্দিরে কালীপুজোর রাতে আজও দেবীর পায়ের নূপুরের ধ্বনি শোনা যায়। তন্ত্রমতে এখানে দেবী পূজিতা হন। মাছ ভোগ দেওয়ার পাশাপাশি ছাগ বলিরও প্রচলন রয়েছে এই কালী পুজোয়। জাগ্রত এই দেবীর মাহাত্ম্য ছড়িয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলা ছাড়িয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে, এমনকি বিদেশেও। তাই তো দীপান্বিতা কালীপুজোর রাতে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয় রায়গঞ্জের এই বন্দর আদি করুণাময়ী কালীমন্দিরে। সারাবছরই অসংখ্য ভক্তের সমাগম হয়, এই জাগ্রত দেবীর মন্দিরে। ভক্তদের প্রণামী আর দান দিয়েই হয় এই দীপান্বিতা কালীপুজো।

মন্দিরের সেবায়েতের পরিবারের সদস্যা রিয়া চট্টোপাধ্যায় বলেন, "খুব নিয়ম নিষ্ঠাভাবে এখানে পুজো করা হয়। 500 বছর আগের এই পুজো। আগে মায়ের বেদীতে পুজো হতো পরে বেনারস থেকে মায়ের মূর্তিটি এনে পুজো করা হচ্ছে বহু বছর ধরে। আমার স্বামীরা বামাক্ষ্যাপার বংশধর। আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর পাড়া-প্রতিবেশীরা মিলে পুরনো নিয়ম মেনে এই মন্দিরে পুজো করা হয়।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘রাতে শেয়াল ডাকার আওয়াজ শুনে পাশের কুলিক নদীর থেকে ঘটে জল ভরে নিয়ে আসার পর থেকে পুজো শুরু হয়। মা খুব জাগ্রত। নিষ্ঠাভাবে মায়ের কাছে যা চাওয়া যায়, সেটাই পাওয়া যায় বলে আমাদের বিশ্বাস। সেই কারণেই বহু দূরদূরান্ত থেকে এখানে মায়ের পুজো দিতে আসে প্রচুর মানুষ। খুব ভিড় হয় মায়ের মন্দির চত্বরে।"

অন্যদিকে পুজো কমিটির সদস্য রূপেশ সাহা বলেন, "যারা বর্তমান পূজা করছে তারা সাধক বামাক্ষ্যাপার বংশধর। আগের নিয়ম নিষ্ঠাতেই এখনও এখানে মায়ের পুজো করা হয়। বামাক্ষ্যাপার বংশধর মৃত্যুঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় মারা যাওয়ার পর তাঁর এক আত্মীয় রাজকুমার চট্টোপাধ্যায় বীরভূম থেকে এসে এখানে পুজো করছেন। বছরের চারটি বড় তিথিতে তিনি এসে এখানে পুজো করে যান। পুজোর খরচ জন্য আমাদের চাঁদা তুলতে হয় না৷ মন্দিরে এসে মায়ের ভক্তরা চাঁদা এসে দিয়ে যান। বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষের সমাগম হয় এই মন্দির চত্বরে।"

