ETV Bharat / state

নবদ্বীপে সম্প্রীতির নজির, নাম-সংকীর্তন সহকারে ব্রাহ্মণের দেহ সৎকার মুসলিম গ্রামবাসীদের

ধর্মের নামে বিভেদের আবহে মন ভালো করা খবর ৷ মুসলিমদের কাঁধে চড়ে শেষযাত্রায় ব্রাহ্মণ ৷ হিন্দু রীতি মেনেই হল মুখাগ্নি ৷

MUSLIM PERFORM LAST RITES OF HINDU
ব্রাহ্মণের দেহ সৎকারের পথে মুসলিম গ্রামবাসীরা (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 29, 2025 at 11:30 AM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

নবদ্বীপ, 29 ডিসেম্বর: মন্দির-মসজিদ নিয়ে যখন উত্তপ্ত রাজ্য, সেই ভাগাভাগির মধ্যে এবার নতুন করে সম্প্রীতির বার্তা দিল নবদ্বীপের মানুষ । হিন্দু ব্রাহ্মণ বৃদ্ধের দেহ সৎকার করতে এগিয়ে এলেন গ্রামের মুসলিমরা । শুধু তাই নয়, হিন্দু রীতি মেনেই দেহ সৎকার করলেন তাঁরা ৷ এর মধ্যে দিয়েই এলাকার মানুষরা প্রতিষ্ঠা করলেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির ৷

প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে একের পর এক হিন্দুদের উপর অত্যাচারের খবর আসছে । যা নিয়ে উত্তপ্ত এবার বাংলাও ৷ সামনের বছর রাজ্যে ভোট ৷ তার আগে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতিও শুরু হয়েছে বাংলায় ৷ এই পরিস্থিতিতেই বৈষ্ণবনগরী নবদ্বীপে এক হিন্দু বৃদ্ধের মৃত্যুর পর দেহ সৎকার করলেন গ্রামের মুসলিমরা । হিন্দুমতে মুখাগ্নি করেই শেষকৃত্য সম্পূর্ণ হয়েছে ওই বৃদ্ধের । এই বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকল নবদ্বীপবাসী ।

ব্রাহ্মণের দেহ সৎকার নিয়ে শ্মশানযাত্রীর বক্তব্য (ইটিভি ভারত)

জানা গিয়েছে, মৃত ওই বৃদ্ধের নাম গোপাল গোস্বামী ৷ তিনি আদতে হুগলির চুঁচুড়ার বাসিন্দা ৷ পেশায় হাইকোর্টের আইনজীবী পরবর্তীতে কোনও কারণবশত তাঁর মাকে নিয়ে চলে আসেন নবদ্বীপে । সেখানে মণিপুর এলাকায় থাকতেন মা-ছেলে । তবে মায়ের মৃত্যুর পর বাড়িতে একাই থাকতেন গোপাল । এমন অবস্থায় গত তিনবছর ধরে তিনি মহিশুরা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আখমল শেখের বাড়িতেই আশ্রয় নিয়েছিলেন । জানা যায়, গত 22 ডিসেম্বর সোমবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন গোপালবাবু ৷ তাঁকে নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন উপপ্রধান আখমল শেখ।

এরপর শনিবার রাতে হাসপাতালেই মৃত্যু হয় বৃদ্ধের । কিন্তু তাঁর পরিবারের কেউ না থাকায় উপপ্রধান ও জেলা পরিষদের সদস্যা আরজুবানু ঠিক করেন যে, তাঁরাই হিন্দুমতে সৎকারের কাজ করবেন গোপালবাবুর । সেই মতো রবিবার সকালে নবদ্বীপ মহাশ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয় গোপালবাবুর দেহ ৷ হরিনাম সংকীর্তন সহকারে কাঁধে করে তাঁর দেহ নিয়ে যান এলাকার মুসলিমরাই ৷ শ্মশানে মুখাগ্নি করা হয় গোপাল গোস্বামীর ।

এই ঘটনায় জেলা পরিষদের সদস্য আরজুবানু খাতুন বলেন, "বিজেপি হিন্দু-মুসলিম করে ৷ আমরা করি না ৷ আমরা জানি হিন্দু-মুসলিম ভাই-ভাই ।" পঞ্চায়েতে উপপ্রধান আখমল শেখ জানান, হিন্দুমতেই সৎকার করা হয়েছে গোপাল গোস্বামীকে ।

শ্মশানযাত্রী স্থানীয় বাসিন্দা সুশান্ত ঘোষ বলেন, "লকডাউনের পর থেকে ওই বৃদ্ধ প্রধান সাহেবের বাড়ির এলাকাতেই থাকতেন ৷ ওনার খাওয়া দাওয়া, অসুস্থতা সব প্রধান সাহেবই দেখতেন ৷ ক'দিন আগে অসুস্থ হলে ওনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৷ সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর ৷ উনি যেহেতু হিন্দু তাই এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানান যে ওনারা তো মাটি দিতে পারবেন না তাই আমি যেন সৎকারের কাজটা করি ৷ ওনারা সকলে পাশে থাকবেন ৷ সেই মতো কাজ হয়েছে ৷"