SIR শুনানিতে লাইনে দাঁড়িয়ে হৃদরোগে যুবকের মৃত্যর অভিযোগ
মধ্যমগ্রামে SIR শুনানিতে লাইনে দাঁড়িয়ে হৃদরোগে যুবকের মৃত্যু । শুনানি-আতঙ্কেই মৃত্যু বলে দাবি পরিবারের । পাশে থাকার আশ্বাস খাদ্যমন্ত্রীর।

Published : January 8, 2026 at 8:01 PM IST
মধ্যমগ্রাম, 8 জানিয়ারি: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন অর্থাৎ এসআইআর আতঙ্কে ফের মৃত্যুর অভিযোগ। ঘটনাস্থল আবারও সেই উত্তর 24 পরগনা। এবার মধ্যমগ্রামে এসআইআর শুনানিতে লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল 38 বছরের এক ব্যক্তির ৷ মৃতের নাম রমজান আলি ৷ ঘটনাটি ঘটেছে বারাসত 2 নম্বর ব্লক বিডিও অফিসে ৷
পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিডিও অফিসে এসআইআর শুনানিতে গিয়েছিলেন রমজান। লাইনে দাঁড়ানোর সময় হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এরপর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন ৷ এসআইআর শুনানি আতঙ্কেই যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি পরিবারের লোকজনের। খবর পেয়ে এদিন বিকেলে নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার আশ্বাস স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি।

রমজান মধ্যমগ্রামের রোহন্ডা পঞ্চায়েতের চণ্ডীগড় মাঠপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পেশায় তিনি গাড়িচালক। বাড়িতে বৃদ্ধ মা ছাড়াও তাঁর স্ত্রী, দুই সন্তান রয়েছে । পরিবার সূত্রে খবর, 2002 সালের সংশোধিত ভোটার তালিকায় নাম ছিল না রমজানের। তার জেরে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের তরফে শুনানির নোটিশ পৌঁছয় রমজানের কাছে ৷ নোটিশে বলা হয়েছিল পর্যাপ্ত নথি নিয়ে তিনি যেন এসআইআর শুনানিতে আসেন। সেই মত বৃহস্পতিবার দুপুরে মা'কে নিয়ে স্থানীয় বিডিও অফিসে শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছন রমজান। অভিযোগ, লাইনে দাঁড়িয়ে সবে শুনানি কেন্দ্রে ঢুকবেন, এমন সময় বুকে ব্যথা অনুভব করতে থাকেন রমজান। তারপরই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি তাঁকে সাইবেড়িয়া গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, বাঁচানো যায়নি। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, হাসপাতালে আসার আগেই মৃত্যু হয়েছে রমজানের।
এদিকে, চোখের সামনে ছেলের এভাবে মৃত্যুর ঘটনায় কার্যত ভেঙে পড়েছেন নিহত রমজানের বৃদ্ধ মা সালমা বেগম। কান্না ভেজা গলায় তিনি বলেন,"এসআইআর শুনানি নিয়ে চিন্তায় ছিল ছেলে। এ নিয়ে সকালে কাঁদতে কাঁদতে আমার কাছে এসে ও বলেছিল কী হবে ! জিজ্ঞাসা করেছিল পর্যাপ্ত নথি দেখাতে না পারলে ও'কে ধরে নিয়ে যাবে কি না ? আমি আশ্বস্ত করেছিলাম, বলেছিলাম এত ভয় পাওয়ার কিছু নেই । যা হবে দেখা যাবে। তারপরই শুনানি কেন্দ্রে ঘটে গেল এই ঘটনা।"

প্রসঙ্গত, নতুন বছরের শুরুতেই এসআইআর আতঙ্কে স্বরূপনগর, হিঙ্গলগঞ্জ ও নৈহাটিতে পরপর তিন জনের মৃত্যুর অভিযোগ সামনে এসেছিল। সেক্ষেত্রেও অভিযোগ উঠেছিল এসআইআর শুনানিতে ডাক পাওয়ায় আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁদের। এবার শুনানির জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল মধ্যমগ্রামে ৷

