ETV Bharat / state

বারুইপুরে নাবালিকার যৌন নির্যাতন-খুন ! পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু অভিযুক্তর

পুলিশের দাবি, তাদের হাতে থাকা অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত ৷ এক রাউন্ড গুলিও চালায় ৷ একপ্রকার বাধ্য হয়েই পাল্টা গুলি চালাতে হয় ৷

police encounter
পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু অভিযুক্তর (প্রতীকী ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 8, 2026 at 9:19 AM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

বারুইপুর, 8 জুলাই: বারুইপুরে নাবালিকার যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় নয়া মোড়। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল। সেই সময় পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে প্রভাস ৷ শুধু তাই নয়, এক রাউন্ড গুলিও চালায় ৷ পুলিশের পাল্টা গুলিতে গুরুতর জখম হয় প্রভাস। তাকে দ্রুত বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত হঠাৎই তাদের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে সতর্ক করা হলেও সে না থামায় বাধ্য হয়ে গুলি চালানো হয়। ঠিক কীভাবে এই ঘটনা ঘটল সে ব্যাপারে পুলিশের তরফে এখনও বিস্তারিত কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি ৷

বারুইপুরে 12 বছরের এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তদন্তে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে প্রভাস মণ্ডল অন্যতম ৷ তদন্তের স্বার্থে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্যই তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেই সময় তার মৃত্যু হল ৷

এই এনকাউন্টারকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সেই রিপোর্ট থেকে একাধিক বিষয় স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে ৷ এদিকে, অভিযুক্তের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বারুইপুর ও সংলগ্ন এলাকায়, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।

ঠিক একদিন আগে বারুইপুরে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৷ নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনার পর তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেতেই তাঁর আসা । বারুইপুরের পুলিশ সুপারের (এসপি) দফতরেই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন তিনি ৷ পাশাপাশি বারুইপুর জেলা পুলিশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সারেন মুখ্যমন্ত্রী ৷

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, নির্যাতনের কথা প্রকাশ্যে আসতে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে যে যুবককে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা হয় তিনি কোনওভাবেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না ৷ তাঁর কথায়, "পুলিশ ও তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে আমি জানতে পেরেছি, গণপিটুনিতে যে ব্যক্তি মারা গিয়েছেন, ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল, তিনি নির্দোষ। তিনিও বিচার পাবেন। তাঁর পরিবারের সঙ্গেও আমি কথা বলেছি।"