ETV Bharat / state

ক্লাবকে পার্টি অফিস বানিয়ে থাকতেন বান্ধবীদের নিয়ে ! বিক্ষোভের পরই ইস্তফা পঞ্চায়েত প্রধানের

ক্লাবে ফ্রিজ, টিভি, এসি কী নেই ! সেখানে নাকি রান্নাবান্নাও চলে ৷ এমনই নানা অভিযোগ নিয়ে প্রধানের বাড়ি ঘেরাও করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা ৷

ETV BHARAT
বিক্ষোভের পরই পদত্যাগ পঞ্চায়েত প্রধানের (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 3, 2026 at 5:09 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

জলপাইগুড়ি, 3 জুলাই: পাড়ার ক্লাবকে নাকি পার্টি অফিস বানিয়েছিলেন তৃণমূল পরিচালিত অরবিন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রাজেশ মণ্ডল । স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই ক্লাবেই থাকতেন তাঁদের বান্ধবীরা ৷ ক্লাবে ফ্রিজ, টিভি, এসি কী নেই ! সেখানে নাকি রান্নাবান্নাও চলত ৷ এমনই নানা অভিযোগ নিয়ে প্রধানের বাড়ি ঘেরাও করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা ৷ এদিকে, বাড়ি ঘেরাও হওয়ার পরেই গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান পদ থেকে ইস্তফা দেন রাজেশ মণ্ডল । তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তিনি মানতে চাননি ৷ তাঁর দাবি, রাজ্যে পালাবদলের পর কাজ করতে পারছিলেন না বলেই পদত্যাগ করেছেন ৷

স্থানীয় বাসিন্দা সুস্মিতা দাস বলেন, "ক্লাবের ভেতরে টিভি, ফ্রিজ, এসি সবই ছিল । একটা ক্লাবের মধ্যে এই সব কিছু থাকে ? বান্ধবীরা পকোড়া ভেজে দিত, সেটাই খেত প্রধান রাজেশ মণ্ডল । বান্ধবীদের এড়িয়ে প্রধানের সঙ্গে দেখা করা যেত না ৷ আমরা কোনও কাজ চাইতে গেলে আমাদের তাড়িয়ে দেওয়া হত । প্রধান তাঁর বান্ধবীদের সব কাজ ও সুবিধা দিত । যাঁরা ক্লাবে যেত ও যাঁরা তার মিটিংয়ে যেত, তারাই সরকারি সুবিধা পেত । সব মহিলা তো এক হয় না ৷ আমরা যাইনি বলে কোনও সরকারি সুবিধা পাইনি ৷"

ETV BHARAT
প্রধানের বাড়ি ঘেরাও করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা (নিজস্ব চিত্র)

এমনই বিস্ফোরক সব অভিযোগ করে তৃণমূল পরিচালিত জলপাইগুড়ি অরবিন্দ গ্রামপঞ্চায়েত প্রধান রাজেশ মণ্ডলের বাড়ি ঘেরাও করেন স্থানীয় বাসিন্দারা ৷ শুক্রবার সকালে জলপাইগুড়ি গোমস্তপাড়ায় বাসিন্দারা তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান । 'সাধারণ মানুষের কাজ করো, না-হয় প্রধানের চেয়ার থেকে পদত্যাগ করো' - এই স্লোগান তোলেন বিক্ষোভকারীরা ৷ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে প্রধান গ্রামপঞ্চায়েত দফতরে যাচ্ছিলেন না । ঘটনাস্থলে কোতোয়ালি থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ।

এদিনের বিক্ষোভের পরই গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান পদ থেকে ইস্তফা দেন রাজেশ মণ্ডল ৷ তবে তাঁর বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলি তিনি খারিজ করে দিয়েছেন ৷ তিনি বলেন, "আমি আজই অরবিন্দ গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান পদ থেকে ইস্তফা দিলাম । আমি ক্লাব করা একটা ছেলে । ক্লাব থেকে উঠে এসেছি । তারপরেই রাজনীতিতে আসা । ফলে ক্লাবটাকে লোকে আমার ঠিকানা হিসেবে ভেবে নিয়েছিল । তাই ক্লাবে সবাই আসত । যে মহিলাদের কথা বলা হচ্ছে, তাঁরা সবাই আমার কর্মী ছিলেন ৷ 17 জন কর্মীর মধ্যে চারজন ছিলেন মহিলা ৷ আমার থেকে বয়সে অনেক ছোট । তাঁদের সম্পর্কে খারাপ কিছু বলাটা ঠিক হবে না । তৃণমূল হেরে যাওয়ার পর আমি আর গ্রামপঞ্চায়েতে যাইনি । কাজ করার পরিবেশটাও নেই । পাড়াতেই কাজ করব ।"