লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার নামে বৃদ্ধকে লক্ষাধিক টাকার প্রতারণা ! মুম্বই থেকে গ্রেফতার অভিযুক্ত
জীবন বিমার পেনশন প্ল্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগ ৷ ভয় দেখিয়ে লক্ষাধিক টাকা লুট ৷

Published : January 10, 2026 at 4:52 PM IST
দুর্গাপুর, 10 জানুয়ারি: লক্ষাধিক টাকার প্রতারণার অভিযোগে ভিনরাজ্য থেকে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের সাইবার সেল ৷ দুর্গাপুরের কাঁকসার তপোবন এলাকার এক বৃদ্ধের সঙ্গে লক্ষাধিক টাকার প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়েছিল ৷ অভিযোগ, বৃদ্ধের জীবন বিমা সংস্থার পেনশন প্ল্যান বন্ধ হয়ে যাবে এই কথা বলে তাঁর সঙ্গে 6 লক্ষের বেশি টাকা প্রতারণা করা হয়েছে৷ তদন্তে নেমে মুম্বই থেকে অভিযুক্ত আবুদারদা আহম্মেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ৷
পুলিশ সূত্রে খবর, রাষ্ট্রায়ত্ত্ব জীবন বিমা সংস্থার থেকে পেনশন প্ল্যান কিনেছিলেন কাঁকসার তপোবনের বাসিন্দা অশোককুমার রায় ৷ কয়েকদিন আগে তাঁর কাছে ওই জীবন বিমা সংস্থার প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে একজনের ফোন আসে ৷ তাঁকে বলা হয়, লাইফ সার্টিফিকেট জমা না-দিলে পেনশন বন্ধ হয়ে যাবে ৷ পাশাপাশি, তাঁর কাছ থেকে টাকাও চাওয়া হয় ৷ বৃদ্ধের দাবি অনুযায়ী, পেনশন বন্ধ হয়ে যাবে এই ভয়ে প্রথমে কয়েক লক্ষ টাকা দিয়ে দেন ৷ এরপর নানা অজুহাতে অশোককুমার রায়ের থেকে আরও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে ৷
বেশ কয়েক ধাপে মোট 6 লক্ষ 22 হাজার টাকা দেওয়ার পর, অশোককুমার রায়ের সন্দেহ হয় ৷ তখন তিনি কাঁকসা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ৷ পুলিশের যাওয়ার পরেই তিনি বুঝতে পারেন, যে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে ৷ এরপর অশোককুমারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের সাইবার সেলের আধিকারিকরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেন ৷ তদন্তে পুলিশ মুম্বইয়ের একটি যোগসূত্র খুঁজে পায় ৷ এরপর একটি দল সেখানে গিয়ে আবুদারদা আহম্মেদ নামে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে ৷
ধৃতকে শুক্রবার রাতে একদিনের ট্রানজিট রিমান্ডে কাঁকসায় নিয়ে আসা হয়েছে ৷ তাঁকে দুর্গাপুুর মহকুমা আদালতে পেশ করে হেফাজতে চাইবে পুলিশ ৷ জানা গিয়েছে, ধৃত আবুদারদা আহম্মেদ উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ৷ তবে, এখন তিনি মুম্বইয়ে থাকছিলেন ৷ সেখান থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লোকজনকে অনলাইন প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছিলেন ৷ তদন্তে উঠে এসেছে, পরিকল্পিতভাবেই প্রবীণদের টার্গেট করে প্রতারণার জাল ফেলে এই চক্র ৷
এই নিয়ে আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটে এসিপি (কাঁকসা) রাজকুমার মালাকার বলেন, "এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷ অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে ৷ গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে ৷"

