বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুদের জেল-মুক্তির আর্জি, হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা
আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা শরণার্থী হিন্দুদের জেলে বন্দি করে রাখা যাবে না ৷ রাজ্যের জেলে বন্দি এই রকম বহু হিন্দু ৷

Published : November 3, 2025 at 9:33 PM IST
কলকাতা, 3 নভেম্বর: আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের ভারতের বিভিন্ন জেলে আটকে রাখা হয়েছে ৷ নিম্ন আদালত নানা অজুহাতে তাদের জামিন দিচ্ছে না ৷ তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক ৷ এই দাবি জানিয়ে সোমবার জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল কলকাতা হাইকোর্টে ৷
মামলাকারী গোপাল গয়ালির তরফে আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারির বক্তব্য, চলতি বছরের 1 সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায় আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আগত ওই দেশের সংখ্যালঘু শরণার্থীদের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি পদক্ষেপ করা যাবে না ৷ তা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন রাজ্যে তাদের জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছে ৷ তাদের ছেড়ে দেওয়া হোক ৷
এই দাবি নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়েরের আবেদন জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি ৷ ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল জানিয়েছেন আগে মামলা দায়ের হোক ৷ তারপর শুনানি গ্রহণ করা হবে ৷
আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি বলেন, "2024 সালের আগে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় এসে বাস করছেন হিন্দুরা ৷ তাঁদের পাসপোর্ট ইস্যুতে গ্রেফতার করতে বারণ করা হলেও, অদ্ভুত যুক্তি দিয়ে আটক করা হচ্ছে ৷ নিম্ন আদালত নানান অজুহাতে জামিন দিচ্ছে না ৷ কেন্দ্রীয় সরকারের অভিভাষণ দফতরের বিজ্ঞপ্তি সত্ত্বেও তাঁদের ছাড়া হচ্ছে না ৷ সেই জন্য একটা জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে ৷ ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি অনুমতি মামলা দায়ের করার দিয়েছেন ৷"
উল্লেখ্য বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে আসা সংখ্যালঘুদের (হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টানরা) ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হলে বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়া প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে ৷ এটি ভারতে 'ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স (এক্সেম্পশন) অর্ডার, 2025'-এর অন্তর্ভুক্ত ৷ এই নির্দেশে বলা হয়েছে, এই সম্প্রদায়ের মানুষরা ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হলে তাঁরা ভারতে প্রবেশ করতে পারবে ৷
এদিকে সোনালি খাতুন-সহ ছয় পরিযায়ীকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে দাগিয়ে তাঁদের বাংলাদেশে পাঠানোর ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ করেনি কেন্দ্রীয় সরকার ৷ গত 26 জুন দিল্লি থেকে অসম সীমান্তে নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে তাঁদের বাংলাদেশে পাঠানো হয় ৷ এদিকে তাঁরা আদালতে দাবি করেছেন, তিন প্রজন্ম ধরে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের মুরারইয়ের পাইকরে বাস করছেন ৷ অন্তঃসত্ত্বা সোনালি বিবি-সহ বাকিরা এখনও বাংলাদেশে রয়েছেন ৷

