দেওয়ালে লেখা প্রতিবেশীর নাম, বাবা-মা ও মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
তিনজনের দেহ উদ্ধারের কথা স্বীকার করেছেন পুলিশ সুপার। দেহগুলি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে । রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে তদন্তকীদের কাছে ।

Published : August 28, 2026 at 11:42 PM IST
ধনিয়াখালি, 28 আগস্ট : বাবা-মা ও মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য ধনিয়াখালিতে। ঘরের দেওয়ালে লেখা প্রতিবেশী এবং আরও কয়েকজনের নাম । ওই ব্যক্তি-সহ চারজনকে আটক করা হয়েছে । পরিবারের কর্তা উত্তম চাঁই (52) স্ত্রী রুপা (45) এবং মেয়ে অঙ্কিতা (17)-র দেহ উদ্ধার হয়েছে । ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন হুগলী জেলা গ্ৰামীণ পুলিশ সুপার কুনওয়ার ভূষন সিং।
সোমসপুর দুলেপাড়ার একটি ভাড়া বাড়িতে থাকত পরিবারটি । শুক্রবার সকাল থেকে বাড়ির কাউকে বাইরে দেখতে না পেয়ে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। খবর দেওয়া হয় ধনিয়াখালি থানায়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে। ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে একসঙ্গে তিনজনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। তিনটি দেহ প্রথমে ধনিয়াখালি ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে । ঘটনাস্থলে আসেন হুগলির গ্ৰামীণ পুলিশের উচ্চপদস্থ তদন্তকারী অফিসারা । স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় । ভাড়া ঘরটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েনও করা হয়েছে।

হুগলি গ্রামীণ পুলিশের সুপার বলেন, "ঘরের একটি দেওয়ালে রবীন্দ্রনাথ মুর্মু সহ একাধিক ব্যক্তির নাম লেখা ছিল। আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। তদন্তে নেমে চারজনকে আটক করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ মুর্মুর পাশাপাশি বাড়ির মালিক মধুমিতা সিংহ রায়, মধুমিতার মা টিঙ্কু ওরফে ইন্দ্রানী সিংহ রায়, এবং মধুমিতার স্বামী জয় সিংহরায়কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তম আগে ডানকুনিতে থাকতেন । তাঁর দুই মেয়ে। ছোট মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে চার মাস আগে ধনিয়াখালির সোমসপুর একটি ভাড়া বাড়িতে আসেন। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে ডানকুনি ভাদুয়া এলাকায়। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে মেয়ের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক ছিল না পরিবারের।
এরপর শুক্রবার একই পরিবারের তিনজনের রহস্য মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে । ঘটনায় সন্দেহের দানা বেঁধেছে। উত্তমের সঙ্গে অর্থ ও বাড়ি আদান প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে এই চারজনের বিবাদ চলছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ । তার জেরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। যদিও পরিবারের তরফে কেউ কিছু বলতে চাইছে না। পুলিশ বড় মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ সত্য ঘটনা জানার চেষ্টা করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ঝুলন মালিক জানান, কারও সাড়া না পাওয়ায় পুলিশ আসে। তারপর ভিতর থেকে দেহগুলি বার করা হয়। ধনিয়াখালি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক দীপেন্দ্রনাথ দাস জানান, সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে তিনজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। তাঁরা একই পরিবারের সদস্য। আমরা দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। রিপোর্ট না পেলে মৃত্যুর কারণ বলা সম্ভব নয়।

