SIR আতঙ্কে বিষপান বর্ধমানের পরিযায়ীর ! তামিলনাড়ু থেকে দেহ ফিরতেই বাড়িতে তৃণমূল নেতৃত্ব
এসআইআর-এর আতঙ্কে তামিলনাড়ুতে নিজেকে শেষ করেছেন বর্ধমানের পরিযায়ী শ্রমিক ৷ এমনই অভিযোগে ফের সরগরম বঙ্গের রাজনীতি ৷

Published : November 2, 2025 at 12:57 PM IST
জামালপুর, 2 নভেম্বর: তামিলনাড়ুতে কাজ করা এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুতে এসআইআর-এর ছায়া ! শনিবার রাতে ওই শ্রমিকের দেহ জামালপুরের বাড়িতে ফিরতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক । মৃতের নাম বিমল সাঁতরা (51)। তাঁর পরিবারের দাবি, এসআইআর-এর আতঙ্কে ওই ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে তামিলনাড়ুর হাসপাতালে মারা যান । তবে তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, ওই আতঙ্কে শ্রমিক বিষ খেয়ে নিজেকে শেষ করেছেন । যদিও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিজেপি বলেছে, এসআইআর-এর সঙ্গে এই মৃত্যুর কোনও যোগ নেই ।
ঠিক কী ঘটেছে ?
পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরের আঝাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নবগ্রামের বাসিন্দা বিমল সাঁতরা । তিনি ধান রোয়ার কাজ করার জন্য আরও অনেকের সঙ্গে তামিলনাড়ু গিয়েছিলেন । অভিযোগ, রাজ্যে এসআইআর চালু হওয়ার পরে অনেক পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারই চিন্তায় পড়ে গিয়েছে । বিমল সাঁতরা সেই চিন্তাতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে তাঁর পরিবারের দাবি । তাঁকে 26 অক্টোবর তামিলনাড়ুর একটা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়েছে ৷

পরিবারের পক্ষ থেকে তামিলনাড়ুতে পুলিশের কাছে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয় । তাঁর দেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে । এরপর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শনিবার রাতে তাঁর মৃতদেহ জামালপুরের বাড়িতে ফেরে । মৃতের ছেলে বাপি সাঁতরা বলেন, "এসআইআর-এর কাগজপত্রের জন্য বেশ কিছুদিন ধরে বাবা টেনশন করছিলেন । যদি কাগজপত্র না-থাকে তাহলে কীভাবে এখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করবেন ! এইসব চিন্তাভাবনা থেকেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন । তাঁকে তামিলনাড়ুতে একটা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । খবর পেয়ে সেখানে যাই । সেই হাসপাতালেই তিনি মারা যান । পরে দেহ ময়নাতদন্ত করা হয় । কিন্তু বিষের কোনও নমুনা শরীরে পাওয়া গিয়েছে কি না বলতে পারছি না ।"
মৃতের পরিবারের এই অভিযোগ জানতে পেরে রাতেই বিমল সাঁতরার বাড়িতে যান রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, জামালপুরের বিধায়ক অলোক মাঝি-সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতারা । তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এসআইআর-এর আতঙ্কে ওই পরিযায়ী শ্রমিক বিষ খেয়ে চরম পদক্ষেপ করেছেন ৷
রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, "এসআইআর আতঙ্কে অনেক মানুষ আত্মহত্যা করছেন । আবার জামালপুরেও বিমল সাঁতরা আত্মহত্যা করলেন । আমাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে ও জেলা সভাপতি রবিবাবুকে ফোন করে তাঁদের পরিবারের পাশে থাকতে বলেছেন । সেই কারণে আমরা তাঁদের বাড়ি চলে এসেছি । এই মৃত্যুর জন্য দায়ী তো নির্বাচন কমিশন । যেভাবে তারা এসআইআর শুরু করেছে, তাতে একের পর এক নিজেকে শেষ করে দেওয়ার ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর প্রতিবাদ শুরু করেছেন । প্রতিবাদে শুরু হবে বৃহত্তর আন্দোলন । আমরা মানুষকে আশ্বস্ত করছি, তাঁদের পাশে আমরা আছি ।"

তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "এসআইআর-এর আতঙ্কে জামালপুরের বিমল সাঁতরা আত্মহত্যা করেছেন । তিনি পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে তামিলনাড়ুতে কাজ করতেন । এরই মধ্যে যাঁরা ভিনরাজ্যে কাজ করতেন, তাঁরা এসআইআর-এর কথা জানতে পেরে আতঙ্কে রয়েছেন । কারণ তাঁরা ভাবছেন, তাঁদের নাম বাদ গেলে দেশ ছেড়ে হয়তো চলে যেতে হবে । এই চিন্তা নিয়েই তিনি আত্মহত্যা করেছেন । পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলছে, তিনি বিষপান করে নিজেকে শেষ করেছেন ৷ তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের কাছ থেকে খোঁজ খবর নিচ্ছেন । আমি ও রাজ্যের মন্ত্রী তাঁদের পরিবারের কাছে এসেছি । তাঁদের আমরা যতটা সম্ভব সাহায্য করব । এসআইআর-এর কারণে রাজ্যে একের পর এক মানুষ চরম পদক্ষেপ করছেন । এর জন্য দায়ী তো নির্বাচন কমিশন । আসলে তারা ভোটার লিস্টে কারচুপি করে নির্বাচনে জিততে চাইছে ।"
তবে জামালপুরের বিজেপি নেতা প্রধানচন্দ্র পাল বলেন, "দুঃখজনক ঘটনা । তবে এই ঘটনার সঙ্গে এসআইআর-এর কোনও যোগ নেই । তিনি তো অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন । কীভাবে এসআইআর আতঙ্কে ভুগলেন ।"
আত্মহত্যা কোনও সমাধান নয়
যদি আপনার মধ্যে কখনও আত্মহত্যার চিন্তা মাথাচাড়া দেয় বা আপনার কোনও বন্ধু বা পরিচিত এই সমস্যায় জর্জরিত হন, তাহলে ভেঙে পড়বেন না। জানবেন, এমন কেউ আছে যে আপনার যন্ত্রণা, আপনার হতাশা ভাগ করে নিতে সদা-প্রস্তুত। আপনার পাশে দাঁড়াতে তৎপর। সাহায্য পেতে দিনের যে কোনও সময়ে 044-24640050 এই নম্বরে কল করুন স্নেহা ফাউন্ডেশনে। টাটা ইন্সটিটিউট অফ সোশাল সায়েন্সের হেল্পলাইন নম্বরেও (9152987821) কল করতে পারেন। এখানে ফোন করতে হবে সোমবার থেকে শনিবার সকাল 8টা থেকে রাত 10টার মধ্যে।

