সাবেক ছিটমহলের সিংহভাগই 'বিচারাধীন' তালিকায়, দিনহাটা SDO দফতরে বিক্ষোভ
নরেন্দ্র মোদি সরকার নাগরিকত্ব দিয়ে এখন ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দাদের ৷

Published : March 2, 2026 at 8:08 PM IST
দিনহাটা (কোচবিহার), 2 মার্চ: 2015 সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় হয়েছিল ৷ সেই সময় ভোটাধিকার পেয়েছিলেন সাবেক ছিটমহল তথা কোচবিহারের দিনহাটা মহকুমার সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলির বাসিন্দারা ৷ কিন্তু, এসআইআর-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল সেই সাবেক ছিটমহলের প্রায় 90 শতাংশ মানুষের নাম 'আন্ডার অ্যাজুডিকেশন' তালিকায় রয়েছে ৷ কেন এমনটা হল তাঁদের সঙ্গে, এই প্রশ্নে সোমবার দিনহাটা মহকুমা শাসকের দফতরে বিক্ষোভ দেখালেন সাবেক ছিটমহলের একাংশ ভোটার ৷
এ দিন মহকুমা শাসকের দফতরের বাইরে অবস্থান-বিক্ষোভের পাশাপাশি একটি ডেপুটেশন জমা দেন আন্দোলনকারীরা ৷ তাঁদের অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদির সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল ৷ তারপর সেই সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দাদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার দিয়েছে ৷ এবার সেই মোদি সরকারই তাঁদের নাগরিকত্ব কাড়ার চেষ্টা করছে ৷ তারই বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদে বলে জানাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা ৷
তবে, বিষয়টি নিয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে নারাজ জেলা নির্বাচন আধিকারিক তথা কোচবিহারের জেলাশাসক রাজু মিশ্রা ৷ তিনি বলেন, "বিষয়টা নিয়ে আমরা এখনই কিছু বলতে পারব না ৷ আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন কেসগুলো আমাদের এরপর দেখতে হবে ৷ সেই মতো প্রসেস হবে ৷ তাই আলাদা করে দেখতে পারছি না ৷ আর এখানে সুপ্রিম কোর্টের যে অর্ডার আছে, সেই মতো কাজ হবে ৷"
উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে থাকা ভোটারদের নাম এই মুহূর্তে কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত অতিরিক্ত জেলা বিচারক এবং সমতুল্য পদের বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে ৷ এসআইআর শুনানিতে ডাক পাওয়া যে সব ভোটারদের নথি এখনও যাচাই হয়নি, তাঁদের এই আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে রাখা হয়েছে ৷ বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা তাঁদের নথি যাচাই ও নিষ্পত্তি করবেন ৷ সেই প্রক্রিয়াতেই সাবেক ছিটমহলের 90 শতাংশ ভোটারের নাম আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে রয়েছে ৷
2015 সালের 31 জুলাই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় হয় ৷ ভারতের অভ্যন্তরে থাকা সাবেক বাংলাদেশি ছিটমহলগুলি ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় ৷ এছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা সাবেক ভারতীয় ছিটমহল থেকে প্রায় 800 বাসিন্দা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন ৷ ইতিমধ্যে, তাঁদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে সরকারের তরফে ৷ পরবর্তীতে ধাপে-ধাপে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হয় ৷ দেওয়া হয় ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ৷
তাঁরা 2016 সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে ভোট দিচ্ছেন সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দারা ৷ পঞ্চায়েত নির্বাচন, 2019 ও 2024 লোকসভা এবং 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন তাঁরা ৷ কিন্তু, এবারে SIR হতেই সাবেক ছিটমহলের প্রায় 12 হাজার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে ৷ গত শনিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হলে, দেখা যায় সিংহভাগ বাসিন্দাদের নাম আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন হয়েছে ৷
12 হাজার ভোটারের মধ্যে অন্তত নয় হাজার ভোটারের নাম বিচারাধীন থাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে ৷ এরপরেই ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা সোমবার দিনহাটা মহকুমাশাসকের দফতরে বিক্ষোভ দেখান ৷ সাবেক ছিটমহল পোয়াতুরকুঠির বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেন, "নরেন্দ্র মোদির সরকার ছিটমহল বিনিময় করে নাগরিকত্ব দিয়েছে ৷ তারাই আবার নাগরিকত্ব কাড়ার চেষ্টা করছে ৷ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছি আমরা ৷" মধ্য মশালডাঙার বাসিন্দা জয়নাল মিঞাঁ বলেন, "একই জায়গায় আছি ৷ অথচ অন্যদের নাম আছে, আমাদের নাম নেই ৷" গোটা বিষয়টি নিয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, "বিরাট সংখ্যক মানুষের নাম বিচারাধীন ৷ গোটা বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসকের দ্বারস্থ হব ৷"

