সোশালে শীর্ষ আমলার নামে অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণা ! রাজস্থান থেকে গ্রেফতার 1
সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমলার পরিচিতদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ৷ প্রতারণার পদ্ধতিতে ভরতপুর গ্যাং-এর ছাপ !

Published : January 2, 2026 at 7:57 PM IST
কলকাতা, 2 জানুয়ারি: সোশাল মিডিয়ায় রাজ্যের এক আমলার নাম করে প্রতারণার অভিযোগ ৷ যে ঘটনার পর্দাফাঁস করে রাজস্থান থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ ৷ অভিযোগ, ওই আমলার নামে ফেসবুকে ভুয়ো প্রোফাইল খুলে, তাঁর পরিচিতদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়েছেন অভিযুক্ত যুবক বিজয় সাহু ৷
এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, "ধৃতের সঙ্গে কোনও গ্যাংয়ের যোগ আছে কি না, সেটা আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি ৷" লালবাজার সূত্রে খবর, এই প্রকারের অপরাধের ধরনের সঙ্গে ভরতপুর গ্যাং-এর মিল রয়েছে ৷ ফলে প্রতারণায় ধৃতের সঙ্গে ওই গ্যাংয়ের যোগ থাকার সম্ভাবনা আছে ৷
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত বিজয় সাহু কলকাতার এক শীর্ষস্থানীয় আইএএস অফিসারের নামে ফেসবুকে একটি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছিলেন ৷ ওই অফিসার বর্তমানে রাজ্য প্রশাসনে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি পদমর্যাদায় কর্মরত ৷ জাল প্রোফাইল ব্যবহার করে অফিসারের ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই যুবক ৷ এরপর নানা অজুহাতে অর্থ সাহায্য চাইতেন বলে অভিযোগ ৷ এমনকি অনেকেই তাঁকে আসল অফিসার ভেবে টাকাও পাঠান ৷
বিষয়টি নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট আইএএস অফিসার নিজেই কলকাতা পুলিশে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ৷ অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্তে নামে লালবাজারের সাইবার অপরাধ শাখার গোয়েন্দারা ৷ তদন্তে পুলিশ প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে ভুয়ো ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি যে মোবাইল নম্বর দিয়ে খোলা ও চালানো হচ্ছিল, সেটি খুঁজে বের করে ৷ এরপর সেই সূত্র ধরে অভিযুক্তের অবস্থান চিহ্নিত করে ৷ সেই মতো রাজস্থান পুলিশের সহযোগিতায় সেখান থেকে বিজয় সাহুকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ ৷
জানা গিয়েছে, ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনা হয়েছে ৷ বৃহস্পতিবার ধৃতকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন ৷ আদালতে ধৃতের আইনজীবী দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেল সম্পূর্ণ নির্দোষ ৷ তিনি রাজস্থানে একটি ছোট দোকানে পেঁয়াজি-চপ ভাজার কাজ করতেন এবং কোনও সাইবার প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত নন বলে দাবি করা হয় ৷
তবে, পালটা সওয়ালে সরকার পক্ষের আইনজীবী এই দাবি খারিজ করে দিয়ে আদালতকে জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ রয়েছে ৷ সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, মোবাইল নম্বর এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা ৷
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷ একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে সোশাল মিডিয়ায় কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা পরিচিতের নাম ব্যবহার করে টাকা চাওয়া হলে, সতর্ক থাকার আবেদন করা হয়েছে ৷

