শালিমার নয়, এবার হাওড়া থেকেই যাত্রা শুরু একাধিক দূরপাল্লার ট্রেনের
বহু দূরপাল্লার ট্রেন ধরতে যাত্রীদের শালিমার ছুটতে হত ৷ এতে সময়, অর্থ নিয়ে ভুগতে হত তাঁদের ৷ এবার সুখবর ৷

Published : January 2, 2026 at 8:55 PM IST
কলকাতা, 2 জানুয়ারি: দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল অবশেষে ৷ দূরপাল্লার ট্রেন ধরতে আর রাতবিরেতে শালিমারের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিতে হবে না যাত্রীদের ৷ দক্ষিণ-পূর্ব রেলের নতুন সময়সূচি কার্যকর হতেই বদলে গেল রুটম্যাপ ৷ করমণ্ডল থেকে ধৌলি— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের টার্মিনাল এখন সরাসরি হাওড়া ৷
রেলকর্তাদের স্পষ্ট ঘোষণা— “যাত্রীকে শালিমারে টানব না, পরিষেবাকেই হাওড়ায় নিয়ে আসছি ৷” এই বক্তব্য থেকেই শিরোনাম, এই ঘোষণাই ইঙ্গিত- রেল অবশেষে যাত্রী-স্বার্থের ভাষা বুঝেছে ৷ নতুন টাইম টেবিল 1 জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হয়েছে । পূর্ববর্তী ব্যবস্থায় চেন্নাই বা পুরীর মতো গুরুত্বপূর্ণ রুট ধরতে গেলে শালিমারই ছিল একমাত্র ভরসা ৷
শহরের একপ্রান্তে পড়ে থাকা সেই টার্মিনাল পর্যন্ত যেতে অতিরিক্ত ভাড়া, সময় ও ঝক্কি— সব মিলিয়েই সাধারণ যাত্রীর কপালে ভাঁজ ছিল স্থায়ী ৷ নতুন বছরে সেই অস্বস্তিকর অধ্যায়কে গুটিয়ে নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের বড় সিদ্ধান্ত- হাওড়াকেই বানানো হচ্ছে প্রধান নির্গমনদ্বার ৷
করমণ্ডল এক্সপ্রেস ও ধৌলি এক্সপ্রেস- দু’টি জনপ্রিয় ট্রেনই বদলাচ্ছে তাদের পুরনো ঠিকানা ৷ আগে যেগুলি শালিমার থেকে ছাড়ত, এখন সেগুলি যাত্রা করবে হাওড়া স্টেশন থেকে ৷ সময়েও সূক্ষ্ম সংশোধন আনা হয়েছে- কয়েক মিনিট এগোনো-পেছনোর মধ্যেই পরিষ্কার সংকেত, যাত্রাপথের বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলাতেই এই পুনর্বিন্যাস ৷
শুধু টার্মিনাল নয়, কিছু ট্রেনের নম্বর পর্যন্ত বদলানো হয়েছে পরিচালনাগত স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের স্বার্থে ৷
রেলের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, ট্রাফিক হ্যান্ডলিং সহজ করা ও ট্রেন অপারেশনকে আরও দ্রুতগামী করা— এই দু’টি বড় লক্ষ্য মাথায় রেখেই এই পুনর্বিন্যাস ৷ কিন্তু যাত্রীদের দৃষ্টিকোণ থেকে এর তাৎপর্য অনেক গভীর ৷
হাওড়া ভারতের অন্যতম বৃহৎ জংশন— এখানে সংযোগ, যানবাহন ও নাগালের সুবিধা বহুগুণ বেশি ৷ ট্যাক্সির অতিরিক্ত খরচ, শেষ মুহূর্তে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অনিশ্চয়তা— এসবের সঙ্গে আর লড়তে হবে না যাত্রীদের ৷ রেলমন্ত্রকের ব্যাখ্যাও তীক্ষ্ণ ও পরিস্কার— “পরিষেবা তখনই সফল যখন যাত্রী কম হাঁটে, ট্রেন বেশি চলে ৷”
এই এক বাক্যেই ধরা পড়ে সিদ্ধান্তের দর্শন ৷ যিনি দুধের শিশুকে কোলে নিয়ে পুরী যাচ্ছেন কিংবা যিনি মেডিক্যাল জরুরিতে চেন্নাইয়ের পথে— সবাইয়ের জন্য আরও সহজ দরজা খুলে দিল হাওড়া ৷ নতুন সময়সূচি ইতিমধ্যে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে ও রেলের অফিসিয়াল সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ৷ যাত্রীদের উদ্দেশে সতর্কবাণী— বইতে লেখা পুরনো সময়ে ভরসা করবেন না, ঘর থেকে বেরনোর আগে নতুন সূচি মিলিয়ে নিন ৷ এক কথায়— রেলের এই বার্তা স্পষ্ট, শালিমারকে বাঁচাতে নয়, যাত্রীকে বাঁচাতেই পাল্টাচ্ছে মানচিত্র ৷

