জেলমুক্তির এক মাস পর বিধানসভায় পৌঁছল পার্থর চিঠি, স্ট্যান্ডিং কমিটিতে ঠাঁই নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা
মন্ত্রী বাদে সব বিধায়করা বিধানসভার স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য হন। সাধারণত, প্রত্যেক বিধায়ক দু'টি করে কমিটির সদস্য হন।

Published : December 11, 2025 at 3:43 PM IST
কলকাতা, 11 ডিসেম্বর: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ 39 মাস হাজতবাসের পর ঘরে ফিরেছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। হাসপাতাল থেকে গত 11 নভেম্বর তিনি বাড়ি ফিরলেও, খাতায়-কলমে তাঁর জেলমুক্তির খবর বিধানসভার কাছে পৌঁছতে সময় লাগল প্রায় এক মাস।
অবশেষে জেল কর্তৃপক্ষের তরফে সেই চিঠি বিধানসভায় পৌঁছনোর পরেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা ৷ দল থেকে সাসপেন্ড হলেও বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে কি এবার বিধানসভার কোনও স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য করা হবে ? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
জেলমুক্তির পর পার্থ চট্টোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই বিধানসভা অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, কোনও বিধায়ক গ্রেফতার হলে বা জেলমুক্ত হলে, সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা বা জেল কর্তৃপক্ষকে তা লিখিতভাবে বিধানসভার স্পিকার বা সচিবালয়কে জানাতে হয়। সংবাদমাধ্যমের দৌলতে প্রাক্তন মন্ত্রীর মুক্তির খবর আগেই চাউর হয়েছিল, কিন্তু সরকারিভাবে কোনও নথি বিধানসভায় এসে পৌঁছয়নি এতদিন । দল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার কারণেই এই যোগাযোগে বিলম্ব কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। তবে এক মাসের মাথায় জেল কর্তৃপক্ষের চিঠি পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে বিধানসভা কর্তৃপক্ষ।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে বিধানসভার স্ট্যান্ডিং কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে আলোচনা। সাধারণত মন্ত্রী এবং বিধায়করা বিধানসভার বিভিন্ন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য থাকেন। কিন্তু 2011 থেকে 2022 সাল পর্যন্ত রাজ্য রাজনীতির অন্যতম দাপুটে নেতা এবং মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও পার্থ কোনও কমিটির সদস্য ছিলেন না। মন্ত্রিত্ব যাওয়ার পর এখন তিনি শুধুই বিধায়ক । এই পরিস্থিতিতে, এবারই হয়তো প্রথমবার তাঁকে কোনও স্ট্যান্ডিং কমিটিতে জায়গা দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে ৷
উল্লেখ্য, 2022 সালে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি'র হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তারপর থেকে দীর্ঘ 39 মাস তিনি বিচারবিভাগীয় হেফাজতে ছিলেন। অবশেষে 2025 সালে তিনি জামিন পান, তবে তা ছিল শর্তসাপেক্ষ। আদালতের নির্দেশ মেনে 8 জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পূর্ণ হওয়ার পর এবং জামিনের শর্ত বাবদ 90 হাজার টাকা জমা করার পরেই তাঁর জেলমুক্তি হয় । গত 11 নভেম্বর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার সময় তাঁকে বেশ আবেগপ্রবণ হতে দেখা গিয়েছিল।
আপাতত, বিধানসভা কর্তৃপক্ষ তাঁকে কোন কমিটির দায়িত্ব দেয় এবং আসন্ন অধিবেশনে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকা কী থাকে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

