মেয়ের খুনে অভিযুক্তদের হুমকি ! অবসাদে নিজের প্রাণ নেওয়ার চেষ্টা তামান্নার মায়ের
অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন কালীগঞ্জের তামান্নার মা । বর্তমানে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৷

Published : December 31, 2025 at 1:16 PM IST
কালীগঞ্জ, 31 ডিসেম্বর: বোমার আঘাতে মৃত্যু হয়েছে সন্তানের ৷ সেই ঘটনার 6 মাস পর অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে নিজের প্রাণ নেওয়ার চেষ্টা করলেন মৃত তামান্নার মা ৷ গুরুতর অবস্থায় তাঁকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৷ এই মুহূর্তে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি ৷
এক পুলিশ আধিকারিক জানান, তাঁদের কাছে খবরটি এসেছে ৷ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷ ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷ তদন্তের পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে ৷
কালীগঞ্জের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তৃণমূলের বুথ সভাপতি গাওয়াল শেখকে গ্রেফতার করা হয় ৷ আদালতে সেই মামলা এখনও চলছে । পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে মেয়ের খুনের ঘটনায় অভিযুক্তরা আদৌ শাস্তি পাবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে তামান্নার পরিবার । ঘটনার তদন্ত শুরু হওয়ার পর 10 জনকে গ্রেফতার করা হলেও, ঘটনায় অভিযুক্ত বাকিরা এখনও বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ তামান্নার পরিবারের ৷
গ্রেফতার হওয়া অনেকের মধ্যে কেউ আবার ছাড়াও পেয়ে যাবেন বলে আশঙ্কা নাবালিকার পরিবারের ৷ অভিযুক্তরা জামিনে মুক্তি পেলে আবার হয়ত তাঁদের উপর আক্রমণ হতে পারে বলেও আশঙ্কা ৷ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের হয়ে বিভিন্নভাবে লাগাতার হুমকি আসছে । তামান্নার কাকা রবিউল সেখ জানান, এই সমস্ত আতঙ্কে বেশ কয়েকদিন ধরে মানসিক চাপে ভুগছিলেন তামান্নার মা । চিকিৎসকদের দেওয়া ঘুমের ওষুধ খেতেন ৷ এদিন অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে নেওয়াতেই বিপত্তি ৷
এদিন, চাপ নিতে না-পেরে রাতে খাবার খাওয়ার পর অতিরিক্ত কয়েকটি ঘুমের ওষুধ খেয়ে নেন সাবিনা । রাতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় পলাশী মীরা গ্রামীণ হাসপাতালে । সেখান থেকে স্থানান্তরিত করা হয় শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে । বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ৷ তবে তাঁকে এখনও চিকিৎসকদের নজরে রাখা হয়েছে ৷
চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল তামান্না খাতুন ৷ স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিরোধী দলের অভিযোগ, বিধানসভা উপনির্বাচনের গণনা শেষ হওয়ার আগেই সকেট বোমার আঘাতে নাবালিকার মৃত্যু হয় ৷ ঘটনার পরই রিপোর্ট তলব করে নির্বাচন কমিশন ৷ শুরু হয় তদন্ত ৷ 10 জনকে গ্রেফতার করা হয় ৷ যদিও তাদের এখনও সাজা ঘোষণা করা হয়নি ৷ এদিকে তামান্নার পরিবারের দাবি, এখনও 14 জন অভিযুক্ত অধরা ৷
এই নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হন তামান্নার পরিবার ৷ সিবিআই তদন্তেরও দাবি জানান তাঁরা ৷ ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় ৷ চলতি বছরের জুন মাসে নদিয়ার কালীগঞ্জে উপনির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর তৃণমূল কর্মীদের ছোড়া বোমার আঘাতে প্রাণ যায় চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া তামান্নার ৷ এমনটাই অভিযোগ ওঠে ৷ নাবালিকার মৃত্যুতে বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ । যদিও অভিযুক্তরা এখনও কেউ শাস্তি পায়নি ৷ পরিবারের দাবি, মেয়ের খুনের ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট ও মানসিক চাপ না-নিতে পেরে এমন ঘটনা ৷

