ETV Bharat / state

গরুর মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করার দাবি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে

এই মর্মে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে ন্যাশনালিস্ট স্টুডেন্টস ফ্রন্ট ৷ সেখানে মূলত তিনটি দাবি করেছে তারা ৷

Jadavpur University
গরুর মাংস বিক্রি নিষিদ্ধের দাবি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 26, 2026 at 1:36 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 26 ফেব্রুয়ারি: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেস্ট-এ গরুর মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করা হোক ৷ এমনই দাবি তুলল ন্যাশনালিস্ট স্টুডেন্টস ফ্রন্ট (এনএসএফ) ৷

সামনেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় উৎসব বা ক্যাম্পাস ফেস্ট ৷ তাকে ঘিরে সম্ভাব্য অশান্তির আশঙ্কা প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দিল ছাত্র সংগঠন এনএসএফ । তাদের অভিযোগ, অতীতে কিছু বামপন্থী ও বামঘেঁষা ছাত্র সংগঠন সাংস্কৃতিক ও অ্যাকাডেমিক উৎসবকে আদর্শগত প্রতিবাদের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেছে । সেই প্রেক্ষিতে এনএসএফের আশঙ্কা, এবারের উৎসবেও গরুর মাংস বা গরুর মাংসজাত খাবারের স্টল বসানোর চেষ্টা হতে পারে । স্মারকলিপিতে এনএসএফ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ধরনের খাবারের প্রকাশ্য বিক্রি বহু ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে ।

Jadavpur University
এনএসএফের স্মারকলিপি (নিজস্ব ছবি)

সংগঠনের দাবি, এটি শুধুমাত্র খাদ্যাভ্যাসের বিষয় নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিকে উসকে দেওয়ার প্রচেষ্টা হতে পারে । এনএসএফের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ বজায় রাখার জায়গা । কিন্তু কিছু সংগঠন খাবারের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও বিভাজনের পরিস্থিতি তৈরি করছে । এর ফলে উৎসবের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে দাবি সংগঠনের ।

Jadavpur University
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (নিজস্ব ছবি)

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের উদ্যোগ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে এবং ক্যাম্পাসের শান্তি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে । তাই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছে এনএসএফ । সংগঠনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়েছে ।

প্রথমত, উৎসব কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সব বিক্রেতার জন্য লিখিত নির্দেশিকা জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গরুর মাংস বা গরুর মাংসজাত খাবারের বিক্রি নিষিদ্ধ করতে হবে । দ্বিতীয়ত, প্রতিটি ফুড স্টল মালিকের কাছ থেকে নিয়ম মানার লিখিত অঙ্গীকারপত্র নিতে হবে, অন্যথায় স্টল বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে । তৃতীয়ত, ফেস্ট চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা কর্মীদের দিয়ে নিয়মের কঠোর নজরদারি চালানোর দাবি জানানো হয়েছে । এনএসএফ দ্রুত এই বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপেরও দাবি জানিয়েছে ।

এই বিষয়ে সংগঠনের সদস্য সোমসূর্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসের স্বাধীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ধর্মীয় অনুভূতি ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার সঙ্গেও যুক্ত । হিন্দু ধর্মে গরু পবিত্র হিসেবে বিবেচিত হয় । ফলে ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে গরুর মাংসকে কেন্দ্র করে কোনও আয়োজন বা প্রচার করা হলে, বহু শিক্ষার্থীর কাছে তা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় না-থেকে প্রতীকী ও সংবেদনশীল ইস্যু হয়ে উঠতে পারে । স্বাধীনতার অর্থ অন্যের গভীরভাবে লালিত বিশ্বাসকে উপেক্ষা করা নয় । ভারতের ইতিহাসে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সময় ধর্মীয় পরিচয়কে ঘিরে সংঘাতের নজির রয়েছে । সেই প্রেক্ষাপটে হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্বেগকে অবজ্ঞা করা বা একে অপ্রগতিশীল বলে দাগিয়ে দেওয়া হলে তা দ্বৈত মানসিকতার ইঙ্গিত দেয় ।"

যদিও এই বিষয়ে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর সদস্য অভিনব বসু বলেন, "কে কী খাবে সেটা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত । একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি কোনও স্টলে কেউ কিছু রাখে তাহলে সবাইকে যে সেখান থেকে নিতে হবে তার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই । এনএনএফ আশঙ্কার ভিত্তিতে একটা ডেপুটেশন দিয়েছে । সারা দেশ জুড়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি আরএসএস, বিজেপি খাবারকে ইস্যু করে চারিদিকে নানান ধরনের বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে । যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের কোনও আইন প্রণয়ন সম্ভব নয় । যতদিন পর্যন্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল রাজনীতি রয়েছে ।"

তৃণমূলপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্য কিশলয় রায়ের কথায়, "কে কী খাবে, কে কী পরবে সেটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ৷ সেখানে কারও হস্তক্ষেপ কাম্য নয় । যেটা আমরা ভারতবর্ষে দেখেছি সেটা পশ্চিমবঙ্গে একদমই হতে দেওয়া যাবে না । যদি একান্তই কিছু করতে হয় তাহলে সমস্ত রকম খাবারের স্টল উঠিয়ে দিতে হবে । কোনও বিশেষ কমিউনিটি কী খাবে না খাবে সেজন্য যেন এটা বন্ধ না-হয় ।" যদিও এই বিষয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ এখনও কোনও নির্দেশিকা জারি করেনি ।