ইভিএম দখলেই ব্যস্ত, জনগণের দুর্ভোগ দেখার সময় নেই কেন্দ্রের ! বিমান বিভ্রাটে তোপ মমতার
বিকল্প না-ভেবেই কেন্দ্রীয় সরকার হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সাধারণ মানুষকে চরম খেসারত দিতে হচ্ছে বলে তোপ মমতার ৷


Published : December 8, 2025 at 2:13 PM IST
কলকাতা, 8 ডিসেম্বর: দেশজুড়ে বিমান পরিষেবা, বিশেষত ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের নজিরবিহীন উড়ান বাতিলের ঘটনায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । সোমবার কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই পরিস্থিতিকে 'বিপর্যয়' বা 'ডিজাস্টার' বলে অভিহিত করেন । মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কোনও আগাম পরিকল্পনা বা বিকল্প ব্যবস্থা না-রেখেই কেন্দ্রীয় সরকার হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে ।
এদিন কোচবিহারের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিমানবন্দরের প্রোগ্রেসিভ অ্যাসোসিয়েশন এবং কর্মী ইউনিয়নগুলির মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন যাত্রীদের চরম হয়রানির কথা । তিনি বলেন, "সারা ভারতবর্ষেই যাত্রীদের ভীষণ হয়রানি হচ্ছে । একটা প্ল্যান বা পরিষেবা হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়ার আগে ভাবা দরকার, বিকল্পটা কী দিলাম ? পাবলিকের জন্য অন্য অপশনটা কী ?"
বিমানে পাইলটদের ডিউটি আওয়ার্স এবং যাত্রীদের সুরক্ষা প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহমত পোষণ করে বলেন, "যদি কেউ এক্সট্রা চালায় বা পাইলটদের ওপর বাড়তি চাপ দেয়, তার জন্য নিশ্চয়ই সিস্টেম করা উচিত । ওভার ডিউটি তো করতে নেই, পাইলটদেরও বিশ্রামের প্রয়োজন । এটাও আমি মানি ।"
কিন্তু তাঁর প্রশ্ন নিয়ম বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে । মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই নিয়ম চালু করার আগে অন্তত 15-20 দিন সময় নেওয়া উচিত ছিল, যাতে বিমান সংস্থাগুলি বা সরকার বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবতে পারত । মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "হুট করে সব ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হল, অথচ ট্রেনেও টিকিট নেই । বিমানে যেখানে 2 ঘণ্টা লাগে, ট্রেনে সেখানে 24-36 ঘণ্টা সময় লাগছে । মানুষ যাবে কী করে ?"
পরিস্থিতি কতটা জটিল হয়েছে, তা বোঝাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী একটি সাম্প্রতিক ঘটনার উদাহরণ টানেন । তিনি জানান, গতকাল এক নবদম্পতি তাঁদের রিসেপশনে পৌঁছাতে পারেননি বিমান বাতিলের কারণে । বাধ্য হয়ে ভিডিয়ো কলের মাধ্যমেই অতিথিদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করতে হয়েছে তাঁদের । বিমান ভাড়ার আকাশছোঁয়া বৃদ্ধি নিয়েও এদিন সরব হন মমতা । তিনি বলেন, "যে রুটের ভাড়া তিন হাজার টাকা ছিল, তা এখন বেড়ে 50,000 টাকায় পৌঁছেছে । এটা সাধারণ মানুষের ওপর মানসিক অত্যাচার ।"
এই অব্যবস্থার জন্য বিজেপি সরকার এবং তাদের 'ডবল ইঞ্জিন' তত্ত্বকে কটাক্ষ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো । তাঁর অভিযোগ, "কেন্দ্রীয় সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা মেটানোর থেকে নির্বাচন, ইভিএম দখল এবং এজেন্সি লাগানোর কাজেই বেশি ব্যস্ত । তারা মানুষের পরোয়া করে না । বিদেশে ঘোরার সময় আছে, কিন্তু দেশের সমস্যা দেখার সময় নেই ।"
যাত্রীদের এই চরম ভোগান্তির জন্য বিমান সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবিও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী । তিনি জানান, "যে যাত্রীরা টিকিট কেটেও পরিষেবা পাননি, যাদের এতবড় লোকসান হল, তাদের অবশ্যই ক্ষতিপূরণ বা কম্পেনসেশন দেওয়া উচিত ।" পাশাপাশি, ন্যায়বিচারের জন্য যাত্রীরা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন ।
বর্তমানে কলকাতা-সহ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হাজার হাজার যাত্রী আটকে রয়েছেন । মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, মানুষ ক্ষুব্ধ, হতাশ এবং মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন । তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ দাবি করে বলেন, "অন্তত অর্ধেক ফ্লাইট যাতে চালানো যায়, বা পাইলটদের প্রাপ্যতা অনুযায়ী বিকল্প কোনও ব্যবস্থা করা যায়, তার পরিকল্পনা সরকারকেই করতে হবে ।"
দেশের বিমান পরিষেবার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রের 'পরিকল্পনাহীনতা'কেই দায়ী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি খারাপ থেকে অতি খারাপের দিকে যাচ্ছে এবং রাজ্য সরকার গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে ।

