পঞ্চায়েতের নথি নিয়ে মাঝরাতে তৃণমূল নেতার বাড়িতে অঞ্চল সহায়ক, হাতেনাতে ধরল এলাকাবাসী
বিজেপির অভিযোগ, ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে । প্রমাণ লোপাট করাই উদ্দেশ্য ছিল, প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে ৷

Published : May 28, 2026 at 2:46 PM IST
কোচবিহার, 28 মে: গভীর রাতে গ্রাম পঞ্চায়েতের গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে তৃণমূল নেতার বাড়িতে হাজির হলেন এক অঞ্চল সহায়ক ! সেই খবর ছড়াতেই এলাকাবাসী ও বিজেপি কর্মীরা হাতেনাতে পাকড়াও করলেন ওই কর্মীকে । ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে উত্তেজনা ছড়ায় কোচবিহারের শীতলকুচির নগর সিঙ্গিমারি এলাকায় । পরে পুলিশ এসে ওই অঞ্চল সহায়ককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় ।
স্থানীয় সূত্রের খবর, অভিযুক্ত আবুল ছালাম মিয়া গোলেনাওহাটি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের অঞ্চল সহায়ক হিসেবে কর্মরত । অভিযোগ, বুধবার গভীর রাতে তিনি গ্রাম পঞ্চায়েতের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতা মফিদুল মিয়ার বাড়িতে যান ।
স্থানীয়দের দাবি, রাতের অন্ধকারে দরজা বন্ধ করে নথি নিয়ে কাজ চলছিল । বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকাবাসীরা সেখানে পৌঁছে যান । পরে বিজেপি নেতৃত্বও ঘটনাস্থলে হাজির হন । অভিযোগ ওঠে, গুরুত্বপূর্ণ নথি সরিয়ে ফেলা বা নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই ওই নথি তৃণমূল নেতার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ।
বিজেপির 6 নম্বর মণ্ডল সভাপতি পুলিন বর্মনের দাবি, "অঞ্চল অফিসের নথিপত্র তৃণমূল নেতার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পিছনে একটাই উদ্দেশ্য থাকতে পারে, প্রমাণ লোপাট করা । ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে । প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিক ।"

স্থানীয় বাসিন্দা কেশব হাজরাও বলেন, "আমরা হাতেনাতে ধরে ফেলেছি । গ্রাম পঞ্চায়েতের নথি কেন ব্যক্তিগতভাবে নেতার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হল, তাও আবার সকলকে এড়িয়ে মধ্যরাতে, তার জবাব মিলছে না । এর পিছনে বড় কোনও ষড়যন্ত্র থাকতে পারে ।" যদিও অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা মফিদুল মিয়ার স্ত্রী কাজলী খাতুন দাবি করেছেন, "ওই ব্যক্তি আগে কখনও আমাদের বাড়িতে আসেননি । ফোন না করেই এসেছিলেন । বর্তমানে আমার স্বামীর সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই ।"
অন্যদিকে পুলিশের হাতে আটক অঞ্চল সহায়ক আবুল ছালাম মিয়াঁ স্বীকার করেছেন, নথি নিয়ে যাওয়াটা তাঁর 'ভুল' হয়েছে । তবে কেন তিনি সরকারি নথি নিয়ে তৃণমূল নেতার বাড়িতে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা মেলেনি । ঘটনার খবর পেয়ে শীতলকুচি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে । পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে । সরকারি নথি ব্যক্তিগত বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করেই জানা যাবে ।
এখন প্রশ্ন একটাই, গভীর রাতে পঞ্চায়েতের গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে তৃণমূল নেতার বাড়িতে কেন গিয়েছিলেন অঞ্চল সহায়ক ? সেই উত্তর খুঁজতেই সরগরম শীতলকুচির নগর সিঙ্গিমারি ।
আরও পড়ুন:

