ম্যাচ গড়াপেটা-কাণ্ডে তোলপাড় ময়দান, গ্রেফতার খিদিরপুর ক্লাবের 2 কর্তা
ধৃত দু’জন বিভিন্ন ফুটবল প্রতিযোগিতায় গড়াপেটার সঙ্গে যুক্ত৷ তাঁদের জেরা করে এই চক্রে আর কে কে জড়িত আছে, তা জানার চেষ্টা করছে কলকাতা পুলিশ৷

Published : November 3, 2025 at 4:30 PM IST
কলকাতা, 3 নভেম্বর: ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কাদা লাগল কলকাতা ময়দানে৷ কলকাতার বিভিন্ন লিগ ও ফুটবল টুর্নামেন্টের ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগ উঠেছে৷ এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ৷ ধৃতদের একজন খিদিরপুর ক্লাবের কর্তা৷ নাম আকাশ দাস৷ দ্বিতীয় জন ওই ক্লাবেরই মিডিয়া ম্যানেজার৷ নাম রাহুল সাহা৷ আকাশই এই ম্যাচ গড়াপেটা-কাণ্ডের অন্যতম মূলচক্রী বা কিংপিন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন৷
ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়ে গিয়েছে কলকাতা ময়দানে৷ আকাশ দাস ও রাহুল সাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতা ফুটবলে সক্রিয় এক ম্যাচ গড়াপেটা চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাঁরা৷
কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার বিভিন্ন লিগ ও টুর্নামেন্টে খেলার ফলাফল আগেভাগে ঠিক করে মোটা অঙ্কের লেনদেন চলত। সন্দেহ করা হচ্ছে, ক্লাবের কিছু খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। আকাশ দাসের মোবাইল ফোন ও একাধিক আর্থিক নথি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে এই চক্রের পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
কলকাতা পুলিশ সূত্রের খবর, আকাশ দাসের ওপর নজর ছিল পুলিশের। রবিবার তাঁকে লালবাজারে তলব করা হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়ায় রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, কলকাতা ফুটবলে ফিক্সিংয়ের মূল সূত্র এখান থেকেই পাওয়া যেতে পারে।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার বলেন, "আমরা ধৃতদের কাছ থেকে একাধিক নাম পেয়েছি। যাঁদের নাম পেয়েছি, তাঁদেরকেও এই তদন্তের আওতাধীন এনে জিজ্ঞাসাবাদ করব। এই বিষয়ে আর যা যা আপডেট পাওয়া যাবে, সমস্ত কিছু জানানো হবে৷"
এদিকে এই ম্যাচ গড়াপেটার মাধ্যমে আইএফএ-কে প্রতারণা অভিযোগ দায়ের হয়েছে বউবাজার থানায়৷ অভিযোগ দায়ের করেছেন কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি রাউডি স্কোয়াড (গুন্ডা দমন শাখা)-র সাব ইনস্পেক্টর সন্দীপ দত্ত। লালবাজার সূত্রের খবর, অভিযুক্তরা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছে। সেখানে আন্তর্জাতিক যোগ থাকতে পারে৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।
এই ঘটনায় আইএফএ (সেক্রেটারি) অনির্বাণ দত্ত ইটিভি ভারতকে বলেন, "এই অভিযোগ আমরা এর আগেও পেয়েছি। গত শুক্রবার আমি এবং আইএফএ-র প্রেসিডেন্ট কলকাতার নগরপাল মনোজ কুমার ভার্মার সঙ্গে একটি বৈঠক করি এবং পুলিশকে এই ঘটনায় পদক্ষেপ করতে বলি। তার কিছুদিনের মধ্যেই আমরা হাতেনাতে তার ফল পেলাম। কলকাতা পুলিশের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই৷"
বহু ফুটবলপ্রেমী ও প্রাক্তন খেলোয়াড়ের প্রশ্ন, খেলার আবেগকে পুঁজি করে এমন দুর্নীতি এতদিন কীভাবে নজর এড়িয়ে চলছিল? কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কাণ্ডে জড়িত অন্যদেরও চিহ্নিত করা হচ্ছে। শীঘ্রই আরও কয়েকজনকে তলব করা হতে পারে।
ফলে, একসময়ের ‘মর্যাদার ময়দান’ এখন কাঁপছে দুর্নীতির ঝড়ে। তদন্তকারীদের আশা, দ্রুতই এই গড়াপেটা চক্রের সমস্ত দিক প্রকাশ্যে আসবে। ফলে আগামিদিনে ময়দানের আর কার কার নাম বেরিয়ে আসে এই গড়াপেটা-কাণ্ডে৷

