ETV Bharat / state

তৃণমূলের 'সমাজবিরোধী' ভাইস চেয়ারম্যানের ওয়ার্ডে প্রবেশ নিষেধ ! পোস্টার ঘিরে বিতর্ক

পোস্টারগুলিতে তৃণমূল কাউন্সিলর রাজর্ষি দাসের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে । তাঁকে 'জমি মাফিয়া', 'সমাজবিরোধী' এবং 'দুর্নীতিগ্রস্ত কাউন্সিলর' বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে ।

Posters in Diamond Harbour
তৃণমূল কাউন্সিলরের নামে পোস্টার ডায়মন্ড হারবারে (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : May 28, 2026 at 5:13 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

ডায়মন্ড হারবার, 28 মে: তৃণমূল কাউন্সিলরকে ওয়ার্ডে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জানিয়ে পোস্টার ৷ এই পোস্টারগুলি পড়েছে দক্ষিণ 24 পরগনার ডায়মন্ড হারবারে ৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে । স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এই পোস্টার সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ৷ যদিও গোটা ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে ডায়মন্ড হারবার পুরসভার 4 নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, মোড়, রাস্তার ধারে ও জনবহুল এলাকায় একাধিক পোস্টার চোখে পড়ে । পোস্টারগুলিতে সরাসরি তৃণমূলের ভাইস চেয়ারম্যান তথা পুরসভার 4 নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাজর্ষি দাসের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে । পোস্টারের ভাষা যথেষ্ট আক্রমণাত্মক বলেই মত স্থানীয়দের একাংশের । কোথাও কোথাও পোস্টারে লেখা রয়েছে, 'ওয়ার্ডে সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্য চলছে', আবার কোথাও অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, 'সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে' ।

'সমাজবিরোধী' তৃণমূল কাউন্সিলরের ওয়ার্ডে প্রবেশ নিষেধ ! ডায়মন্ড হারবারে পোস্টার ঘিরে বিতর্ক (ইটিভি ভারত)

সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে পোস্টারে উল্লিখিত কয়েকটি বিস্ফোরক অভিযোগ । সেখানে দাবি করা হয়েছে, পুরসভা নির্বাচনের সময় ভোট লুট করে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলর রাজর্ষি দাস । যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে কোনও সরকারি বা প্রশাসনিক তথ্য সামনে আসেনি । পাশাপাশি পোস্টারে তাঁকে 'জমি মাফিয়া', 'সমাজবিরোধী' এবং 'দুর্নীতিগ্রস্ত কাউন্সিলর' বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে ।

স্থানীয়দের একাংশের মতে, ওয়ার্ডের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক সমস্যা রয়েছে । কেউ কেউ দাবি করেছেন, সাধারণ মানুষের অভিযোগ ওই তৃণমূল কাউন্সিলরের কাছে গুরুত্ব পায় না । আবার কারও বক্তব্য, এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিক পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে । যদিও অন্য একটি অংশের মত, হঠাৎ করে পোস্টার পড়ার ঘটনায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে । কারণ, ডায়মন্ড হারবারের রাজনীতি বরাবরই যথেষ্ট উত্তপ্ত এবং প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পোস্টার রাজনীতি নতুন কিছু নয় ।

Posters in Diamond Harbour
তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ স্থানীয়দের (নিজস্ব ছবি)

ওয়ার্ডের একাধিক জায়গায় একই ধরনের পোস্টার লাগানো হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করা হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে । স্থানীয়দের একাংশের দাবি, রাতের অন্ধকারে পোস্টার লাগানো হয়েছে । তবে কারা এই পোস্টার লাগিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয় । যদিও পোস্টারে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের নাম উল্লেখ নেই বলে জানা গিয়েছে । ফলে স্বাভাবিকভাবেই রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে ।

এলাকার বাসিন্দা রিজু চট্টোপাধ্যায় বলেন, "অনেকদিন ধরেই তৃণমূল কাউন্সিলর রাজর্ষি দাসের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল । এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষ খুশি নন । নানা সমস্যা রয়েছে । সেই কারণেই হয়তো মানুষ প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছে । তবে এই পোস্টার কারা লাগিয়েছে, সেটা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় ।" আরও এক স্থানীয় বাসিন্দা প্রভাকর পুরকাইত বলেন, "আমরা চাই এলাকায় শান্তি বজায় থাকুক । কিন্তু যদি মানুষের মধ্যে ক্ষোভ থাকে, তাহলে সেটা কেন তৈরি হচ্ছে, সেটাও দেখা দরকার । পোস্টার ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে অনেকেই আলোচনা করছেন ।"

এলাকাবাসী সুলেখা দাস বলেন, "2022 সালের পুরসভার ভোট আমরা দিতে পারিনি ৷ আমরা ভোট দিতে যখন গিয়েছিলাম, তখন তৃণমূল কাউন্সিলর রাজর্ষি দাস বলল যে ভোট হয়ে গিয়েছে এবং আমার মোবাইল ফোন ভেঙে দিয়েছে । এছাড়াও পার্টিগত ব্যাপারে এলাকায় সন্ত্রাস চালাতো ওই কাউন্সিলর । সংখ্যালঘুদের নিয়ে বাড়িতে চড়াও হত । আমার ননদকে মারধরও করেছে । তখন আমরা থানায় গিয়েছিলাম কিন্তু কোনও কাজ হয়নি । আমরা চাই ওইরকম কাউন্সিলর আমাদের এলাকায় যেন না থাকে ।"

বিজেপির বুথ সভাপতি পূর্ণচন্দ্র দত্ত বলেন, "পুর ভোটে আমরা কেউ ভোট দিতে পারিনি ৷ আমাদের হাত থেকে ভোটার স্লিপ এবং ভোটার লিস্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছে । বুথ থেকে ইভিএম মেশিন বের করে নিয়ে ছাপ্পা দেওয়া হয়েছে । আমাদের বাড়ি থেকে বেরোতেই দেয়নি ৷ এলাকায় বহিরাগত লোক এনে সন্ত্রাস চালাতো ওই তৃণমূল কাউন্সিলর রাজর্ষি দাস । এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষের এই পোস্টার দিয়েছে ৷ আমরা এই পোস্টারকে সমর্থন জানাচ্ছি । এই বিধানসভা নির্বাচনেও একইরকম চিত্র দেখা গিয়েছে ৷ তাও এই বিধানসভা নির্বাচনে আমরা ভোট দিতে পেরেছি । কিন্তু আমরা আতঙ্কে ছিলাম ৷ ভোটের ফল বেরনোর পর আমরা একটু স্বস্তি পেয়েছি ।"

যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কাউন্সিলর রাজর্ষি দাসকে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি ৷ তাই তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি ।