ETV Bharat / state

বিভেদের কাছে মাথা নত করেনি বাংলা, তৃণমূলের সংহতি দিবসে কড়াবার্তা মমতা'র

নাম না-করে উগ্র হিন্দুত্ববাদী শক্তি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেও তোপ দাগলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Mamata Banerjee
সংহতি দিবসে কড়া বার্তা মমতার (ফাইল ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 6, 2025 at 11:00 AM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 6 ডিসেম্বর: 1992 সালের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের স্মৃতিতে 6 ডিসেম্বর রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস প্রতি বছরই ‘সংহতি দিবস’ বা ‘সম্প্রীতি দিবস’ পালন করে। আর এদিনের শুরুতেই রাজ্যবাসীর উদ্দেশে সম্প্রীতি ও একতার জোরালো বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সকালে এক্স হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি লিখেছেন, বাংলার মাটি কখনওই বিভেদের রাজনীতির কাছে নতিস্বীকার করবে না। একই সঙ্গে, নাম না-করে উগ্র হিন্দুত্ববাদী শক্তি ও সাম্প্রদায়িকতার কারবারিদের বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন তিনি।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তার শুরুতেই বেছে নিয়েছেন ‘একতাই শক্তি’ শব্দবন্ধটি। বাংলার সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে হাতিয়ার করে তিনি লিখেছেন, “বাংলার মাটি একতার মাটি। এই মাটি রবীন্দ্রনাথের মাটি, নজরুলের মাটি, রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের মাটি— এই মাটি কখনও মাথা নত করেনি বিভেদের কাছে, আগামিদিনেও করবে না।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, 6 ডিসেম্বরের মতো সংবেদনশীল দিনে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল বা রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের নাম উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে বাংলার চিরকালীন ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে সামনে আনতে চেয়েছেন। তিনি মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন যে, এই রাজ্যের ডিএনএ-তে মিশে আছে সর্বধর্ম সমন্বয়ের আদর্শ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে বাংলার বহুত্ববাদী সমাজের ছবিও তুলে ধরেছেন। হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, জৈন, বৌদ্ধ— প্রতিটি সম্প্রদায়ের নাম উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, "বাংলায় সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে জানে।" তৃণমূল সুপ্রিমো'র বহুশ্রুত স্লোগান— “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”— ফের একবার উঠে এসেছে তাঁর এদিনের বার্তায়। তিনি লিখেছেন, “আনন্দ আমরা ভাগ করে নিই। কারণ আমরা বিশ্বাস করি ধর্ম যার যার, কিন্তু উৎসব সবার।” রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখন বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টা চলছে, তখন মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহল মহল।

তবে শুধু শান্তির বাণী শুনিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি মমতা। সম্প্রীতির বার্তার আড়ালে লুকিয়ে ছিল কড়া রাজনৈতিক হুঁশিয়ারিও। যারা ধর্মের নামে রাজনীতি করে বা সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেয়, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করেছেন তিনি। পোস্টে তিনি লেখেন, “যারা সাম্প্রদায়িকতার আগুন জ্বালিয়ে দেশকে ধ্বংস করার খেলায় মেতেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে।” কারও নাম না-করলেও তাঁর নিশানায় যে বিজেপি এবং উগ্র ডানপন্থী সংগঠনগুলি, তা সহজেই বুঝতে পারা যাচ্ছে । বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বর্ষপূর্তিতে দাঁড়িয়ে তিনি বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন, জাতীয় স্তরে বা রাজ্য স্তরে— বিভেদের রাজনীতির বিরুদ্ধে তাঁর দল আপোসহীন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।

এদিন গান্ধি মূর্তির পাদদেশে ‘সংহতি দিবস’-এর মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। সেখানে উপস্থিত থাকবেন সব ধর্মের ধর্মগুরুরাও। তার ঠিক আগেই সোশাল মিডিয়ায় এই বার্তা দিয়ে দলের কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের কাছে দিনের এজেন্ডা স্পষ্ট করে দিতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যখন ছোটখাটো ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে, তখন প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তিনি সকলকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “সকলে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন।” মুখ্যমন্ত্রীর এই পোস্ট মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়েছে এবং তা বুঝিয়ে দিয়েছে, 6 ডিসেম্বরের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান হাতিয়ার সেই ‘বাঙালি অস্মিতা’ এবং ‘সম্প্রীতির ঐতিহ্য’।