ETV Bharat / state

SIR আতঙ্কে মৃত্যু-মানসিক চাপ ! কী বলছেন মনোবিদরা ?

এসআইআর আতঙ্কে ভোগে বহু মানুষ শরণাপন্ন হচ্ছে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের ৷ আতঙ্কের থেকেও বেশি হয়রানি হচ্ছে, দাবি একাংশ নাগরিকের ৷ সৌমিতা ভট্টাচার্য ও শামশের আলির প্রতিবেদন৷

SIR PANIC
এসআইআর-এর এন্যুমারেশন ফর্ম বিলি করছেন বিএলও ৷ (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : November 8, 2025 at 8:44 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 8 নভেম্বর: গত 4 নভেম্বর থেকে রাজ্যে শুরু হয়েছে SIR বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া ৷ 2002 সালের সংশোধিত ভোটার তালিকাকে স্তম্ভ করে, 2025 সালের এসআইআর শুরু হয়েছে ৷ তবে, এসআইআর-কে কেন্দ্র করে অনেকের মধ্যেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে ৷ বিশেষত, রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের মন্তব্যের জেরে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে ৷

যদিও, নির্বাচন কমিশনের তরফে বারবার জানানো হয়েছে, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই ৷ কিন্তু, তা সত্ত্বেও মানুষের মনে তৈরি হচ্ছে গভীর উদ্বেগ ৷ সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় এসআইআর-কে দায়ী করেছে রাজ্যের শাসকদল ৷ যা নিয়ে বিরোধী বিজেপির তরফে পাল্টা অপপ্রচারের অভিযোগ করা হয়েছে ৷

এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষ কী বলছেন (ইটিভি ভারত)

তবুও, মানুষের একাংশের মনে এসআইআর নিয়ে সত্যিই মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন, মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা ৷ এমনই কয়েকজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও মনোবিদের সঙ্গে কথা বলেছে ইটিভি ভারত ৷

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের কাছে এমন অনেক রোগী এসেছেন, যাঁরা SIR নিয়ে মানসিকভাবে চাপে রয়েছেন ৷ মনোরোগ চিকিৎসক শর্মিলা সরকার বলেন, "আমার কাছে বেশি মানুষ এসেছেন, যাঁরা SIR নিয়ে চরম উদ্বেগে ভুগছেন ৷ যাঁদের আগে থেকেই মানসিক চাপ বা স্ট্রেস-সংক্রান্ত সমস্যা ছিল, তাঁদের উদ্বেগ আরও বেড়ে গিয়েছে ৷ 2002 সালের তালিকায় নাম না-থাকলে কী হবে, সেই নিয়ে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে তাঁদের মধ্যে ৷"

তবে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, যাঁরা সরাসরি এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত—যেমন BLO-রাও মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছেন ৷ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পিয়ালী ঘোষ বলেন, "অনেক BLO-র মধ্যেও আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে ৷ তাঁরা জানেন না, যখন মানুষের ঘরে-ঘরে যাচ্ছেন, তখন কেমন ব্যবহার পাবেন বা কীভাবে পরিস্থিতি সামলাবেন ৷ একটা সময় এনআরসি হতে পারে, এমন রব উঠেছিল ৷ সেই সময়ও আমরা একই রকম প্রবণতা দেখেছিলাম ৷ এবারেও সেই দিকেই যাচ্ছে পরিস্থিতি ৷"

চিকিৎসকরা মনে করছেন, আগের তুলনায় এই আতঙ্কের অন্যতম বড় কারণ হল সমাজমাধ্যম ৷ পিয়ালী ঘোষের কথায়, "মানুষ আজ বিভ্রান্ত ৷ কোন খবরটা সত্যি, আর কোনটা মিথ্যা, তা বোঝা যাচ্ছে না ৷ ফেক নিউজ ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত, যা উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে ৷"

মনোবিদ অমিত চক্রবর্তী বলেন, "যাঁদের মানসিক স্থিতি দৃঢ়, তাঁরা সামলে নিচ্ছেন ৷ কিন্তু, যারা আগে থেকেই মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন বা অতিরিক্ত সংবেদনশীল, তাঁদের উদ্বেগ বেড়েছে ৷ এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে মিডিয়ায় ক্রমাগত SIR নিয়ে খবর—যা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে ৷"

মনোবিদ স্মরণিকা ত্রিপাঠীর মতে, "মানুষ বুঝতে পারছেন না, আসলে কী করবেন ? সরকারের থেকেও স্পষ্ট বার্তা না-আসায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে ৷" আরেক মনোবিদ দেবশিলা বোসের পরামর্শ, "অযথা গুজবে কান না-দিয়ে, যথাযথ ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে ৷ নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি এলে, তাঁর কাছ থেকেই জানা উচিত কী নথি দরকার ৷ সঠিক তথ্য ও প্রস্তুতি থাকলে উদ্বেগ অনেকটাই কমবে ৷"

এই নিয়ে সাধারণ মানুষজন কী বলছেন, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখেছে ইটিভি ভারত ৷ সেখানেই এক ভোটার বলেন, "দেখুন আতঙ্কের বিষয় নয় ৷ এখন যেটা হচ্ছে, সেটা হল হয়রানি ৷ 1995 সালে ভোটার কার্ড বানিয়েছি ৷ বাবা ও মায়ের ভোটার কার্ড ছিল ৷ আমার নাম 2002-এর তালিকায় আছে ৷ কিন্তু, এখন অনেকের নাম ছিল না, তাঁদের নথিপত্র জোগাড় করতে হচ্ছে ৷ কাজকর্ম ফেলে রেখে এখন এর পিছনে দৌড়াতে হচ্ছে ৷"

আরেক নাগরিক বলেন, "আমাদের এমন সরকার রয়েছে, যারা কয়েকদিন ছাড়া-ছাড়া মানুষকে ব্যতিব্যস্ত করে দেয় ৷ তখন কাজকর্ম ফেলে রেখে তার পিছনে দৌড়াতে হয় ৷ এখনও তাই হচ্ছে ৷ ভোটার তালিকায় নাম রাখতে ছোটাছুটি করতে হচ্ছে এখন ৷"