হিন্দমোটরে পরিত্যক্ত কারখানায় নাবালিকাকে 'গণধর্ষণে'র অভিযোগ, গ্রেফতার নাবালক-সহ 2
হুগলির হিন্দমোটরে একটি পরিত্যক্ত কারখানার ভিতরে নিয়ে গিয়ে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ৷ এই ঘটনায় দু'জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ৷

Published : January 11, 2026 at 8:26 AM IST
উত্তরপাড়া, 11 জানুয়ারি: নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ । মূল অভিযুক্ত দীপঙ্কর অধিকারীর পর শনিবার আরেক অভিযুক্ত নাবালিকার বন্ধুকে গ্রেফতার করল উত্তরপাড়া থানার পুলিশ ৷ দীপঙ্করকে তিনদিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে শ্রীরামপুর আদালত ৷ নাবালিকার বন্ধু যেহেতু নাবালক তাই তাকে হোমে পাঠানো হয়েছে ৷ তিনদিন পর তাকে পকসো আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে ৷
এদিকে বিজেপির অভিযোগ, মূল অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী হওয়ায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ ৷ বৃহস্পতিবার হিন্দমোটরে পরিত্যক্ত কারখানায় নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে দীপঙ্কর-সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ৷ পরিবারের দাবি, নাবালিকাকে গণধর্ষণ করা হয়েছে ৷ শুক্রবার রাতে দীপঙ্করকে গ্রেফতার করে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ ৷
চন্দননগর পুলিশ কমিশনার অমিত পি জাভালগি উত্তরপাড়া থানায় গিয়ে তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলেন ৷ থানা থেকে বেরিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, "নাবালিকার বাবা অভিযোগ করেছেন ৷ তার মেয়ের উপর যৌন নির্যাতন করা হয়েছে ৷ তদন্তে দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ নাবালিকার বন্ধুও নাবালক ৷ তাকে জুভেনাইল কোর্টে পেশ করা হবে ৷ নাবালিকার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে ৷ রিপোর্ট আমরা পেয়েছি ৷ নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে ৷ যে অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার পরিচয় দিয়েছিল সেটা ভুয়ো ৷ তদন্তে করে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷"
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার টিউশন শেষে বাড়ি ফিরছিল নির্যাতিতা ৷ তার সঙ্গে আরও দু'জন বন্ধু ছিল ৷ তখন তাদের পথ আটকায় দীপঙ্কর অধিকারী ৷ তার সঙ্গে ছিল আরও দু'জন ছেলে ৷ প্রথমে ওই কিশোরী ও তার বন্ধুদের ছবি তোলার চেষ্টা করে দীপঙ্কর ৷ তারা প্রতিবাদ করলে নিজেকে সিভিক ভলান্টিয়ার বলে পরিচয় দেয় দীপঙ্কর ৷ ওই কিশোরী ও তার বন্ধুদের জোর করে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ৷
অভিযোগ, ওই নাবালিকাকে স্থানীয় একটি পরিত্যক্ত কারখানায় নিয়ে যায় দীপঙ্কর ও তার সঙ্গীরা ৷ সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় ৷ তারপর সেখান থেকে পালিয়ে যায় দীপঙ্কর ও অন্যরা ৷ এরপর নির্যাতিতা নাবালিকা ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৷ তার মা ঘটনাস্থলে পৌঁছন ৷ সেখান থেকে মেয়েকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান তিনি ৷ পরে উত্তরপাড়া থানায় গিয়ে দীপঙ্কর ও তার সঙ্গে থাকা দু'জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে নির্যাতিতা কিশোরী ও তার পরিবার ৷
এই ঘটনার পরই তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে বিজেপি ও সিপিএম ৷ শ্রীরামপুর আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে অভিযুক্তকে প্রশ্ন করা হলে দীপঙ্কর দাবি করে, তাকে ফাঁসানো হচ্ছে ৷ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তাকে বাঁচানোর আবেদন জানায় ৷
এই বিষয়ে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "যে ধর্ষণ করেছে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে । কার সঙ্গে কী ছবি আছে সেটা আলাদা বিষয় । মেয়েটির অভিযোগ প্রমাণ করার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের । আমরা চাইব সর্বোচ্চ সাজা হোক । যে যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাকে আগেই বহিষ্কার করা হয়েছে । আমি কোনও ক্রিমিনালকে সাহায্য করি না । যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নির্যাতনের অভিযোগ আসে আমি তাদের ঘৃণা করি । বিজেপিতে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণকারীরা রয়েছে । 2021সালে কৈলাস বিজয়বর্গীরা কী করে গিয়েছিল । কত মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন সকলেই জানেন ।"
হুগলি শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের যুব সভানেত্রী প্রিয়াঙ্কা অধিকারী বলেন, "আমরা আগেও বলেছি এই অভিযুক্ত দীপঙ্কর তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত নয় ৷ তৃণমূলের কোনও নেতা বা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করলেও কেউই এটা সমর্থন করবে না ৷"
অভিযুক্ত দীপঙ্করের সঙ্গে তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের ছবি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ৷ সেই বিষয়ে তৃণমূল যুবনেত্রীর দাবি, "ছবি যে কারওর সঙ্গেই থাকতে পারে ৷ কার মনে কী আছে, আমরা আগে থাকতে বলতে পারব না ৷ যে দোষী, তার শাস্তির ব্যবস্থা করবে পুলিশ ৷ বিজেপির অভিযোগ মানায় না ৷ যেখানে বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার, সেখানেই এমপি ও এমএলরা ধর্ষণকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ৷"
বিজেপি নেতা প্রণয় রায় বলেন, "তৃণমূলের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে ছবি রয়েছে অভিযুক্ত দীপঙ্করের ৷ অভিযুক্ত তৃণমূলের যুবনেতা হওয়ায় পুলিশ মামলাটি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করছে ৷ অভিযোগকারী পরিবারকে ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে ৷ এই ঘটনায় যারা অভিযুক্ত তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। আর ধর্ষণকে শ্লীলতাহানি বলে চালানোর চেষ্টা না করা হয় ৷ হিন্দমোটরের মতো জায়গায় সন্ধ্যায় এই ঘটনা থেকে প্রমাণ হয় যে রাজ্যের কী অবস্থা ৷" এদিন উত্তরপাড়া থানার সামনে এআইডিএসওর পক্ষ থেকেও বিক্ষোভ দেখানো হয় ৷ দোষীদের শাস্তির দাবি তোলা হয়েছে বিজেপির পক্ষ থেকে ৷

