BLO গ্রামে পৌঁছতেই উধাও একাধিক পরিবার, সীমান্তবর্তী এলাকায় 'ভুতুড়ে ভোটার' নিয়ে চর্চা
ভোটারদের উধাও হয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছে তৃণমূল ৷ বিজেপির দাবি, শাসক দলের মদতেই সীমান্তবর্তী এলাকার বহু মানুষ দু'দেশের নাগরিক ৷

Published : November 17, 2025 at 2:34 PM IST
কৃষ্ণগঞ্জ, 17 নভেম্বর: এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত বিএলও'দের অনেকের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছে, কেউ তৃণমূলের পার্টি অফিসে বসে ফর্ম বিলি করেছেন, কেউবা কোনও একটি জায়গায় বসে ফর্ম বিল করেছেন । ব্যতিক্রমী ছবি ধরা পড়ল নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের গোবিন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হুদো দিগম্বরপুর মুসলিম পাড়ায় । এখানে আইসিডিএস কর্মী অসীমা মণ্ডল বিএলওর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন । অভিযোগ, তিনি কাঁটাতারের ওপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে বসবাসকারী গ্রামে এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে পৌঁছতেই উধাও একাধিক সংখ্যালঘু পরিবার ।
ভৌগোলিক কারণে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে এই গ্রামটি অবস্থিত । গ্রামের মাঝখান দিয়ে চলে গিয়েছে সরু একটা খাল । খালের এক পাশে বাংলাদেশের পরিবারের বসবাস, আর এপারে ভারতীয় পরিবারের বসবাস ৷ দুই গ্রামের মাঝখানে কোন সীমানার বেড়া না থাকায় সহজেই দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করা সম্ভব ।
আর এই সম্ভবের জন্যই ভারতে বসবাসকারীরা খুব সহজেই বাংলাদেশি মেয়েদের বিয়ে করে ফেলে এবং দুই দেশের অবাধে যাতায়াত করতে থাকে । কিন্তু ভোটের সময় তাঁরা ভারতের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেও এবার এসআইআর-এর ফর্ম ফিলাপ করবার জন্য বিএলও তাঁদের ঠিকানায় পৌঁছলেও তাঁদের কোনও সন্ধান পাননি তিনি । যার জন্য বিএলও এসআইআর-এর ফর্মও দিয়ে পারেননি কাউকে । কারণ নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইনে বলা আছে, যদি ভোটারদের পরিবারের কোনও সদস্য না থাকে তাহলে এসআইআর-এর ফর্ম দেওয়া যাবে না । আর বিএলও ঠিক এই কাজটি করলেন । বিরোধীদের দাবি, আর এতেই ঝুলি থেকে বেরিয়ে গিয়েছে বেড়াল ।
বিএলও অসীমা মণ্ডল পুরো ঘটনার কথা স্বীকার করে নিলেও ক্যামেরার সামনে কিছু বলতে চাননি তিনি । এদিকে এই ঘটনার কথা মেনে নেন তৃণমূলের বিএলএ 2 সুকুমার বিশ্বাস স্বয়ং । তিনি বলেন, "বেশ কতোগুলি ব্যক্তি বাংলাদেশে চলে গিয়েছে যাদের 2002 ভোটার তালিকায় নাম আছে ৷ তাঁরা স্থায়ীভাবে ভারতে বসবাস করত । বিএলও অসীমা মণ্ডল তাদের বাড়ি গিয়ে ফর্ম দিয়েছে ৷ কিন্তু তারা ফর্ম ফেরত দিয়ে দিয়েছে শুনেছি ৷ বিএলওর কাজে আমরা খুব সন্তুষ্ট ৷"
আবারও সীমান্তবর্তী এলাকায় ভুতুড়ে ভোটার নিয়ে শুরু রাজনৈতিক তরজা ৷ বিজেপি এই ঘটনায় শাসকদলকেই কাঠগড়ায় তুলেছে ৷ বিজেপির জেলার নেতা অমিত প্রামাণিক বলেন, "এতদিন ধরে আমরা যেটা দাবি করে আসছিলাম সেটাই ঘটছে ৷ ভুতুড়ে ভোটারের জলজ্যান্ত প্রমাণ পাওয়া গেল হুদো দিগম্বরপুর মুসলিম পাড়ায় । শুধু আমরা নই, শাসকদলের নেতাও স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভুতুড়ে ভোটাররা বাংলাদেশে বসবাস করেন । আর এর থেকেই প্রমাণ শাসকদলের মদতেই এরা দুই দেশের নাগরিক । এর জন্য এসআইআর দরকার ছিল ৷ সত্যিটা বেরিয়ে আসছে ৷ ভুয়ো ভোটাররা তো তাই এসআইআর আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া হবেই ৷ এটাই স্বাভাবিক ৷"

পাশাপাশি তিনি বলেন, "নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন মেনে বিএলও যে তাদের ফর্ম ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন সেজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই । সমস্ত সরকারি আধিকারিকরা যদি স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেন তাহলে এসআইআর-এর ক্ষেত্রে যারা দুই দেশের নাগরিক তাদের নাম বাদ দেওয়া সম্ভব । কারণ আমরা প্রতিক্ষেত্রে দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীরা কেউ রোহিঙ্গা, কেউ সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ করে ভারতের ক্ষতি করছে, দেশের ক্ষতি করছে, সেক্ষেত্রে তারা আর এই কুকর্মগুলো করতে পারবে না ।"
যদিও ওই গ্রামের বাসিন্দা জটেরবক্স মণ্ডলকে এলাকা থেকে নাগরিকদের উধাও নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ব্যাপারটা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন । তবে তিনি এটাও বলেন, "যদি তারা বাড়িতে না থেকে বা অন্যদেশে চলে যায় তাহলে তাদের নাম বাদ দেওয়া উচিত । আমরা এসআইআরকে সমর্থন করি ৷" তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে ।

