প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতিতে চার্জশিটে নাম, তবু আদালতে অনুপস্থিত মানিক! অসন্তুষ্ট বিচারক
দক্ষিণ ভারতে চিকিৎসার জন্য যাবেন বলে অনুমতি চেয়ে আদালতে উপস্থিত অর্পিতা মুখোপাধ্যায় ৷ আইনজীবী মারফৎ হাজিরা পার্থর ৷

Published : July 3, 2026 at 7:31 PM IST
কলকাতা, 3 জুলাই: রাজ্যের বহুল আলোচিত প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নতুন মোড় ৷ সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সর্বশেষ চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে নাম থাকা সত্ত্বেও শুক্রবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতে হাজির হলেন না প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য ৷ তাঁর অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে ৷ বিচারকও বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে জানা গিয়েছে ৷ যদিও মানিক ভট্টাচার্যের হয়ে তাঁর আইনজীবী এ দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন ৷
অন্যদিকে, একই চার্জশিটে নতুন করে অভিযুক্ত হওয়া প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সচিব রত্না চক্রবর্তী বাগচী এবং বীরভূমের নলহাটি 2 নম্বর ব্লকের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি বিভাস অধিকারী আদালতের নির্দেশ মেনে সশরীরে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন ৷ এরপর মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয় ৷
সিবিআই সূত্রের দাবি, প্রাথমিকের নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে ৷ সেই সূত্র ধরেই পর্যায়ক্রমে নতুন অভিযুক্তদের নাম চার্জশিটে যুক্ত করা হচ্ছে ৷ তদন্তকারীদের বক্তব্য, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগে যাঁদের বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলছে, তাঁদের বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে ৷
শুক্রবারের শুনানিতে আদালতে হাজিরা দেন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে 'কালীঘাটের কাকু' ৷ অন্যদিকে, রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করেন ৷ পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র এবং কুন্তল ঘোষের নাম সিবিআই-এর আগের চার্জশিটগুলিতে অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছে ৷ এ দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ও ৷ যদিও, সর্বশেষ চার্জশিটে তাঁর নাম নেই ৷ চিকিৎসার প্রয়োজনে দক্ষিণ ভারতে যাবেন বলে আদালতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তিনি ৷
উল্লেখ্য, 2025 সালের অক্টোবরে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দেয় সিবিআই ৷ তদন্তে দাবি করা হয়, নিয়ম বহির্ভূতভাবে অন্তত 350 জনকে ঘুরপথে চাকরি দেওয়া হয়েছিল ৷ এই নিয়োগ চক্রে এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছিলেন মানিক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বিভাস অধিকারী, এমনটাই সন্দেহ তদন্তকারীদের ৷
সিবিআইয়ের দাবি, বিভাস অধিকারী একসময় বেসরকারি বিএড ও ডিএলএড কলেজ সংগঠনের সভাপতি ছিলেন ৷ তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে ভুয়ো থানা পরিচালনার অভিযোগও ওঠে ৷ সেই মামলায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতারও করেছিল ৷ তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা নিজেদের আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করে বিভিন্ন নথি দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন ৷ আশ্রমে ঘুষের টাকা লেনদেন ও বস্তাভর্তি টাকা কলকাতায় পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে ৷
তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল ৷ অভিযোগ, বীরভূমের কৃষ্ণপুর এলাকার একটি আশ্রমে ঘুষের অর্থ লেনদেন হতো ৷ পরে সেই টাকা বস্তায় ভরে কলকাতায় মানিক ভট্টাচার্যের ঠিকানায় পাঠানো হতো বলে সিবিআইয়ের চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে ৷ তবে, এই সমস্ত অভিযোগ এখনও বিচারাধীন ৷

