নেপালের হড়পা বানে নিখোঁজ শতাধিক ভারতীয়, আটকে বহু বাঙালি ! উদ্ধারে তৎপর কেন্দ্র-রাজ্য
নেপালের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডুর পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। নেপালকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে তৎপর হয়েছে রাজ্য প্রশাসনও।

Published : August 27, 2026 at 8:22 AM IST
কলকাতা, 27 অগস্ট: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্বেগ বাড়ছে সেখানে আটকে থাকা অথবা নিখোঁজ পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের নিয়ে। নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে আটকে পড়েছেন এ রাজ্যের বহু পর্যটক। প্রতিবেশী দেশে এমন আচমকা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের খবর আসতেই চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে রাজ্যে। পরিজনেরা কেমন আছেন, আদৌ সুরক্ষিত আছেন কি না, সেই খবর পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন পরিবারের মানুষ। পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। ফলে দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। এই চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতে আটকে পড়া রাজ্যের বাসিন্দাদের দ্রুত উদ্ধার করতে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার। পর্যটক এবং তাঁদের পরিবারের দুশ্চিন্তা দূর করতে ভবানীভবনে চালু করা হল বিশেষ কন্ট্রোল রুম।
নেপালের এই ভয়াবহ হড়পা বানে প্রায় 100 জন নিহত হয়েছেন এবং 133 জন ভারতীয় নাগরিক-সহ 750 জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন ৷ এই বন্যায় বেশ কয়েকটি শহর ও গ্রাম বিধ্বস্ত হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙে ভেসে গিয়েছে এবং এক ডজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প অচল হয়ে পড়েছে।
মরসুমের এই সময়ে বহু বাঙালিই নেপালে ঘুরতে যান। কিন্তু আচমকা এই হড়পা বানের কারণে পর্যটকদের পাশাপাশি চরম বিপাকে পড়েছেন তীর্থযাত্রী ও ব্যবসায়ীরাও। পাহাড়ি রাস্তায় ধস ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে বহু জায়গায় উদ্ধারকাজে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে প্রশাসনকে।
নেপালের সরকারি সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বুধবার নেপালে আকস্মিক হড়পা বানের পর পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া যেসব ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কলকাতা থেকে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া 32 সদস্যের একটি দলও রয়েছে। জানা গিয়েছে, 30 জন পর্যটক ও দুজন ট্যুর ম্যানেজারের এই দলটি 21 অগস্ট কলকাতা থেকে রওনা হয়ে পরদিন নেপালে পৌঁছায়। বুধবার সকাল সাড়ে 8টার পর তাঁদের আর কোনও খবর পাওয়া যাচ্ছে না ৷
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে প্রশাসন। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সদর দফতর থেকে গোটা পরিস্থিতির উপর নজরদারি চলছে। বুধবার এই বিপর্যয় নিয়ে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি লিখেছেন, "নেপালের আকস্মিক ভয়াবহ হড়পাবানে প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। যাঁরা তাঁদের আত্মীয়, বন্ধু বা প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, সেই সকল শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই।"
Deeply pained by the colossal tragedy caused by catastrophic flash floods in Nepal. I extend my heartfelt condolences to all the bereaved families who have lost their loved ones in this devastating natural calamity. We stand in firm solidarity with the People of Nepal.
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) August 26, 2026
Extremely… pic.twitter.com/RVylRr4e8T
একই সঙ্গে নিখোঁজ পর্যটকদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁর সংযোজন, "100-রও বেশি ভারতীয় পর্যটক তথা কৈলাস মানসরোবর যাত্রায় যাওয়া তীর্থযাত্রীদের নিখোঁজ হওয়ার খবরে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে যারা নেপাল ভ্রমণে গেছেন সেই সকল তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের অথবা কর্মসূত্রে যাওয়া ব্যবসায়ী ও কর্মীরা যারা এই দুর্যোগের দিনে বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন সেই সকল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।"
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, কাঠমান্ডুতে থাকা ভারতীয় দূতাবাস ও নেপালের প্রশাসনিক মহলের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। রাজ্য সরকার পরিস্থিতির উপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। রাজ্যের কতজন বাসিন্দা এই দুর্ঘটনায় প্রভাবিত বা নিখোঁজ, সেই বিষয়টি সর্বক্ষণ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ক্রমাগত সঠিক তথ্য যাচাই করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়া যায়।
নেপালে আটকে পড়া রাজ্যের বাসিন্দাদের সব রকম সাহায্য করতে ভবানীভবনে চালু হওয়া হেল্পলাইন নম্বরগুলি হল 033-24793311 এবং +91-9147890181। পাশাপাশি, কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাসের দুটি নম্বরও শেয়ার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নম্বর দুটি হল +9779851316807 এবং +9779709107500 (ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ)। এই নম্বরগুলিতে যোগাযোগ করে আটকে পড়া পর্যটকদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য এবং সরকারি সাহায্য পাওয়া যাবে।
অন্যদিকে, নেপালের এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ব্যাপক প্রাণহানি এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডুর পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। বুধবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের সঙ্গে টেলিফোনে বিস্তারিত কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই দুঃসময়ে নেপালের পাশে থেকে সব রকম মানবিক ও ত্রাণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। হড়পা বানে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।
নয়াদিল্লির তরফে জানানো হয়েছে, নেপালের সার্বিক পরিস্থিতির উপর ভারত সরকার প্রতিনিয়ত নজর রাখছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চলাকালীন কাঠমান্ডুর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও রাখছে সাউথ ব্লক।
এদিকে, এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রাজ্যের বহু মানুষ সেখানে আটকে থাকায় বাংলায় উৎকণ্ঠা বাড়ছে। তবে ভবানীভবন সূত্রে খবর, আটকে পড়া প্রত্যেককে সুস্থ অবস্থায় রাজ্যে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। হেল্পলাইনের মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে। পাশাপাশি পরিবারগুলির সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রেখে তাঁদের আশ্বস্ত করছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

