স্কুল হস্টেলের শৌচালয় থেকে প্রথম শ্রেণির ছাত্রীর দেহ উদ্ধার ! খুনের দাবি পরিবারের
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে স্পষ্ট হবে নাবালিকাকে খুন করা হয়েছে, নাকি মৃত্যুর পিছনে অন্য কারণ রয়েছে ।

Published : June 7, 2026 at 12:18 PM IST
কৃষ্ণনগর, 7 জুন: গার্লস স্কুল হস্টেলের শৌচালয় থেকে প্রথম শ্রেণির ছাত্রীর দেহ উদ্ধার । সাত বছরের নাবালিকার দেহ উদ্ধার করেছে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ । ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার । মৃত শিশুটির নাম সঞ্জনা মণ্ডল ৷ নিহতের সৎ বাবা প্রথমে কোনও কিছু দাবি না করলেও পরে অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে মেরে ফেলা হয়েছে ।
গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ । ইতিমধ্যেই শিশুটিকে কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ৷ এখান থেকে জেলা শক্তিনগর পুলিশ মর্গে নিয়ে যায় । তার ময়নাতদন্ত সম্পূর্ণ হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে । তবে এখনও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এসে পৌঁছায়নি পুলিশের । তাই মৃত্যুর কারণ এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয় । ঘটনারস্থলে আসেন কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী-সহ পুলিশের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্তারা ৷
পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, "বাচ্চাটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ৷ ইতিমধ্যে শিশুটির ময়নাতদন্ত হয়েছে । তবে রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি ৷ রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে ।"
পুলিশ সূত্রে খবর, দশম শ্রেণি পর্যন্ত রয়েছে কৃষ্ণনগর কুইন্স বালিকা বিদ্যালয় । বহুদিনের এই স্কুলের সঙ্গেই রয়েছে হস্টেল । রুদ্ধদহ সোনাতলা পূর্ব পাড়া কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানা এলাকার বাসিন্দা সঞ্জনা মণ্ডল ওই স্কুলে পড়ত ও হস্টেলে থাকত । নাবালিকার মা ভিনরাজ্যে কর্মসূত্রে থাকেন । তাই সৎ বাবা অনিমেষ সাহাই মেয়েটিকে দেখাশোনা করতেন । সৎ বাবার বাড়ি কৃষ্ণনগর মাঠপাড়া চাঁদমারি ক্যাম্পের কাছে ।
নিহত নাবালিকার সৎ বাবা অনিমেষ সাহা বলেন, "শনিবার সকালে আমার কাছে মেয়ের স্কুল থেকে একটা ফোন আসে । সেই ফোনে বলা হয়, আপনি যত দ্রুত সম্ভব হস্টেলে আসুন । তখন আমার মনে চিন্তা হয় যে এত সকালে কেন হস্টেলে ডাকছে । আমি জিজ্ঞাসা করি যে কী হয়েছে । তখন ওরা বলে, একটা ঘটনা ঘটেছে আপনি তাড়াতাড়ি আসুন । এরপর মাঝ রাস্তায় এসে পরে জানতে পারি ওই ফোনটা হেড ম্যাডামের ছিল । আমি আবার ফোন ব্যাক করি ৷ তখন তিনি বলেন, আপনার মেয়ে আর নেই । এরপর আমি হস্টেলের সামনে এসে সবাইকে ফোন করি ।"
তিনি আরও বলেন, "যেহেতু গার্লস হস্টেলে ছেলেদের ঢোকার অনুমতি নেই, তখন সেখানকার ছোট ছোট অন্যান্য ছাত্রীরা আমাকে হস্টেলের ভিতর নিয়ে যায় । সেখানে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে বাথরুমের সামনে পড়ে রয়েছে । নাক মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে । পুলিশ মেয়েকে উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছে ৷ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে স্পষ্ট জানতে পারব মেয়ের সঙ্গে কী ঘটনা ঘটেছে । পুলিশকে বলব রিপোর্ট ভালো করে খতিয়ে দেখতে ৷ মেয়েকে মেরে ফেলা হয়ে থাকতে পারে ৷"

