ETV Bharat / state

মালদা মেডিক্যালে 89টি শিশুর মৃত্যু, সচেতনতায় জোর বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধানের

মালদা মেডিক্যালে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলেন স্বাস্থ্য ভবন নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান ডাঃ প্রলয় আচার্য ৷ তিনি পরিষেবার পাশাপাশি সচেতনতার উপর জোর দিয়েছেন ৷

Child Death in Malda Medical College
মালদা মেডিক্যাল কলেজে বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠক (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 29, 2026 at 5:05 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

মালদা, 29 অগস্ট: শিশুমৃত্যুতে লাগাম পরাতে সবার আগে প্রয়োজন সচেতনতা ৷ সাধারণ মানুষ থেকে শুধু করে মেডিক্যাল কর্মী ও চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে সেকথা সমান প্রযোজ্য ৷ মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর তদন্তে এসে শনিবার এই বিষয়ে জোর দিলেন স্বাস্থ্য ভবন নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান, চিকিৎসক প্রলয় আচার্য ৷

এদিন মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম মুখোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, “অগস্ট মাসে 27 তারিখ পর্যন্ত এখানে 89টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে ৷ অর্থাৎ, গড়ে প্রতিদিন মৃত্যু হয়েছে 3.3 জন শিশুর ৷ একটি মেডিক্যাল কলেজের ক্ষেত্রে শিশুমৃত্যুর এই হার স্বাভাবিক বলেই ধরা হয় ৷"

মালদা মেডিক্যাল কলেজে বিশেষজ্ঞ কমিটি (ইটিভি ভারত)

মালদা মেডিক্যালে অস্বাভাবিক হারে শিশুমৃত্যুর তদন্তের জন্য স্বাস্থ্য দফতর একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করেছে ৷ সেটিতে ডাঃ প্রলয় আচার্য ছাড়াও রয়েছেন রাজশেখর সরকার, ভোলানাথ আইচ, বিজন সাহার মতো চিকিৎসকরা ৷ তাঁরা এদিন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন ৷ বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে আলোচনা করেছেন তাঁরা ৷ কথা বলেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গেও ৷

বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান চিকিৎসক প্রলয় আচার্য বলেন, “17 অগস্ট থেকে এখানে শিশুমৃত্যুর একটা পর্ব চলছে ৷ এমনও দেখা গিয়েছে, একদিনে 18-19টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে ৷ কোথায় কী পদক্ষেপ করলে শিশুমৃত্যুতে রাশ টানা যায়, সেটাই আলোচনার মুখ্য বিষয় ছিল ৷ সাফাইকর্মী থেকে শুরু করে শিশু বিশেষজ্ঞ, সবার সঙ্গেই আলোচনা করা হয়েছে ৷ আশা করা যায়, এই আলোচনার ভিত্তিতে মেডিক্যালের অধ্যক্ষ এবং এমএসভিপির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে ৷"

প্রলয় আরও জানান, গত বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, অগস্ট মাসে শিশুমৃত্যুর হার অন্যান্য বছরের মতোই ছিল ৷ কিন্তু এবার অল্প কয়েকদিনে বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে ৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নিয়েছে ৷ আরও কিছু পদক্ষেপ করা হচ্ছে ৷ খুব তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে ৷

প্রলয় বলেন, "শিশুমৃত্যুতে লাগাম পরাতে মাঠে-ময়দানে যেমন কাজ করতে হবে, তেমনই হাসপাতালে কিছু ব্যবস্থা করতে হবে ৷ সবচেয়ে বড় কথা, একজন মহিলার গর্ভাবস্থা, প্রসবের সময় ও তার পরবর্তী সময়ে মায়ের প্রয়োজনীয় শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি নিয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে ৷ এটা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আমাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ৷ এখানে সচেতনতার বিষয়ে খামতি রয়েছে ৷ এক্ষেত্রেও পদক্ষেপ করা হবে ৷ সবচেয়ে বড় বিষয়, শিশুমৃত্যুর হার কমাতে মেডিক্যাল এবং জেলা স্বাস্থ্য দফতরের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে ৷"

মেডিক্যাল সূত্রে খবর, জুলাই মাসে এখানে 79 জন শিশুর মৃত্যু হয়েছিল ৷ চলতি মাসের 27 তারিখ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে 89টি শিশুর ৷ এর মধ্যে নিওনেটাল কেয়ার ইউনিটে 13 জন এবং 1 ও 2 নম্বর সিক নিউবর্ন কেয়ার ইউনিটে মৃত্যু হয়েছে যথাক্রমে 31 ও 45টি শিশুর ৷ এই 89টি শিশুর মধ্যে পুত্রসন্তান ছিল 60 জন, কন্যাসন্তান 29 জন ৷ এদের মধ্যে 39 জনের ওজন ছিল 1 কিলো 800 গ্রামের নীচে ৷ বাকি 50 জনের ওজন 1 কিলো 800 গ্রামের উপরে ৷ মৃতদের মধ্যে আটটি শিশু ছিল ঝাড়খণ্ডের, তিনটি মুর্শিদাবাদ ও দু'টি গঙ্গারামপুর হাসপাতাল থেকে রেফার হয়ে এসেছিল ৷