ETV Bharat / state

হাজিরা এড়ানোয় বিশ্বভারতীর উপাচার্যের উপর ক্ষুব্ধ তফসিলি কমিশন, সমন জারির হুঁশিয়ারি

20 অগস্ট দুপুর 2টোর মধ্যে সশরীরে বিশ্বভারতীর উপাচার্যকে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল । কিন্তু নির্ধারিত দিন ও সময়ে হাজিরা দেননি প্রবীরকুমার ঘোষ ।

Visva-Bharati
বিশ্বভারতীর উপাচার্যের উপর ক্ষুব্ধ তফসিলি কমিশন (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 27, 2026 at 5:52 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

বোলপুর, 27 অগস্ট: সশরীরে হাজিরা না-দেওয়ায় বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষের উপর রীতিমতো ক্ষুব্ধ জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশন । পরবর্তীতে এমনটা হলে কমিশন ক্ষমতা বলে সমন জারি করবে ৷ এহেন কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ ও কেন্দ্রীয় উচ্চশিক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিবকে চিঠি ধরাল জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশন ।

বিশ্বভারতীতে সহকারী কর্মসচিব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংরক্ষণ নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল ৷ এই মামলার শুনানিতে 20 অগস্ট দিল্লিতে উপাচার্যকে তলব করেছিল জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশন । কিন্তু উপাচার্য হাজিরা না-দেওয়ায় সমন জারি করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন, যা নিয়ে শোরগোল পরে গিয়েছে ।

বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, "পরবর্তী শুনানির তারিখ বলা হয়নি ৷ তারিখ জানানো হলে মহামান্য কমিশন যেরকম নির্দেশ দেবে, তা পালন করবে বিশ্বভারতী ।"

Visva-Bharati
জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশনের চিঠি (ইটিভি ভারত)

2025 সালের 27 অগস্ট বিশ্বভারতীতে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, সহকারী কর্মসচিব, সম্পত্তি আধিকারিক, গ্রন্থাগারিক-সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় ৷ তার মধ্যে সহকারী কর্মসচিব পদটি 'তফসিলি জাতি' হিসাবে সংরক্ষিত ছিল ৷ কিন্তু দেখা যায়, চলতি বছরের গত 8 জুন সহকারী কর্মসচিব পদে সুখেন্দু মজুমদারকে নিয়োগ করা হয় । এরপরেই অভিযোগ ওঠে, এই নিয়োগের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অনিয়ম হয়েছে । মানা হয়নি সংরক্ষণের সরকারি নিয়ম-নীতি । বিশেষ প্রার্থীকে সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ।

উত্তর 24 পরগনার মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা লিটন বিশ্বাস একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ৷ তিনিই বিশ্বভারতীর সহকারী কর্মসচিব পদে আবেদন করেছিলেন । লিটনের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ছিল । সংরক্ষণের নিয়ম মেনে নিয়োগ হয়নি ৷ লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বা চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেনি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ । এই মর্মে জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন লিটন ।

Visva-Bharati
বিশ্বভারতী (ইটিভি ভারত)

তাঁর ওই অভিযোগের ভিত্তি গত 30 জুন কমিশন শিক্ষা মন্ত্রকের উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে সমগ্র বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিল ৷ তারপর সরাসরি বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষকে জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশনের নতুন দিল্লির অফিসে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল । কমিশনের সহকারী অধিকর্তা দীনেশ ব্যাস 20 অগস্ট দুপুর 2টোর মধ্যে সশরীরে উপাচার্যকে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন । কিন্তু নির্ধারিত দিন ও সময়ে উপস্থিত হননি বিশ্বভারতীর উপাচার্য । আর এতেই রীতিমতো ক্ষুব্ধ জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশন ।

কমিশনের তরফে এদিন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব ও বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষকে কড়া ভাষায় চিঠি দেওয়া হয় ৷ কমিশনের সহকারী অধিকর্তা দীনেশ ব্যাসের দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, "নির্ধারিত দিনে উপস্থিত না থাকার বিষয়টি কমিশন অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে । তাই পরবর্তী শুনানিতে সশরীরে হাজিরা দিতেই হবে, সেটা সুনিশ্চিত করুন ৷"

Visva-Bharati
বিশ্বভারতী (ইটিভি ভারত)

এক প্রকার হুঁশিয়ারি দিয়ে কমিশন চিঠিতে আরও উল্লেখ করেছে, "আপনাকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কমিশনের নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চনুন ও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করুন ৷ ভারতীয় সংবিধানের 338 (8) ধারা অনুযায়ী কমিশন দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে । আর সেই ক্ষমতা বলে কমিশন নথি তলব-সহ সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তির বিরুদ্ধে সমন জারি করতে পারে ।"

অর্থাৎ, পরবর্তী শুনানিতে বিশ্বভারতীর উপাচার্য জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশনের দিল্লির অফিসে হাজিরা না-দিলে সমন জারি করার হুঁশিয়ারি চিঠি দেওয়া হল ৷ পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় হল বিশ্বভারতী । যার আচার্য খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি । রাষ্ট্রপতি হলেন বিশ্বভারতীর পরিদর্শক । সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নিয়ম লঙ্ঘন করে নিয়োগ করায় কঠোর এসসি কমিশন ।