বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে নতুন থানা-আউটপোস্ট নির্মাণের প্রস্তাব মালদা পুলিশের
বর্তমানে মালদা জেলায় রয়েছে 16টি থানা ৷ এর মধ্যে একটি সাইবার ক্রাইম, একটি জিআরপি এবং একটি মহিলা থানা রয়েছে ৷

Published : July 5, 2026 at 6:25 PM IST
মালদা, 5 জুলাই: ইন্দো-বাংলা সীমান্তে নজরদারি প্রখর করতে তিনটি নতুন থানা ও তিনটি নতুন ফাঁড়ি নির্মাণের প্রস্তাব রাজ্যে পাঠাল জেলা পুলিশ ৷ প্রস্তাবিত তিনটি থানা ও ফাঁড়িই সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ৷ একথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার অনুপম সিং ৷ শুধু তাই নয়, নতুন থানা ও ফাঁড়িগুলিতে প্রয়োজনীয় পুলিশকর্মী ও আধিকারিক চেয়েও রাজ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে ৷ জেলা পুলিশের এই উদ্যোগে খুশি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা ৷
পুলিশ সুপার অনুপম সিং বলেন, "আমাদের জেলায় বেশ কয়েকটি পুলিশ আউটপোস্ট রয়েছে ৷ এর মধ্যে বৈষ্ণবনগর থানার কুম্ভীরা, কালিয়াচক থানার গোলাপগঞ্জ এবং হবিবপুর থানার বুলবুলচণ্ডী আউটপোস্টকে থানা করার জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি আমরা ৷ এর সঙ্গে ইংরেজবাজারের গৌড়ের লুকোচুরি ক্যাম্পটিকে আউটপোস্ট হিসাবে গড়ে তোলার জন্য আমরা প্রস্তাব দিয়েছি ৷ পাশাপাশি, হবিবপুরের জাজৈল ও বামনগোলার জগদলায় দুটি নতুন পুলিশ ক্যাম্প নির্মাণের জন্যও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে ৷ প্রস্তাবিত থানা ও ক্যাম্পগুলি সবই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ৷ সীমান্তে যাতে আমরা নজরদারি আরও বাড়াতে পারি, তার জন্যই এই প্রস্তাব ৷"
পুলিশ সুপার আরও বলেন, "নতুন থানা ও ক্যাম্পগুলি অনুমোদন পেলে অতিরিক্ত পুলিশকর্মীও প্রয়োজন হবে ৷ আমরা ইতিমধ্যেই 20-25 জন অফিসার এবং 50 জনের বেশি কনস্টেবল নিয়োগের জন্য আবেদন জানিয়েছি ৷ এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে সীমান্ত এলাকার মানুষ পরিষেবা বেশি পাবে ৷ বর্তমানে থানাগুলি সীমান্ত থেকে অনেকটা দূরে ৷ জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকায় ৷ ফলে সাধারণ মানুষ খুব তাড়াতাড়ি থানায় যেতে পারেন না ৷ এছাড়াও নতুন থানা ও আউটপোস্ট হলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে আমাদের সমন্বয় বাড়বে ৷ এতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বৃদ্ধি পাবে ৷ অনুপ্রবেশকারী কিংবা চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যাবে ৷"
জেলা পুলিশের এই উদ্যোগে খুশি হবিবপুরের বিধায়ক জয়েল মুর্মু ৷ তিনি বলছেন, "হবিবপুর ও বামনগোলা ব্লক একেবারে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত ৷ হবিবপুর ব্লকে অরক্ষিত সীমান্ত এলাকা সবচেয়ে বেশি ৷ এর সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশিরা বারবার এখান দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে ৷ এসব রুখতে পুলিশ সুপার জেলার সীমান্ত এলাকায় তিনটি থানা ও তিনটি পুলিশ আউটপোস্ট নির্মাণের প্রস্তাব রাজ্যে পাঠিয়েছে ৷ রাজ্য সরকার এই প্রস্তাব অনুমোদন করলে সীমান্ত এলাকায় পুলিশ ও বিএসএফ নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রেখে যৌথভাবে কাজ করতে পারবে ৷ সাধারণ মানুষেরও সাহস বাড়বে ৷ তাঁরা প্রশাসনের কাছ থেকে সবরকম সহযোগিতা পাবেন ৷"

উল্লেখ্য, মালদা জেলায় বিহার ও ঝাড়খণ্ড সীমান্ত ছাড়াও 178 কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে ৷ দুই দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তের মধ্যে অনেকটা এলাকা পুরোপুরি অরক্ষিত ৷ এর সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতীদের যাতায়াতও রয়েছে ৷ যদিও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক অরক্ষিত আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে তৎপরতা শুরু করেছে, কিন্তু সেই কাজ শেষ হতে এখনও অনেকটা দেরি ৷ তাই নতুন থানা ও পুলিশ আউটপোস্ট গঠন হলে সীমান্ত এলাকায় পুলিশি নজরদারি স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে ৷ বর্তমানে জেলায় রয়েছে 16টি থানা ৷ এর মধ্যে একটি সাইবার ক্রাইম, একটি জিআরপি এবং একটি মহিলা থানা রয়েছে ৷ এই অবস্থায় রাজ্য সরকার নতুন তিনটি থানা নির্মাণের অনুমোদন দেয় কি না এখন সেটাই দেখার ৷

