ETV Bharat / state

প্রেসিডেন্সি জেলে 'ওয়েব নেটওয়ার্ক' আমেরিকান সেন্টারে হামলার চক্রীর, কাকে ফোন আফতাবের ?

জেলের 14 নম্বর সেলে তল্লাশি চালান কারা আধিকারিকরা। উদ্ধার হয় একাধিক জিনিস ৷ জেলের ভিতর থেকে কুখ্যাত অপরাধী আফতাব আনসারি কাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত ?

AFTAB ANSARI
আফতাব আনসারির সেলে উদ্ধার মোবাইল (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 29, 2026 at 12:34 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 29 অগস্ট: প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে ফের বন্দির কাছ থেকে মোবাইল-সহ একাধিক বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। এবার কুখ্যাত অপরাধী তথা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত আফতাব আহমেদ আনসারির সেল থেকে উদ্ধার হল তিনটি মোবাইল ফোন। শুধু মোবাইলই নয়, তার সেল থেকে মিলেছে 2টি রাউটার, ওয়াই-ফাই সংক্রান্ত সরঞ্জাম, 2টি কার্ড রিডার, একটি পেন ড্রাইভ এবং ইয়ারফোন।

পাশাপাশি পাঁচশো টাকার নোটে মোট 31 হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার এর এক আধিকারিক বলেন, "এই প্রকারের বিশেষ তল্লাশি অভিযান আমাদের মাঝেমধ্যেই হয়। এখন দেখার এই সকল জিনিস নিয়ে সে কার কার সঙ্গে, কী কী কথা বলত। জেলের নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে।"

ঘটনাকে কেন্দ্র করে কারা কর্তৃপক্ষের তরফে হেস্টিংস থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলের ভিতর থেকেই আফতাব আনসারি নিয়মিত মোবাইলে কথা বলছে, এমন তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে পৌঁছেছিল।

শুধু ফোনে কথা বলাই নয়, জেলবন্দি অবস্থায় সে ইন্টারনেটও ব্যবহার করছে বলে খবর ছিল। এরপরই কারা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়। পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের 14 নম্বর সেলে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে আফতাবের জামাকাপড় ও বিছানাপত্র ঘেঁটে একে একে উদ্ধার হয় তিনটি মোবাইল ফোন। পাশাপাশি মেলে 2টি রাউটার, ওয়াই-ফাইয়ের যন্ত্র, কার্ড রিডার, পেন ড্রাইভ এবং ইয়ারফোন। সেলের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় নগদ 31 হাজার টাকাও। এত বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম এবং নগদ টাকা কীভাবে তার কাছে পৌঁছল, তা নিয়েই এখন তদন্তকারীদের প্রশ্ন।

বিশেষ করে, জেলের ভিতরে বসে আফতাব কার কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মতো অ্যাপের মাধ্যমে সে কারও সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করত কি না, সেই তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। এমনকী বিদেশে, বিশেষ করে পাকিস্তানে কোনও ফোন বা ইন্টারনেট কল করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। আফতাবের মতো যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক বন্দির কাছে কীভাবে মোবাইল, রাউটার-সহ এতগুলি ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম পৌঁছল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর পিছনে জেলের ভিতরের কোনও কর্মী বা অন্য কোনও বন্দির সহযোগিতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরঞ্জামগুলি কোথা থেকে এল এবং কার মাধ্যমে সেলে পৌঁছল, সেই সূত্রও খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে বন্দিদের হাতে মোবাইল ফোন পৌঁছনোর অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। গত 15 মে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে 'ঘুঘুর বাসা' ভাঙার কথা ঘোষণা করে জেল ব্যবস্থাপনা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বন্দিদের হাতে মোবাইল পৌঁছনোর পিছনে পূর্বতন শাসক শিবিরের সহযোগিতার অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি। এরপর জেলজুড়ে তল্লাশি অভিযান চালানো হয় ও একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার হয় ৷ ঘটনার পর প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপার ও চিফ কন্ট্রোলারকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। পাশাপাশি, জেলকাণ্ডের তদন্তে সিআইডিকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তারপরও একাধিকবার সংশোধনাগার থেকে বন্দিদের কাছ থেকে স্মার্টফোন উদ্ধারের ঘটনা সামনে এসেছে। এবার কুখ্যাত বন্দি আফতাব আনসারির সেল থেকে মোবাইলের পাশাপাশি রাউটার, পেন ড্রাইভ ও নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় জেল নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠল ৷

আফতাব বরাবরই বিশেষ নজরদারিতে বন্দি। 2002 সালে কলকাতার আমেরিকান সেন্টারে হামলার ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট ফাঁসির সাজা মকুব করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।