অবশেষে স্থায়ী উপাচার্য পেল যাদবপুর, দায়িত্ব নিয়েই ছাত্র-ভোটের পক্ষে সওয়াল চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যর
সোমবার দায়িত্ব গ্রহণ করলেন অধ্যাপক চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। তিনি একই সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতির দায়িত্বও সামলাবেন৷

Published : November 3, 2025 at 3:25 PM IST
কলকাতা, 3 নভেম্বর: প্রায় আড়াই বছর পর স্থায়ী উপাচার্য পেল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। সোমবার উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন অধ্যাপক চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতির পাশাপাশি এবার তিনি সামলাবেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের তরফে এদিন তাঁকে শুভেচ্ছা বার্তা জানানো হয়।
উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করে অধ্যাপক চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, "দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ মাধ্যমিকের দিকটা এখনও অর্ধেক হয়ে আছে। এখানেও বহু বছর স্থায়ী উপাচার্য ছিল না। দুই দিকেই অনেক কাজ রয়েছে। সকলের সহযোগিতায় আশা করি কোনও সমস্যা হবে না।"
এর আগে চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী রেজিস্ট্রার হিসাবে দায়িত্ব সামলেছেন। এছাড়াও তিনি ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অফ ইঞ্জিনিয়ারিং। পাশাপশি 2019 থেকে 2023 সাল পর্যন্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সহ-উপাচার্য ছিলেন। তাঁর সহ-উপাচার্য থাকার সময় থেকেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে দাবি উঠেছিল। সেই নির্বাচন এখনও হয়নি।
এই প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, "সেই সময়ও ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে অনেক দাবি উঠেছিল। আমি এর জন্য চিঠিও দিয়েছিলাম। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়া উচিত। তবে সরকারের অনুমতি লাগে এর জন্য। সেই ব্যাপারে আমি সরকারের সঙ্গে কথা বলে যত শীঘ্রই সম্ভব অনুমতি পাওয়া যায় সেটা আমি দেখব।"
এর পাশাপশি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে বহু শূন্যপদ রয়েছে। বর্তমানে রেজিস্ট্রার, জয়েন্ট রেজিস্ট্রার, সহ-উপাচার্য একজন, সিনিয়র ফিনান্স অফিসার, চারটি বিভাগে ডিন , ডিন অফ স্টুডেন্টস, সেক্রেটারি, ফ্যাকাল্টি সেক্রেটারি নেই। শিক্ষক ফাঁকা প্রায় 40 শতাংশ। নেই পর্যাপ্ত অশিক্ষক কর্মী। এই পদগুলো পূরণ করাই তাঁর কাছে প্রধান গুরুত্ব বলে চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানান।

তিনি বলেন, ‘‘সব থেকে বড় সমস্যা হল প্রচুর পদ ফাঁকা হয়ে আছে। সেইগুলো ভর্তি করার দিকে নজর দিতে হবে। আড়াই বছর ধরে কোনও স্থায়ী উপাচার্য না-থাকায় কোনও স্তরেই কোনও নিয়োগ হয়নি। সেই ঘাটতি পূরণ আমাদের প্রধান নজর থাকবে। সমাবর্তন যাতে নির্বিঘ্নে হয় সেটাও নজরে রাখব।"
অন্যদিকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যাটুট (কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আইন বা নিয়ম) বদল নিয়েও ভাবনা চিন্তা করছেন। তাঁর কথায়, "আমি যখন সহ-উপাচার্য ছিলাম, তখন স্ট্যাটুট নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছিল। ইসিতেও এই বিষয়ে কথা হয়েছিল। কিন্তু নতুন স্ট্যাটুট হয়নি। সেটা নিয়েও এগবো। কারণ, যেকোনও জিনিসকে সময় উপযোগী করতে হবে। কারণ, ওখানে যে জিনিসগুলো ছিল, সেগুলো বর্তমানে মানানসই নয়।"
অন্যদিকে প্রায় দু'বছর আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ব়্যাগিংয়ের জেরে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছিল বলে অভিযোগ। অন্যদিকে কিছুদিন আগে আরও এক ছাত্রী জলে ডুবে মারা যায়। বারবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে উঠে এসেছে নিরাপত্তার প্রশ্ন।
সেই প্রসঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, ’’বিশ্ববিদ্যালয় আমি তিন দশকের উপর চাকরি করছি। আমি এখানকার ছাত্রও ছিলাম। এটা আমার কাছে দ্বিতীয় বাড়ি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্বকীয়তা এবং স্বতন্ত্রতা রয়েছে। সেটাতে মান্যতা দেওয়া হবে। তবে পাশাপাশি সমস্ত স্টেক হোল্ডার দায়িত্বশীল। তাই কী করা উচিত আর কী করা উচিত না, সেটা তারা নিজেরাই বুঝতে পারবে।"

