দুর্গা-কালী-জগদ্ধাত্রীর পর বিদেশযাত্রায় সেঞ্চুরি হাঁকাল কুমোরটুলির বাগদেবী
জার্মানি, লন্ডন, ফ্রান্স ও দুবাইয়ে পাড়ি দিয়েছে কুমোরটুলির সরস্বতী মূর্তি ৷ 2500-3750 টাকা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে বিদেশে পাড়ি দেওয়া এক-একটি মূর্তি ৷

Published : January 9, 2026 at 9:41 PM IST
কলকাতা, 9 জানুয়ারি: দুর্গাপুজো এখন সর্বজনীন থেকে বিশ্বজনীন ৷ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি মেলার পর লাফ দিয়ে বেড়েছে বিদেশের মাটিতে বাংলার ঐতিহ্যের দুর্গাপুজো ৷ এবার সেই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে সরস্বতী পুজোতেও ৷ কুমোরটুলির মৃৎ শিল্পী সমিতি জানাচ্ছে, ইতিমধ্যে শতাধিক সরস্বতী মূর্তি পাড়ি দিয়েছে বিদেশে । সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে চলতি বছরে বাগদেবীর বিদেশ যাত্রার সংখ্যা 100 ছাড়িয়ে গিয়েছে ৷
তবে শুধু বিদেশ নয়, ভিনরাজ্যেও এবার চাহিদা বেশি ৷ সার্বিকভাবেই সরস্বতী মূর্তির চাহিদা ব্যাপক হওয়ায় খুশি মৃৎশিল্পীরা ৷ দুর্গা ও কালীপুজোর আগে ঠিক যেমন ব্যস্ত থাকে কুমোরটুলি, সেই ছবিই যেন আরেকবার ফুটে উঠছে সরস্বতী পুজোর আগে ৷
পটুয়াপাড়ার প্রতিটি গলিতে শিল্পীদের স্টুডিও এখন কর্মচঞ্চল ৷ দম ফেলার ফুরসত নেই শিল্পীদের ৷ পুজোর দিন যত এগোচ্ছে, কুমোরটুলির ব্যস্ততা যেন আরও বাড়ছে ৷ উঠবে না-ই বা কেন, এবার প্রচুর পরিমাণে ঠাকুরের বরাত মিলেছে ৷ ফলে সময়ের আগে সেগুলি তৈরির কাজ সেরে ক্লাব কর্তাদের হাতে তুলে দিতে চাইছেন শিল্পীরা ৷
দুর্গাপুজোয় যেমন ফাইবারের তৈরি মূর্তি বিদেশ যায়, ঠিক সেই রকম এবার ফাইবারের সরস্বতী মূর্তি পাঠিয়েছেন শিল্পীরা ৷ বঙ্কিম পাল, প্রশান্ত পাল, কৌশিক ঘোষ-সহ বেশ কিছু শিল্পী বিদেশে সরস্বতী মূর্তি পাঠিয়েছেন ৷

শিল্পী বঙ্কিম পাল বলেন, "গত পুজোতে প্রায় হাজার খানেক দুর্গা বিদেশ গিয়েছে ৷ আমার ঠাকুরও সৌদি আরব, লন্ডন এইসব জায়গায় গিয়েছে ৷ আগে দেশের বাইরে যেসব বাঙালিরা থাকেন, তাঁরা দেখতে বা জানতে পারতেন না ৷ সংবাদমাধ্যম ও সোশাল মিডিয়ায় সৌজন্য জানতে পেরে এখন বরাত দিচ্ছে ৷ কারণ, ওখানে তো আর এসব মূর্তি পাওয়া যায় না ৷ প্রচুর কাস্টমার এখন ৷’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘জার্মানি, লন্ডন, দুবাই, ফ্রান্সে ইতিমধ্যে আমার তৈরি ঠাকুর গিয়েছে ৷ ভিন রাজ্যেও পাড়ি দিচ্ছে অনেক ঠাকুর ৷ আমি মূলত ডাকের সাজের ঠাকুর তৈরি করি ৷ ভিনরাজ্য থেকে ফোন আসছে ৷ জার্মানিতে যাবে আরেকটা ৷ ডাকের সাজের বিভিন্ন মূর্তির এক একরকম দাম ৷ কোনটা 2500, 3100, 3750 টাকার ঠাকুরও আছে ৷ 60 শতাংশ মূর্তি এখনই বায়না হয়ে গিয়েছে ৷ ঠাকুর অনেকেই চাইলে পাবে না ৷ গতবার তিন দিন আগে সব ঠাকুর শেষ হয়ে গেছিল ৷

কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সংস্কৃতি সমিতির যুগ্ম সম্পাদক বাবু পাল বলেন, "আগে এই প্রবণতা ছিল না ৷ দুর্গা মূর্তি যেত বিদেশে ৷ এখন অন্য ঠাকুরও যাচ্ছে বিদেশে ৷ সরস্বতী মূর্তি তো একশোর বেশি ইতিমধ্যেই চলে গিয়েছে ৷ আগে শিল্পীরা বসে থাকতেন অফ-সিজনে ৷ এখন বাজার খুব ভালো, শিল্পীরা সাড়া বছরই কাজের মধ্যে থাকছেন ৷ দু-পয়সা রোজগার হচ্ছে ,এটা কুমোরটুলির পক্ষে ইতিবাচক দিক ৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, লন্ডন, অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছে ৷ এই দেশগুলিতে বেশি প্রচার পাচ্ছে ৷ দুর্গা মূর্তি আগে শোলার তৈরি হতো ৷ হাতে গোনা 5-7টা যেত ৷ তারপর ফাইভার এল ৷ সংখ্যা বাড়তে-বাড়তে এখন হাজার ছড়িয়েছে ৷ সেভাবেই সরস্বতী ঠাকুরের মূর্তির চাহিদাও বাড়ছে ৷"

