SIR প্রক্রিয়ায় এলআইসি আধিকারিকদের নিয়োগ, কমিশনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা
এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের কাজে এলআইসি'র আধিকারিকদের যুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন ৷ এর বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ আধিকারিকরা ৷

Published : January 2, 2026 at 8:44 PM IST
কলকাতা, 2 জানুয়ারি: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে রাজ্যে ৷ এই প্রক্রিয়ায় LIC (লাইফ ইনস্যুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া) আধিকারিকদের কেন নিযুক্ত করা হবে ? এই প্রশ্ন তুলে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা দায়ের হল কলকাতা হাইকোর্টে ৷ জরুরি ভিত্তিতে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা ৷
এই মামলায় এলআইসি'র ডেভেলপমেন্ট অফিসারদের এসআইআর প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে । মামলাকারীদের বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকলে জীবন বিমার কাজ থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে আধিকারিকদের ৷ এর ফলে একাধিক সমস্যায় পড়তে হবে ডেভেলপমেন্ট অফিসারদের ৷ তাঁদের আর্থিক ক্ষতিও হবে ৷ তাই এসআইআর-এর কাজ থেকে অব্যাহতি চেয়ে মামলা করেছেন তাঁরা ৷
লাইফ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য, তাঁদের আসল কাজের ক্ষতি করে নির্বাচন কমিশন তাঁদের এই কাজে নিযুক্ত করেছে ৷ এর ফলে তাঁদের বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে ৷ আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে কমিশন চুপ করে রয়েছে ৷ বছরের শেষে তাদের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হবে এ বিষয়ে তারা কমিশনকে জানিয়েছিল ৷ কিন্তু কমিশন কোনও উচ্চবাচ্য করেনি ৷ বিচারপতি অমৃতা সিনহা আগামী সপ্তাহে মামলাটি শুনতে পারেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন ৷
উল্লেখ্য এর আগে স্কুলের শিক্ষকদের কেন বিএলও হিসাবে নিযুক্ত করা হবে সেই প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছিল একের পর এক মামলা ৷ বিচারপতি অমৃতা সিনহাই শিক্ষকদের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এবং তাঁদের এই কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন ৷ তবে ছুটির দিন যাতে কাজ দেওয়া সে বিষয়টি কমিশনকে খেয়াল রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন ৷ আপাতত এলআইসি অফিসারদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন বিচারপতি সেদিকে নজর রাখছে সব পক্ষই ৷
রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর প্রথম থেকেই এনিয়ে নানা মামলা আদালতে দায়ের হয়েছে ৷ এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ৷ এত কম সময়ে এসআইআর প্রক্রিয়া করা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছে ৷ প্রক্রিয়াটি শুরু হয় 4 নভেম্বর থেকে ৷ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিতরণ প্রক্রিয়া চলে 4 ডিসেম্বর পর্যন্ত ৷ এরপর 16 ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয় ৷ এই তালিকায় অনেক জীবিতকে মৃত দেখানো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ৷ পাশাপাশি একাধিক বিএলও'র মৃত্যুর জন্য প্রক্রিয়ার কাজের চাপকেই দায়ী করেছে শাসকদল তৃণমূল ৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ৷

