ETV Bharat / state

প্রাথমিকের 32 হাজার চাকরি বহাল, হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা

প্রাথমিকে 32 হাজার শিক্ষকের চাকরি নিয়ে দেশের শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের হল ৷ গত 3 ডিসেম্বর এই মামলায় চাকরি বহাল রাখে হাইকোর্ট ৷

Supreme Court
সুপ্রিম কোর্টে (ফাইল)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 25, 2026 at 3:09 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 25 ফেব্রুয়ারি: প্রাথমিকে 32 হাজার চাকরি বহাল রাখার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন মূল মামলাকারী সুপর্ণা নস্কর ৷ মামলাকারীদের তরফে শীর্ষ আদালতে এসএলপি দায়ের করে অভিযোগ করা হয়েছে, দুর্নীতি করে পাওয়া চাকরি মানবিকতার অজুহাতে বজায় রেখেছে হাইকোর্ট ৷

গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির হদিশ পেয়ে এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের একক বেঞ্চ ওইসব চাকরি বাতিল করেছিলেন ৷ এদিকে দুর্নীতি করে নিয়োগের যাবতীয় তথ্য প্রমাণ থাকার পরেও ডিভিশন বেঞ্চ শুধু মানবিকতার যুক্তিতে ওই চাকরি বজায় রেখেছে, যা বেআইনি ৷ আগামী সপ্তাহে শীর্ষ আদালতে মামলাটির শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে ৷

এই 32 হাজার চাকরির মামলায় ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট ফাইল করেছে কর্মরত শিক্ষকরা ৷ হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যদি কোনও আবেদনন দায়ের হয়, তাহলে সেই মামলায় তাঁদের বক্তব্য না-শুনে যাতে শীর্ষ আদালত কোনও নির্দেশ না-দেয়, তাই এই ক্যাভিয়েট দাখিল করা হয়েছে ৷

2016 সালের প্রাথমিকে নিয়োগের ক্ষেত্রে মূল অভিযোগ ছিল, প্রশিক্ষণ নেননি এমন শিক্ষকদের নিয়োগ করা হয়েছে ৷ তাঁদের অ্যাপটিটিউড টেস্ট নেওয়া হয়নি এবং এস বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানিকে নিয়োগের কাজে লাগানো হয়েছিল সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূত ভাবে ৷

গত 3 ডিসেম্বর 32 হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট ৷ এই মামলার রায় দেওয়ার সময় বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, 32 হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল করতে পর্যাপ্ত অনিয়মের প্রমাণ প্রয়োজন ৷ এই নিয়োগের ক্ষেত্রে বিপুল দুর্নীতির প্রমাণ সিবিআই তদন্তেও উঠে আসেনি ৷ তাই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের 2023 সালের 12 মে চাকরি বাতিলের যে রায় দিয়েছিলেন, তা খারিজ করে ডিভিশন বেঞ্চ ৷

ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি থাকলে তা বাতিল করার পক্ষেই আদালত ৷ কিন্তু এই ক্ষেত্রে সিবিআই তদন্তে 96 জন এমন শিক্ষক রয়েছেন, যাঁরা পাশ না-করা সত্ত্বেও চাকরি পেয়েছিলেন ৷ সিবিআই তাঁদের চিহ্নিত করেছে ৷ পাশাপাশি 264 জন প্রার্থীর ক্ষেত্রে অনিয়ম পেয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ৷ যদিও সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের চাকরি এখনও বাতিল করেনি ৷ তাঁদের বিষয়ে যেমন তদন্ত চলছে, তা চলবে ৷ এই পরিপ্রেক্ষিতে 32 হাজার চাকরি নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয় ৷

2023 সালের 12 মে প্রাথমিকের 32 হাজার চাকরি বাতিল করে দেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ৷ রাজ্য সরকার এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় ৷ বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতি সুপ্রতীম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্তের উপর স্থগিতাদেশ দেয় ৷

পরে মামলা আসে বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চে । কিন্তু গত বছরের 7 এপ্রিল বিচারপতি সৌমেন সেন ব্যক্তিগত কারণে মামলাটি থেকে সরে দাঁড়ান । এরপর 28 এপ্রিল থেকে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি শুরু হয় ৷ 2 বছরের কিছু বেশি সময় ধরে শুনানি চলার পর গত 3 ডিসেম্বর এই মামলার রায় দেয় ডিভিশন বেঞ্চ ৷