স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে সরাসরি যুক্ত রাজগঞ্জের বিডিও, আদালতে দাবি পুলিশের
প্রশান্ত বর্মনের বিমানযাত্রার তথ্য়ও হাতে এসেছে পুলিশের ৷ বিমান যাত্রার তথ্য যাচাই করতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট ৷

Published : November 8, 2025 at 8:29 PM IST
কলকাতা, 8 নভেম্বর: নিউটাউনে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় সরাসরি যুক্ত জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন৷ বিধাননগর পুলিশ শনিবার আদালতে এমনই দাবি করেছে৷ আদালতে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে যে এই নিয়ে তাদের হাতে প্রমাণও রয়েছে৷
এদিকে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের কলকাতায় আসা ও বাগডোরায় ফেরার তথ্য হাতে এসেছে বিধাননগর কমিশনারেটের ৷ সূত্রের খবর, গত 20 অক্টোবর বাগডোগরা থেকে ইন্ডিগোর বিমানে কলকাতায় এসেছিলেন তিনি ৷ আর খুনের পর 29 অক্টোবর ইন্ডিগোর বিমানেই কলকাতা থেকে বাগডোগরায় ফেরেন প্রশান্ত বর্মন ৷
পুলিশ সূত্রে খবর, রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন 20 অক্টোবর বাগডোগরা থেকে ইন্ডিগো 6E-6135 নম্বর ফ্লাইটে কলকাতা আসেন ৷ বিমানের 25E নম্বর (মাঝখানে) আসনে বসেছিলেন তিনি ৷ ওইদিন সন্ধ্যা 7টা 45 মিনিটে বিমানে কলকাতায় নেমেছিলেন প্রশান্ত বর্মন ৷ আর 29 অক্টোবর সন্ধে সাড়ে 6টার সময় তিনি ইন্ডিগোর 6E-6134 নম্বর ফ্লাইটে কলকাতা থেকে বাগডোগরা ফিরে যান ৷ পুলিশ সূত্রে খবর, বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ এবং উড়ান সংস্থার যাত্রী তালিকা থেকে প্রশান্ত বর্মনের নাম ও ছবি হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা ৷
তবে, এই বিষয়ে বিধাননগর কমিশনারেটের তরফে বলা হয়েছে, "তদন্তে নেমে আমরা সংশ্লিষ্ট বিমানের যাত্রীদের নামের তালিকা খতিয়ে দেখেছি ৷ ওই একই নামে অন্য ব্যক্তিও থাকতে পারেন ৷ ফলে বিমানবন্দর থেকে ঢোকা ও বেরনোর সিসিটিভি ফুটেজ বের করেছি ৷ এই বিষয়ে আমরা আরও কিছু তথ্য পেয়েছি ৷ তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে-সঙ্গে সেগুলি নির্দিষ্ট সময়ে জানানো হবে ৷ পুরো বিষয়টি এই মুহূর্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷"
অন্যদিকে, যে সোনা চুরিকে কেন্দ্র করে এত ঘটনা, সেই মামলায় মূল অভিযুক্ত অশোক করকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ ৷ জানা গিয়েছে, মেদিনীপুরের বাসিন্দা অশোক নিউটাউনের গৌরাঙ্গনগরে ভাড়া থাকতেন ৷ প্রায় এক বছর আগে তিনি নিউটাউনের এবি ব্লকের 67 নম্বর বাড়িতে কেয়ারটেকারের কাজ পান ৷ সেই পাঁচতলা বাড়িতেই নিয়মিত যাতায়াত ছিল ওই বিডিও-র ৷ অভিযোগ, ওই বাড়ি থেকেই বেশ কিছু সোনার গয়না চুরি হয়৷ তা বিক্রি করা হয় দত্তাবাদের সোনার দোকানদার স্বপন কামিলার কাছে ৷
পুলিশ সূত্রে খবর, অশোকের দাবি করেছেন যে প্রায় 500 থেকে 600 গ্রামের মতো সোনা তিনি চুরি করেছিলেন ৷ বিষয়টি জানতে পেরে ওই বিডিও নাকি তাঁকে মারধর করেছিলেন বলে অভিযোগ ৷ পরে চাপে পড়ে অশোক সোনার ব্যবসায়ী স্বপনের নাম ফাঁস করেন ৷ এরপর 28 অক্টোবর রাতে অশোক ও স্বপনকে নিউটাউনের বাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ৷
এর পরেরদিন যাত্রাগাছিতে উদ্ধার হয় স্বপনের দেহ ৷ এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, যদি সত্যিই সোনা চুরি হয়ে থাকে, তবে কেন নিউটাউন থানায় অভিযোগ দায়ের না-করে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন বিডিও ? যদিও ওই বিডিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ৷
সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, "পুলিশের উদ্ধার করা সিসিটিভি ফুটেজ ঠিক নয় ৷ পুরোটাই ষড়যন্ত্র ৷ আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে ৷ রাজগঞ্জে এসে আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছিলাম, সেই কারণেই আমার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র ৷"
তিনি আরও দাবি করেছেন, "আমি দাঁতন বা নিউটাউনে যাইনি ৷ আমি আইনজীবী, এলএলবি পাশ করেছি ৷ শীঘ্রই ডক্টরেট ডিগ্রিও পাব ৷ আমি কাজ করতাম বলেই অনেকে 'দাবাং' বলতেন ৷ এখন একটা মিথ্যা অভিযোগে আমায় অভিযুক্ত করা হচ্ছে ৷ তবে পুলিশ ডাকলে অবশ্যই তদন্তে সহযোগিতা করব ৷"
এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসনিক মহল ও নির্বাচন কমিশন ৷ জানা গিয়েছে, 'SIR' কর্মসূচির সময়েও প্রশান্ত বর্মন কেন অনুপস্থিত ছিলেন, তা জানতে চেয়ে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক রিপোর্ট চেয়েছেন ৷ শুক্রবার অবশ্য তিনি জলপাইগুড়িতে অনুষ্ঠিত কমিশনের এসআইআর সংক্রান্ত বিশেষ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ৷

