যাদবপুরে 6 ঘণ্টা বন্ধ থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি গেট
মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই চারটি গেট দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখা হচ্ছে ।

Published : August 28, 2026 at 1:14 PM IST
কলকাতা, 28 অগস্ট: বিজেপি'র বন্দে মাতারম উৎসবের জন্য নিরাপত্তার কারণে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক প্রবেশপথ। শুক্রবার, রাজা এসসি মল্লিক রোড দুপুর 1টা থেকে সন্ধ্যা 7টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷
সেই কারণে ওই রাস্তার উপর থাকা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের 2, 3, 4 এবং 5 নম্বর গেট দুপুর 1টা থেকে সন্ধ্যা 7টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। প্রায় 6 ঘণ্টা ওই চারটি গেট দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকা বা বেরোনো যাবে না। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে সমস্ত পক্ষকে জানানো হয়েছে ৷ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ এবং প্রস্থানের জন্য 1 নম্বর গেট ব্যবহার করতে হবে ৷ তবে, রাজা এসসি মল্লিক রোড কেন বন্ধ রাখা হচ্ছে, সেই কারণ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিনই যাদবপুরের 8বি-তে রয়েছে বন্দে মাতারম উৎসব ৷ বিকেল 5টা নাগাদ ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিত থাকার কথা ৷ সেই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার জন্য রাজা এসসি মল্লিক রোডের একটি অংশ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে ৷ আর ওই রাস্তার অংশেই রয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের 2 থেকে 5 নম্বর গেট। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি গেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা তৈরি হয়েছে ৷
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশের অনুমান, মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই চারটি গেট দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখা হচ্ছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বা নিরাপত্তাজনিত কোনও কারণ সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। আজ রাখি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটিও রয়েছে । ফলে, সাধারণ দিনের তুলনায় ক্যাম্পাসে পড়ুয়া ও কর্মীদের উপস্থিতি কম থাকার কথা। তার মধ্যেই 2 থেকে 5 নম্বর গেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ।
অন্যদিকে, গত এক সপ্তাহ ধরে একাধিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। এবিভিপি বনাম বাম ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘাত, জিবি বৈঠককে কেন্দ্র করে অশান্তি এবং পরবর্তী সময়ে পড়ুয়াদের আন্দোলন-সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে তৈরি হয়েছে চাপানউতোর। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির প্রথম বৈঠকও হয়েছে। তদন্ত কমিটি পুরো ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। তবে, এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
বিশেষ করে, কীভাবে বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পড়ুয়াদের একাংশ। তাঁদের দাবি, গত সপ্তাহের বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের 4 নম্বর গেট দিয়ে একাধিক বহিরাগতকে ক্যাম্পাসের ভিতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। অভিযোগ, তাঁদের অনেকেই তার আগে যাদবপুর থানার সামনে বিক্ষোভে ছিলেন। এরপর আচমকাই তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের 4 নম্বর গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকতে দেখা যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সরব হয়েছেন পড়ুয়াদের একাংশ।
তাঁদের প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটগুলিতে নিরাপত্তারক্ষী থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত বহিরাগত ভিতরে ঢুকে পড়লেন ? ক্যাম্পাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই বা নজরদারি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পড়ুয়াদের একাংশের বক্তব্য, গত সপ্তাহের ঘটনাগুলির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করার প্রয়োজন রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাজা এসসি মল্লিক রোড বন্ধ এবং তার সঙ্গে যুক্ত 2 থেকে 5 নম্বর গেট প্রায় ছ'ঘণ্টা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে তাঁরা নিরাপত্তার বৃহত্তর ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই দেখছেন।
এই সিদ্ধান্তের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে কার্যত 1 নম্বর গেটই প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে থাকছে। ফলে শুক্রবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত করতে হলে সকলকেই 1 নম্বর গেট ব্যবহার করতে হবে।

