গঙ্গা ভাঙনের জের, মালদার 9 টি বিদ্যালয়ে পঠনপাঠন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত
রতুয়া-এক এবং মানিকচক ব্লকের বেশ কিছু স্কুল ভয়ানক পরিস্থিতিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিদর্শক । আর তাই ওই 9টি স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে ।

Published : September 2, 2026 at 12:18 AM IST
মালদা, 2 সেপ্টেম্বর: নদীর জলস্তর বৃদ্ধিতে কোথাও পড়ুয়ারা স্কুলভবন পর্যন্ত পৌঁছতে পারছে না। কোথাও আবার স্কুল ভবনই নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। অথবা এমন অবস্থায় রয়েছে যা একেবারেই পঠনপাঠনের উপযুক্ত নয়। এই পরিস্থিতিতে মালদার 9টি প্রাথমিক স্কুলে পঠনপাঠন আপাতত স্থগিত রাখল শিক্ষা দফতর। পঠনপাঠন চালু রাখতে বিকল্প কোনও স্কুলের খোঁজ চালানো হচ্ছে।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) মলয় মণ্ডল বলেন, “রতুয়া-এক এবং মানিকচক ব্লকের বেশ কিছু স্কুল ভয়ানক পরিস্থিতিতে রয়েছে। গঙ্গা এবং ফুলহর নদীর জলস্তর বৃদ্ধিতে অনেক পড়ুয়া বিদ্যালয় ভবন পর্যন্ত পৌঁছতে পারছে না। কোথাও আবার গঙ্গা ভাঙনের কারণে স্কুল ভবন নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় স্কুল বন্ধ রাখতে হয়েছে । "
রতুয়ার পশ্চিম রতনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাংশ গত পরশু রাত থেকে নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। জিতুটোলা প্রাইমারি স্কুল গতবছর থেকেই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে ছিল। এবছর ওই স্কুলও নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। বর্তমানে ওই স্কুলের দু-একটি দেওয়াল শুধু রয়েছে। মণিরামটোলা প্রাথমিক স্কুল থেকে মাত্র 20-30 মিটার দূর দিয়ে আপাতত নদী বইছে। জিয়ারামটোলার স্কুলের চারিদিকেও জল চলে এসেছে। আর তাই রতুয়ার এই চারটি স্কুলে আপাতত পঠনপাঠন বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্কুল পরিদর্শক ।
মানিকচক ব্লকেও পাঁচটি স্কুলে পঠনপাঠন আপাতত স্থগিত রাখতে হচ্ছে। ওই ব্লকে ভাট্টা কার্তিকটোলা, আমিনটোলা, পিয়ারীটোলা, সুকদেবটোলা ও নিউ লুতিহার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে নদীর জল চলে আসায় পড়ুয়ারা স্কুল ভবন পর্যন্ত পৌঁছতে পারছে না। দুটি ব্লকের এই 9টি স্কুলে আপাতত পঠনপাঠন বন্ধ রাখতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে এনিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। এই সার্কেলগুলির এসআইয়ের থেকে বিকল্প কোন স্কুলে পঠনপাঠন চালানো যেতে পারে কি না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। রতুয়ায় কিছু স্কুলের পড়ুয়াদের অন্যত্র পঠনপাঠনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। তবে সেই স্কুলগুলিও বর্তমানে খুব ভালো পরিস্থিতিতে নেই। সেই স্কুলগুলোকে রক্ষা করার জন্য সেচ দফতরের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।

মলয় আরও বলেন, "সোমবার আমি ওই এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। গঙ্গার ভয়াবহতা দেখে ওই স্কুলগুলোকে কতখানি রক্ষা করা যাবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যে স্কুলভবনগুলি নদীতে তলিয়ে গিয়েছে, সেই এলাকায় ভূমি দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারি কোনও জায়গায় নতুন স্কুলভবন তৈরির প্রস্তাব পাঠানো হবে।”

