ETV Bharat / state

ভোটার তালিকায় 'বিচারাধীন' ডেপুটি মেয়র ও জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষের নাম

বিজেপির চক্রান্ত দেখছেন ভোটার তালিকায় 'বিচারাধীন' আসানসোলের ডেপুটি মেয়র ও জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ ৷

SIR voter list
আসানসোলের ডেপুটি মেয়র ওয়াসিম উল হক এবং জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ আরমান (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : March 3, 2026 at 3:19 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

আসানসোল, 3 মার্চ: এসআইআর-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' বা 'বিচারাধীন' দুই জন প্রতিনিধির । একজন আসানসোল পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র ওয়াসিম উল হক, অন্যজন পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ আরমান ৷ আর এই ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল ছড়িয়েছে । দু'জনেরই বক্তব্য, জন প্রতিনিধিদের সঙ্গে এমন ঘটলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হচ্ছে !

জানা গিয়েছে, আসানসোল পুরনিগমের রেলপাড় এলাকার বাসিন্দা ওয়াসিম উল হক । তিনি আসানসোল উত্তর বিধানসভার ভোটার । খসড়া তালিকায় নাম থাকলেও, ডাক পেয়েছিলেন শুনানিতে । শুনানির সময় অসুস্থ হয়ে তিনি হায়দরাবাদে ছিলেন চিকিৎসার জন্য । সমস্ত নথি দিয়ে তিনি পরিবারের সদস্যকে নিয়মমাফিক শুনানিতে পাঠিয়েছিলেন । তারপরেও তাঁর নাম 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে' রয়েছে ।

ভোটার তালিকায় 'বিচারাধীন' দু'জনের বক্তব্য (ইটিভি ভারত)

ওয়াসিম উল হক জানিয়েছেন, স্কুল সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে পাসপোর্ট, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড আছে, আধার কার্ড তাঁর কাছে আছে । শুনানিতে সেই সব নথি দেওয়া হয়েছিল । তাও তাঁর নাম বিচারাধীন হিসেবে গণ্য হয়েছে । ওয়াসিম উল হক তিনবার জন প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন । সরকারিভাবে সেই শংসাপত্রও আছে ।

ওয়াসিম উলের আক্ষেপ, "ভোটার লিস্টে আমার নাম 'অ্যাডজুডিকেশনে' চলে এসেছে । নির্বাচন কমিশন একটা রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছে এটা তারই একটা প্রমাণ । আমার কাছে সব নথি থাকার পরেও, আমি জনপ্রতিনিধি হয়েও যদি এই অবস্থা হয় তাহলে এরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কী করেছে, বাংলার মানুষ সব দেখছে ।"

অন্যদিকে, ভোটার তালিকায় বিচারাধীন রয়েছেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ আরমান-সহ তাঁর পরিবারের 6 জন সদস্য । মহম্মদ আরমান আবার বারাবনি বিধানসভার সালানপুর ব্লকের তৃণমূলের সভাপতিও । বিষয়টিকেই অত্যন্ত অনায্য এবং অবমাননাকর বলে মনে করছেন মহম্মদ আরমান । তিনি জানান, তাঁদের পরিবারের ছ'জনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় ক্লিনচিট না-পেলেও তাঁর পুত্র ও কন্যার নাম এই তালিকায় যথাযথভাবে স্থান পেয়েছে । বাবা-মাকে সন্দেহের তালিকায় ফেলা হল অথচ তাঁদেরই ছেলেমেয়েদের নাম উঠে গেল চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৷ একে পাগলামি ছাড়া আর কীই বা বলা যায় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন ।

মহম্মদ আরমান বলেন, "এটা সম্পূর্ণ দুর্ভাগ্যজনক । এটা শুধু আমার নয়, আমার ব্লকে ভোটার সংখ্যা ছিল এসআইআর হওয়ার আগে 1 লক্ষ 28 হাজার 970 । প্রায় 22 হাজার ভোট তারা বাদ করল । মানছি 22 হাজারের মধ্যে কিছু মৃত, শিফটিং বা অনুপস্থিত ভোটার আছে । কিন্তু আমার বুথেই প্রায় 110টা লোকের নাম বাদ পড়েছে । এটা বিজেপির চক্রান্ত । তৃণমূলের যে ভোট ব্যাংক আছে সেটাকে যে কোনও উপায়ে তারা চাইছে কম করতে এবং ব্যাকডোর থেকে নির্বাচন কমিশনকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করতে চাইছে । এটাই হল তাদের মূল লক্ষ্য ।"