ETV Bharat / state

চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মতুয়া-নমঃশূদ্রদের ভোটে কোপ, নয়া সমীকরণ ভাবাচ্ছে বিজেপি-তৃণমূলকে

28 ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ৷ সেখানে দেখা গিয়েছে, নাম বাদের নিরিখে 10টি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির থেকে পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল ৷

SIR IN BENGAL
তালিকায় নাম পর্যবেক্ষণের মুহূর্তে এক নাগরিক (ফাইল ছবি (পিটিআই))
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : March 4, 2026 at 2:39 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 4 মার্চ: নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নিয়ে রাজ্যরাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল । রাজ্যের 10টি নির্দিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপির বিশেষ নজরে রয়েছে ৷

এই কেন্দ্রগুলিতে মূলত মতুয়া এবং নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস । আর এই কেন্দ্রগুলি থেকেই সবথেকে বেশি সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার তথ্য সামনে আসায় শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা । গত 28 ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন রাজ্যে যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে । তবে এখনও বেশকিছু ভোটারের নাম বিবেচনাধীন রয়েছে ৷ এ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা । কিন্তু এই প্রক্রিয়ার মাঝেই 10টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটারের পরিসংখ্যান রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে ৷

রাজনৈতিক মহলের নজর মূলত উত্তর 24 পরগনা, নদিয়া, জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিং জেলার অন্তর্গত এই মতুয়া ও নমঃশূদ্র অধ্যুষিত আসনগুলির দিকে । পরিসংখ্যান বলছে, এই 10টি আসনের মধ্যে 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র একটিতে (হাবড়া) জয়লাভ করেছিল ৷ পরবর্তীতে উপনির্বাচনে শান্তিপুর এবং বাগদার মতো আরও দু'টি আসন রাজ্যের শাসকদলের দখলে আসে ৷ কিন্তু 2024 সালের লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে দেখা যায়, এই 10টি বিধানসভা কেন্দ্রেই তৃণমূল কংগ্রেস পিছিয়ে রয়েছে বিজেপির থেকে ৷ ফলে এই কেন্দ্রগুলিতে নিজেদের জমি শক্ত করতে এবং হারানো ভোটব্যাঙ্ক পুনরুদ্ধার করতে উভয় দলই এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে । বিশেষ করে মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক, যা গত কয়েকটি নির্বাচনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ৷

বর্তমানে বিতর্কের মূল কারণ হল এই বিধানসভা কেন্দ্রগুলি থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৷ তৃণমূল কংগ্রেস এই বিষয়টিকে হাতিয়ার করে বিজেপির বিরুদ্ধে জোরদার রাজনৈতিক প্রচার শুরু করেছে ৷ শাসক দলের অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই সম্প্রদায়ের মানুষদের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে ৷ ইতিমধ্যেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে 'তফশিলি সংলাপ' নামক একটি বিশেষ জনসংযোগ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে ৷

এই কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূল নেতারা সরাসরি মতুয়া ও নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষদের কাছে গিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, কীভাবে তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এর নেপথ্যে বিজেপির রাজনৈতিক চক্রান্ত রয়েছে । শাসক দলের দাবি, এই নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি আসলে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে কোণঠাসা করার একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ ।

প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই কেন্দ্রগুলিতে নাম বাদ পড়ার সংখ্যা বেশ উদ্বেগজনক । নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জলপাইগুড়ির ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্র থেকে সর্বাধিক 16,491 জনের নাম বাদ গিয়েছে । এছাড়া বাগদায় 15,303, শান্তিপুরে 8,048, বনগাঁ উত্তরে 7,926, রানাঘাট দক্ষিণে 7,126, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমে 6,704, রানাঘাট উত্তর-পূর্বে 6,404, চাকদহে 5,864, হাবড়ায় 5,587 এবং শিলিগুড়ি থেকে 5,240 জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ।

সামগ্রিকভাবে জেলাভিত্তিক হিসেবে দেখলে উত্তর 24 পরগনা জেলা থেকে প্রায় 1 লক্ষ 43 হাজার এবং নদিয়া জেলা থেকে প্রায় 63 হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে ৷ যা এই দুই জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে । অন্যদিকে, তৃণমূলের এই লাগাতার আক্রমণ এবং পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসার পর স্বভাবতই কিছুটা চাপে রয়েছে গেরুয়া শিবির ।

তবে তারা কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপকে হাতিয়ার করে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করছে । সম্প্রতি নাগরিকত্ব ইস্যুতে কেন্দ্র একটি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটি বা 'এমপাওয়ার্ড কমিটি' গঠন করেছে ৷ বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করছে, এই কমিটির মাধ্যমেই প্রকৃত নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষিত করা হবে এবং কাউকে অকারণে হয়রানির শিকার হতে হবে না । চব্বিশের লোকসভা ভোটে এই এলাকাগুলিতে শাসক দলের পিছিয়ে পড়া প্রমাণ করে যে, লড়াই এখনও সমানে সমানে চলছে । আগামী দিনে এমপাওয়ার্ড কমিটির পদক্ষেপ এবং ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর এই বিস্তীর্ণ মতুয়া ও নমঃশূদ্র বলয়ের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের ।