নির্দেশকে বুড়ো আঙুল, রুফটপ রেস্তোরাঁ অভিযানে গিয়ে হতবাক পুলিশ-পুরনিগম
রুফটপ রেস্তোরাঁ অভিযানে গিয়ে পুলিশ ও কলকাতা পুরনিগমের যৌথ দল দেখেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানা হয়নি নির্দেশ ৷


Published : December 10, 2025 at 6:12 PM IST
কলকাতা, 10 ডিসেম্বর: মেছুয়া ফলপট্টির হোটেলে ভয়াবহ আগুন ও 13 প্রাণের বলির পর শহরের রুফটপ রেস্তোরাঁ ও পানশালা অভিযান চালিয়ে বন্ধ করেছিল পুলিশ ও পুরনিগম । পরে শর্ত চাপিয়ে ও বন্ডে সই করিয়ে পুজোর মুখে সেগুলি খুলতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল । তবে নিরাপত্তার শর্ত থেকে গিয়েছে খাতায় কলমেই । কলকাতায় কমপক্ষে 20-25টি বড় রুফটপ রেস্তোরাঁ ও পানশালায় ফের যৌথ অভিযান চালিয়ে সেই ছবিই দেখল পুলিশ ও কলকাতা পুরনিগম ৷
পুজোর মুখে ছাদ-রেস্তোরাঁ, পানশালা খোলার জন্য একাধিক শর্ত দেওয়া হয়েছিল । রাস্তার ধারে 50 শতাংশ ছাড় দেওয়া, সিঁড়ি খোলা রাখা, ছাদের দরজা খোলা রাখা, কোনো ধরনের গ্যাস ব্যবহার না-করা, বারান্দা বা কমন স্পেস দখল না-করে রাখা, যাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধারকাজ চালাতে বেগ পেতে না-হয়, বিপদ ঘটলেও যাতে প্রাণহানি না-হয় - এই সব শর্ত দেওয়া হয়েছিল ৷

পরিকাঠামো তৈরি করতে কয়েকমাস সময় দেওয়া হয়েছিল । সেই সময় শেষে শুরু হল শহর জুড়ে অভিযান । গত দুই দিনে 20-25টি ছাদ-রেস্তোরাঁ ও পানশালায় হানা দিয়েছে দমকল, পুলিশ ও পুরনিগমের যৌথ বাহিনী । কেএমসি সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, যে সমস্ত শর্ত দেওয়া হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলি মানেনি কেউ । অনেক জায়গায় নেই অগ্নি নির্বাপন যন্ত্র । কারও আবার ফায়ার লাইসেন্স নেই । ব্যবহার হচ্ছে গ্যাস । হাতে গোনা দুই-একটি মাত্র ছাদ-রেস্তোরাঁ ও পানশালা সমস্ত নিয়ম মেনে চলছে ৷
পরিদর্শনকারীরা 30-টিরও বেশি বিষয় খতিয়ে দেখেছে । এক আধিকারিকের মতে, "আমরা অধিকাংশ জায়গায় দেখেছি শর্ত মেনে চলছে না । সেখানে আমরা আবার সতর্ক করে জানিয়ে এসেছি, দ্রুত আমাদের নির্দেশগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে । আবারও অভিযান চালিয়ে ছবি বদল না-হলে আইন মাফিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে । প্রয়োজনে ব্যবসা বন্ধের পথে হাঁটা হতে পারে । সেটা আমরা চাইছি না মানবিক স্বার্থে । তবে মানুষের জীবনের ঝুঁকি থাকবে, মৃত্যুফাঁদ হয়ে থাকবে, এটা মানা যাবে না ।"
এই কয়েকদিন লাগাতার এভাবে আচমকা অভিযান চলবে বলে জানানো হয়েছে । যেখানে অগ্নিনির্বাপনের জন্য যথাযথ পরিকাঠামো তৈরি হয়নি, সেখানে দ্রুততার সঙ্গে তা করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ওই আধিকারিক ৷

