বাইক থেকে নেমে পরপর গুলি ! মধ্যমগ্রামে খুন শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক
খুব কাছ থেকে থেকে চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে পর গুলি চলেছে । খুনের ধরন দেখে পুলিশের অনুমান নির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতেই এই কাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে ।

Published : May 7, 2026 at 12:03 AM IST
কলকাতা, 7 মে: শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে খুন। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে। তাঁর বুকে পিঠে এবং মাথায় গুলি লাগে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। খুব কাছ থেকে থেকে চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে পর গুলি চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্তারা । খুনের ধরন দেখে তাঁদের অনুমান নির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতেই এই কাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে । 15 বছরের জঙ্গলরাজের ফল বলে তোপ দেগেছেন শুভেন্দু । ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে তৃণমূল থেকে শুরু করে বাম ও কংগ্রেস ।
গুরুতর আহত হয়েছেন গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেড়া। তাঁর লিভার, ডান ফুসফুস ও ডান কাঁধ এবং হাতের সংযোগ স্থলে গুলি লেগেছে বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা। প্রথমে তাঁকেও ওই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল । পরে বাইপাসের ধারের একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় । তাঁর চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল টিম তৈরি করা হয়েছে। শেষ পাওয়া খবর, তাঁর জ্ঞান ফিরেছে। কিন্তু অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকদের আশঙ্কা প্রচুর পরিমাণে রক্তক্ষরণ হয়েছে। কিন্তু প্রাথমিক চিকিৎসা হওয়া অনেকটা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গিয়েছে বলে খবর হাসপাতাল সূত্রে।

ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী মধ্যমগ্রামের ওই হাসপাতালে পৌঁছন। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, দলের নেতা অর্জুন সিং-সহ আরও অনেকেই সেখানে উপস্থিত আছেন । এসে পৌঁছেছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তাও । মধ্যমগ্রামের ওই হাসপাতালের বাইরে এই মুহূর্তে প্রচুর বিজেপি সমর্থক ভিড় করেছেন । তাঁদের একাংশ তৃণমূলকেই এই ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতে সাদা রংয়ের স্করপিও গাড়ি নিয়ে মধ্যমগ্রামের একটি ব্যস্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন চন্দ্রনাথ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সব কিছু স্বাভাবিক ছিল। প্রথমে একটি ছোট চারচাকা গাড়ি চন্দ্রনাথের গাড়ির পথ আটকায়। পরে হঠাৎই একটি মোটরবাইকে করে কয়েকজন যুবক দ্রুত গতিতে সেখানে এসে থামে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যায়। কোনও রকম বচসা ছাড়াই তারা চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। পরে পথ আটকানো ছোট চার চাকা গাড়িটি ফেলে বাইকে উঠে দুই দুস্কৃতী এলাকা ছাড়ে ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী হামলাকারীরা অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি চালায়। গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পথচারীরা ছুটে পালাতে শুরু করেন, আশপাশের দোকানপাট তড়িঘড়ি বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক। তারপরই বাইকে চেপে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। চিকিৎসকদের প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, বুকের বাঁ দিকে দুটি গুলি লাগে, যার মধ্যে একটি সরাসরি হৃদপিণ্ড ভেদ করে যায়। অন্য গুলিটিও মারাত্মকভাবে বুক ক্ষতবিক্ষত করে। এছাড়াও একটি গুলি পেটের অংশে লাগে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং হৃদপিণ্ডে আঘাতের জেরেই ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর বলে অনুমান করা হচ্ছে ।
ঘটনার পরই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে হাত লাগান। দ্রুত তাঁকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় মধ্যমগ্রাম থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তের নমুনা, বুলেটের খোসা সহ একাধিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। আশপাশের রাস্তা ও দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলাকারীদের গতিবিধি এবং পালানোর রুট চিহ্নিত করতে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

